এএসপি লালনের হুকুমে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

এএসপি লালনের হুকুমে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৪

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সামাজিক দ্বন্দ্ব ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মামুন (৪০) নামে এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। একই এলাকার বাসিন্দা ও চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত আনিসুজ্জামান লালনের হুকুমে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার (২৪ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার গোস্বামী দুর্গাপুর  ইউনিয়নের আশাননগর গ্রামে এঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তারা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুন রহমান। নিহত মামুন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গোস্বামী দুর্গাপুর  ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। সে আশাননগর গ্রামের হাবিলের ছেলে।  আহতরা হলেন-একই গ্রামের মৃত মনছের মন্ডল হাবিল ও কাবিল, কাবিলের ছেলের শফিকুল ইসলাম, মনছেরের ছেলে  ইজাল। তারা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ, নিহত-আহতর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মামুন মেম্বার গ্রুপের সাথে একই গ্রামের বাসিন্দা আনিসুজ্জামান লালন গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক দ্বন্দ্ব চলছিল। আনিসুজ্জামান লালন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হিসেবে কর্মরত। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষ লালন গ্রুপের লোকজনরা হামলা করে মারপিট এবং কুপিয়ে মামুনকে হত্যা করেছে। লালনের হুকুমে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় মামুনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর জখমের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এএসপি লালনের হুকুমে ও নির্দেশনায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে মাসুদ, সিরাজ ও তাদের লোকজন। এঘটনায় আহত শরিফুল ইসলাম বলেন, পূর্ব শত্রুতা ও সামাজিক দ্বন্দ্বের জেরে কয়েকদিন ধরে আমাদের মারার জন্য চেষ্টা করছিলো লালন এএসপির লোকজন। গতকাল শনিবার সকালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তারা প্রায় শতাধিক মানুষ অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে।

আমাদেরকে মারপিট করে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এঘটনায় মামুন মেম্বার মারা গেছে। লালনের হুকুম মতো মাসুদ, সিরাজ ও তাদের লোকজন কুপিয়ে হত্যা করেছে। পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্যে মারপিট এবং কুপিয়ে আমাদেরকে আহত করেছে এবং মামুনকে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। হত্যাকারীদের সবার ফাঁসি চাই। এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামান লালন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের বাড়িতে যায়।

আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি এই ঘটনার সাথে জড়িত না। গ্রামে যাতে দ্বন্দ্ব বা মারামারি না হয় সেজন্য নানাভাবে চেষ্টা করেছি বিভিন্ন সময়। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, ইউপি সদস্য মামুনকে হাসপাতালে আনা হলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশংকাজনক। গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান লাল্টু রহমান বলেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়। দুই গ্রুপের মধ্যে সব দলের লোকজন আছে।

তিনি জানান, ওই গ্রামের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব অনেক আগে থেকেই চলছে। এরই জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় আজ আমার পরিষদের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুন রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সামাজিক দ্বন্দ্ব ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মামুন মেম্বারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের লোকজনদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।