কুষ্টিয়ায় পুলিশের গুলিতে ৮ জন নিহত - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় পুলিশের গুলিতে ৮ জন নিহত

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৪

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায়  আহত হয়েছেন শতাধিক। গতকাল সোমবার (৫ আগস্ট) বিকালের দিকে থানাপাড়ায় ও মজমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। আহতরা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়ার সমন্বয়ক তুষার আহমেদ তুহিন ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রফিকুল ইসলাম।

নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর এলাকার বাবু (৩৫), একই এলাকার আশরাফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকার লোকমানের ছেলে আবদুল্লাহ (১৬), ইউসুফ (৫০), দহকুলা এলাকার ওসামা, বাকি দুজন অজ্ঞাত (আন্দোলনকারীরা তাদের উদ্ধার)। কুষ্টিয়ার সমন্বয়ক তুষার আহমেদ তুহিন বলেন, গতকাল সোমবার (৫ আগস্ট) বিকালের দিকে  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষুব্ধরা থানা পাড়ার মোড় ও মজমপুর মোড়ে অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করে।

এ সময় আন্দোলনকারীদের পুলিশ রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস, গুলি ছুড়তে থাকে। পুলিশের গুলিতে থানাপাড়ায় ঘটনাস্থলে তিনজন মারা গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজন মারা গেছে। এ ঘটনায় দুই শতাধিক আন্দোলকারী আহত হয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেকের অবস্থা আশংকাজনক। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। 

গতকাল সোমবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনকারী ও পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। কুষ্টিয়া শহরের থানার মোড়, মজমপুর, সাদ্দাম বাজার, এনএস রোড়, ছয় রাস্তার মোড়, পাচ রাস্তার মোড় সহ বিভিন্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিকালের দিকে মজমপুর ও থানাপাড়ায় আন্দোলনকারীদের গুলি করে পুলিশ।

এতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীসহ ৮ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। এর আগে আন্দোলনকারীরা কুষ্টিয়া ট্রাফিক অফিস ভাঙচুর, জেলা আওয়ামী লীগের অফিস ভাংচুর, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করেন এবং সড়কের বিভিন্ন জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশের ধাওয়া ও রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন অলিগলিতে আশ্রয় নেন।

বিকালের দিকে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে পুলিশ লাইনসে চলে যায়। পুলিশ পিছু হটলে আন্দোলনকারীরা থানায় হামলা করে। থানা কার্যালয় ও ওসির বাসভবনে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এছাড়াও কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান ও ২৫০ শয্যা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তারা রিসিভ করেন নি।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে  নিয়ে আসলে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক। এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজন মারা গেছেন। মোট সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।