মোশারফ হোসেন ॥ কুষ্টিয়া কুমারখালীতে স্বল্প দূরত্বে চলাচলকারী যাত্রীবাহী ট্রেন এখন শাটল ট্রেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে চলাচল শুরু করেছে শাটল ট্রেন পোড়াদহ থেকে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত। আপাতত কারফিউ শিথিল থাকার সময়টাতে লোকাল ট্রেন চলাচল করবে। কারফিউ তুলে নেওয়ার পর থেকে আন্তনগর ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে জানান রেল স্টেশন কর্তৃপক্ষ।
কুমারখালী রেল স্টেশনে বসে থাকা এক ট্রেন যাত্রী মজিদের সঙ্গে কথা, তিনি বলেন প্রায় ১৫ দিন ট্রেন বন্ধ থাকায়। আমাদের চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। খুব কম টাকায় ভাংগা ও ঢাকায় যেতাম। এখন অনেক সময় লাগে বাসে যেতে’। সেই সঙ্গে খরচ অনেক বেশি হচ্ছে। তারাতাড়ি করে ট্রেন চালু করে দিক প্রধানমন্ত্রী। রেল স্টেশনের দোকানদার মতিন বলেন, আজ ১৫ দিন যাবত, আমার দোকানে তেমন বেচাকেনা নেই বললেই চলে।
ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় এমন পরিস্থিতি পোয়াতে হচ্ছে। দেশে শান্তি ফিরবে কবে! আর ট্রেন চলাচল করবে কবে সে’ আল্লাহ ভালো জানে। এই ভাবে চললে দোকান পাট বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সংঘাতের কারণে ১৮ জুলাই দুপুর থেকে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে রেল কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে। প্রায় ১৩ দিন বন্ধ থাকার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে স্বল্প দূরত্বের ট্রেনগুলোর চলাচল শুরু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রেলভবনে এক বৈঠকে স্বল্প দূরত্বের ট্রেনগুলোর চলাচল শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে রেল কর্তৃপক্ষ ছাড়াও পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সবার মতামতের ভিত্তিতেই কারফিউ শিথিলের সময়ে স্বল্প দূরত্বের ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। সূত্রটি জানায়, দুই থেকে তিন দিন পর আন্তনগর ট্রেনগুলো চালু হতে পারে।
কুমারখালী রেল স্টেশন মাস্টার শরিফুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু মাত্র একটি লোকাল শাটল ট্রেন চলাচল করছে। সকাল ১০ টায় কুমারখালী থেকে গোয়ালন্দের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ও ১২ টা ৩০ মিনিটের দিকে কুমারখালীতে ফেরত আসে। যাত্রীদের দুর্ভোগ তো আছেই। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আপাতত রেল বন্ধ আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এমন থাকবে।
