স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশ যখন অর্থ সংকটে। চাকরি যখন সোনার হরিণ তখনই সরকারি কোষাগার ফাঁকা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার। এক ব্যক্তি হয়েও চাকরি করতেন দুই পদে। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ৬ মাস পার হলেও বেতন তুলতেন সহকারী প্রধান শিক্ষকের। এনিয়ে বেশ কয়েকটি পত্রিকায় ” দুই পদে বেতন তুলার অভিযোগ এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ” এমন শিরোনামে নিউজ প্রকাশ হলে আলোচনায় আসে সেই প্রধান শিক্ষক ।
এ নিয়ে জেলা, উপজেলা জুড়ে শুরু হয় আলোচনা সমালোচনা। এমনই অভিযোগ উঠে কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত আমদহ গ্রামে অবস্থিত আমদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ এলাকায় সৃষ্টি হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। নিজে নির্দোষ প্রমাণ করতে তড়িঘড়ি করে সরকারী কোষাগারে জমা দিয়ে আসেন অবৈধ ভাবে উত্তোলন করা ৬ মাসের সহকারী প্রধান শিক্ষকের বেতন ভাতা।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে নিয়ে এমন দূর্ণীতি খবরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় প্রতিষ্ঠা কর্মরত শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকতা – কর্মচারী বলেন, শিক্ষা জাতি মেরুদণ্ড। এমন প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নিয়ে আমরা লজ্জিত। প্রতিষ্ঠান প্রধানই যদি কেউ দূর্ণীতি সাথে জড়িত থাকে তাহলে এখান থেকে আমাদের শিক্ষার্থীরা কি শিখবে। তার বিরুদ্ধে উঠে অভিযোগের আমরা সুষ্ঠু বিচার করার দাবি করছি।
তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগে ফুলে ফেঁপে উঠে এলাকাবাসি। এমন শিক্ষক প্রতিষ্ঠানে থাকলে এখানে শিক্ষার মান কখনই ফিরে আসবে না বলে দাবি করেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেন, আমরা আমাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠায় ন্যায়- অন্যায় এর মধ্যে সঠিককে বেছে নিতে। কিন্তু একজন প্রতিষ্ঠান প্রধানের নামে যদি এমন অভিযোগ উঠে তাহলে আমাদের সন্তান কি শিখবে। তিনি আরও বলেন, সে যদি অবৈধ ভাবে টাকা না তুলে তাহলে সে কেন আবার ঐ টাকা আবার ফিরত দিলো? তাহলে কি তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ স্বীকার করছেন তিনি।
আমরা এলাকা বাসী চাই তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক ও দ্রুত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা হোক। তথ্য গোপন করে অবৈধ অর্থ উত্তোলনকারী এই শিক্ষকের নামে প্রতারণা মামলা হাওয়া দরকার বলে মনে করেন বিশিষ্ট জনেরা। দৌলতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল ইসলাম ঐ শিক্ষকের অবৈধভাবে উত্তলিত টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বর্তমানে বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ ওবায়দুল্লাহ বলেন, ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
