কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ টিউশনি করে। সেলাইয়ের কাজ করে। মানুষের কাছ থেকে তিল তিল করে নিয়ে। তিন বছর ধরে জমিয়ে ঘরডা করেছিলাম। কত অনুরোধ করেছি, আমার ঘরডা ভাঙবেন না। তবুও বড় বড় হাসুয়া দিয়ে ওরা সবকিছু ভাঙে তছনছ করে দিল। গতকাল বৃহস্পতিবার ( ৮ আগষ্ট) দুপুরে ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে কথা গুলো বলছিলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর দুই ফুট উচ্চতার শারীরিক প্রতিবন্ধি রুপালী খাতুন (২৬)।
তিনি উপজেলার সদকী ইউনিয়নের হিজলাকর গ্রামের বৃদ্ধ কাফি মোল্লার মেয়ে। তাঁর ভাষ্য, প্রায় ৬ মাস আগে একই ইউনিয়নের করাতকান্দি গ্রামের ভন্ড কবিরাজ শাপলা খাতুনের (৩০) বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সেই শত্রুতার জেরে গত মঙ্গলবার দুপুরে কবিরাজের স্বামী আতিয়ার রহমান ১৫ থেকে ২০ লোকজন নিয়ে এসে তাঁর বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এসময় ভাঙচুর করা হয় টিনসেড ঘরের বেড়া, আসবাবপত্র ও উপার্জনের উপকরণ সেলাই মেশিনটি। রুপালী খাতুন বলেন, আমি প্রতিবন্ধি মানুষ। চলমান পরিস্থিতির কারণে মাঠে পুলিশ নেই। সেনাবাহিনী নেই।
আইন-শৃঙ্খলার বাহিনী নেই। সেই সুযোগেই ওরা ভাঙচুর করে চলে গেছে। তিনি দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ চান। জানা গেছে, শুধু রুপালী খাতুন নয়, সেদিন তাঁর তিন ভাই আবু দাউদ (৪৩), মুন্নু মোল্লা (৩৪) ও চুন্নু মোল্লার (২৯) ঘরবাড়িতে ভাঙচুর, দুইটি মোটসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও একটি অটোভ্যান ও ঘরের মালামাল লুটপাট করেছে কবিরাজের লোকজন। স্থানীয়রা জানান, ভন্ড কবিরাজ শাপলা খাতুন চাল ও নগদ টাকার বিনিময়ে দীর্ঘদিন ধরে জ্বিনের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ, সংসারে অশান্তি, অবন্ধ্যাত্ব, প্যারালাইজড, পছন্দের মানুষকে এনে দেওয়াসহ বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে আসছেন।
এসব বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তবুও কবিরাজের প্রতারণা বন্ধ না হলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবন্ধি রুপালী ও তাঁর তিন ভাইয়ের ঘরবাড়িতে ভাঙচুরের চিহৃ রয়েছে। এলোমেলো ভেবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আসবাবপত্র। পড়ে আছে দুইটি পুড়া মোটরসাইকেল। এসময় চুন্নু মোল্লা বলেন, আমরা গরীব মানুষ। আমি ভ্যান চালিয়ে খাই।
গত মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ কবিরাজের স্বামী লোকজন নিয়ে এসে আমার ঘরবাড়িতে ভাঙচুর করেছে। লুটপাট করে নিয়ে গেছে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের অটোভ্যান গাড়ি, থালাবাসনসহ যাবতীয় আসবাবপত্র। রুপালীর বাবা কাফি মোল্লা বলেন, আমরা তো গরিব মানুষ। কোনো দলদাম করিনা। শুধু সাংবাদিকদের ক্যামেরায় কথা বলায় আজ আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেল। আমি এর সঠিক বিচার চাই। সরেজমিন করাতকান্দি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কবিরাজ শাপলা খাতুনের বাড়িতে তালা ঝুলছে। সুনসান নিরবতা। স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর থেকে স্বপরিবারে কবিরাজ পালিয়েছে। সেজন্য তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কুমারখালী থানার ওসি মো. আকিবুল ইসলাম জানান, চলমান পরিস্থিতিতে নানান সংকট তৈরি হয়েছে। ধীরেধীরে পরিবেশ স্বাভাবিক হচ্ছে। সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হলে সকল ঘটনায় আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
