বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে কুমারখালীর পৌর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে কুমারখালীর পৌর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৪

মোশারফ হোসেন ॥ টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কুষ্টিয়া কুমারখালীর শহরের বিভিন্ন এলাকা। শহরের তেবাড়িয়, দুর্গাপুর, কুন্ডুপাড়া, এলঙী, উপজেলা চত্বর, হাসপাতাল, কলেজ রোডসহ শহরের সড়কগুলো বেশিরভাগই পানির নিচে। এতে করে দুর্ভোগে পরেছে সাধারণ মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ আগষ্ট) সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পানিতে তলিয়ে আছে বিভিন্ন এলাকা। এতে করে যান চলাচলে তীব্র সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এমন অবস্থায় অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরেছে চরম বিপাকে। কোন কোন সড়কে ৫মিনিটের রাস্তা পেরোতে লাগছে ২০-৩০ মিনিট। অনেকে ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি পারিয়েই যাচ্ছে নিজ নিজ কর্মস্থলে। যথাযথ পরিকল্পনা ও সংস্কারের অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর এলাকা ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে হলে সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, সেই সঙ্গে আবর্জনা ফেলার পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে।

এতে দুর্ভোগে পড়েছেন পৌরবাসী। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে অতি শীঘ্রই এ সংকট দূর করা হবে। ১৮৬৯ সালে স্থাপিত কুমারখালী পৌরসভা। বর্তমানে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার মর্যাদা পেয়েছে। তবে তা কেবল নামেই। উন্নত হয়নি পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ভঙ্গুর ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সৃষ্টি হয় জনদুর্ভোগ। পৌরসভার ১,২, ৩ নম্বর ওয়ার্ড সহ সহ বিভিন্ন এলাকা সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে ডুবে যায়। মাঝারি ও ভারী বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে মানুষ।

এ অবস্থার জন্য অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করাকেই দায়ী করছে এলাকাবাসী। খুলনা বিভাগে দ্বিতীয় প্রাচীন পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় কুমারখালী পৌরসভা। পরে ২০০০ সালে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা পেলেও প্রাচীন পৌরসভাটিতে সেবার মান নিয়ে পৌরবাসী রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জনবল সংকটকে দোষালেন পৌরসভার এই কর্মকর্তা তবে অতি শীঘ্রই জলবদ্ধতা থেকে নিরসন আশ্বাস দেন তিনি।

কুমারখালী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আকরামুজ্জামান বলেন, প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস কুমারখালী পৌরসভায়। দ্রুত ড্রেনেজ সমস্যা সমাধান করে পৌরবাসীর জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করবে কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। এলঙ্গী এলাকার বাসিন্দা উল্লাস বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় চলাচল অনুপযোগী হয়ে পরে। আমরা মারাত্মক অসুবিধায় আছি।

কাজে যাওয়াতো দুরের কথা, বাসা থেকে বের হতেও সমস্যা হচ্ছে। দুর্গাপুর  এলাকার সিএনজি চালক উৎপল বলেন, পানিতে ডুবে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। রাস্তায় কোন স্থানে কাত হয়ে পরে যাই এই আতঙ্কে থাকি সবসময়ে। বৃষ্টি আর রাস্তার পানিতে যাত্রীও কমে গেছে। গাড়ি ভাড়াও উঠছে না ঠিকভাবে। কুমারখালী বাসস্ট্যান্ডে  রিকশার জন্য অপেক্ষমান এক যাত্রী বলেন, একে তো চারদিকে পানি, অপরদিকে রিকশা ভারাও চাচ্ছে প্রায় দিগুন। এমন অবস্থায় আমরা অনেকটাই জিম্মি। এই অবস্থার একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। কুমারখালী শহরের বিভিন্ন এলাকার খারাপ অবস্থা তুলে ধরে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্টও করছেন।