কুমারখালীতে নদীশাসনের বালুতে খালের মুখ ভরাট - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে নদীশাসনের বালুতে খালের মুখ ভরাট

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুলাই ১৫, ২০২৪

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গড়াই নদীশাসনের জন্য তোলা বালুতে ভরাট হয়ে গেছে একটি খালের মুখ। এতে জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে তিন গ্রামের দুই হাজার বিঘা ফসলি জমি। তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে অর্ধশত পুকুর।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অপরিকল্পিতভাবে গড়াই নদী শাসনের কাজ হাতে নিয়েছে। ফলে ভুগতে হচ্ছে তাদের। দ্রুত সময়ের মধ্যে খালের প্রবেশমুখ থেকে বালু অপসারণের দাবি জানান তারা।  যদুবয়রা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কোলের মাঠ থেকে গড়াই নদী পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ খালটির অবস্থান।

গত শুক্রবার বিকেলে দেখা যায়, খালের পানিতে স্রোত নেই। পানি উপচে পাশের জমিগুলোতে সদ্য রোপণ করা ধানের চারা তলিয়ে আছে। পাটক্ষেতেও হাঁটুসমান পানি। খালের মুখে প্রায় ৩০০ মিটার চওড়া বালুর স্তূপ। এলাকাবাসী জানায়, গোবিন্দপুর, এনায়েতপুর ও এতমামপুর গ্রামের প্রায় দুই হাজার বিঘা কৃষিজমির পানি ওই খাল দিয়ে ওঠানামা করে। প্রায় দুই মাস আগে গড়াই নদী শাসনের জন্য ড্রেজিং করা বালু ফেলে ওই খালের মুখ বন্ধ করে দেয় পাউবো।

ফলে পানি নদীতে যেতে পারছে না। কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বৃষ্টিতে ধান, পাট, কলাসহ বিভিন্ন ফসলের জমি প্লাবিত হয়েছে। গোবিন্দপুর গ্রামের মো. টুটুলের প্রায় ১৮ বিঘা জমি আছে খালের পাশের মাঠে। ৭ বিঘা জমিতে মঙ্গলবার তিনি আমনের চারা রোপণ করেছেন। কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে সব চারা এখন পানির নিচে। তাঁর ভাষ্য, দুই মাস আগে পাউবো কর্মকর্তারা বালু ফেলে খালের মুখটি ভরাট করেছেন। এলাকাবাসীর আপত্তি তারা কানেও তোলেননি। পানিপ্রবাহ বন্ধ হওয়ায় জমি প্লাবিত হয়েছে। অন্তত দুই হাজার বিঘা জমির ফসল ঝুঁকিতে পড়েছে। দুই সপ্তাহ পরই পাট কাটা শুরু করবেন কৃষক লিয়াকত আলী। কিন্তু তাঁর জমি হাঁটুসমান পানির তলায়।

এ কারণে পাটের মাথা লাল হয়ে মরে যাচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি অপসারণে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন। নদী শাসনের জন্য খালের মুখ ভরাট হয়ে যাওয়ার তথ্য স্বীকার করেন কুষ্টিয়া পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী (ড্রেজার) মো. জিনারুল। তবে দুই মাস হলেও সেই বালু যে সরানো হয়নি, এ তথ্য জানেন না তিনি। মো. জিনারুলের ভাষ্য, বালু সরানোর জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে তাঁর লোকদের এক্সক্যাভেটর দিয়েছিলেন। তবে এই কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথোপকথনের তথ্য অস্বীকার করেন যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, খালের মুখ বন্ধ ও জলাবদ্ধতার বিষয়টি কৃষকের কাছ থেকে জেনেছেন। এতে তারা সবাই চরম বিপাকে পড়েছেন। কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ বলেন, বালু অপসারণ করে পানিপ্রবাহ সচল করতে তিনি দ্রুতই পাউবোর সঙ্গে কথা বলবেন।