তামাক চাষে লাভবান হচ্ছে কোম্পানি-স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

তামাক চাষে লাভবান হচ্ছে কোম্পানি-স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৪

রঞ্জুউর রহমান ॥ অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম শর্ত অধিক হারে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন। আর সে অর্জনের প্রধানতম উপায় হলো রপ্তানি-বাণিজ্য সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে কিন্তু তার বিপরীতে সরকার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত পণ্য রফতানিতে আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার এবং একই সঙ্গে অপ্রক্রিয়াজাত তামাকে থাকা ১০ শতাংশ রফতানি  শুল্কও প্রত্যাহার করে শূন্য শতাংশ করার পর থেকে তামাক রফতানি বাড়তে থাকে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪ কোটি ৬৬ লাখ ২৪ হাজার ডলারের তামাক পণ্য রফতানি করা হয়। এর পর থেকে তামাক পণ্য রফতানি দ্রুত হারে বাড়তে শুরু হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫ কোটি ৬৩ লাখ ৯১ হাজার ডলার রফতানি করা হয়। পরের বছর ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৩২ হাজার ডলার, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সে হার বৃদ্ধি পেয়ে ৮ কোটি ৩ লাখ ৬২ হাজার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮ কোটি ৬২ লাখ ৩ হাজার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১০ কোটি ৭২ লাখ ২৪ হাজার ডলারের তামাক পণ্য রফতানি হয়। সর্বশেষ ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ১৬ কোটি ২৬ লাখ ৭১ হাজার ডলারের তামাক পণ্য রফতানি করে, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এখানে তামাক রফতানির সঙ্গে জড়িত।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলোকে রফতানি শুল্কও প্রত্যাহার করে শূন্য শতাংশ করা ফলে  বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো দেশে তামাক চাষের আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। বর্তমানে কুষ্টিয়াতে সব থেকে বেশি তামাক উৎপন্ন হয় গতবছর ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ১০ হাজার ৭৭১ হেক্টর জমিতে সর্বমোট ২৮ হাজার ৫৪৩ মেট্রিক টন, ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের ১০ হাজার ৯৩১ হেক্টর জমিতে ২৮ হাজার ৯৬৭ মেট্রিক টন তামাক উৎপাদন হয়।

এদিকে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানি কুষ্টিয়া মিরপুর থানা সাতবাড়িয়ার কৃষকের কাছ থেকে সুকৌশলে শত শত বিঘা জমি লিজ নিয়ে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানির এগ্রোনো ডিপার্টমেন্ট তামাকের নতুন নতুন জাত তৈরি জন্য কাজ করে যাচ্ছে এতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারংবার বলে আসছে দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা আরো বেশি অনিশ্চিত ও চ্যালেঞ্জিং করে ফেলছে।

তামাকের জমিতে অতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার করার কারণে তামাকের জমি থেকে নদী, জলাশয়ের মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতি হয়। এতে জীব-বৈচিত্র ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং মানুষের পুষ্টির যোগান বন্ধ হয়ে যায় ফলে শিশুসহ সকলে পুষ্টিহীনতায় ভোগে। অন্যদিকে তামাকের ক্ষেতে অধিক মাত্রায় কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের প্রয়োগ এবং তামাক চাষ ও বিক্রির জন্য প্রস্তুত করে তোলার প্রক্রিয়ায় কৃষক, শ্রমিক, নারী ও শিশু নানা স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। একইসঙ্গে তামাক পোড়ানোর সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে হওয়ায় শিশুদেরকেও কাজে লাগানো হয়।

এ সময় তারা স্কুলে যেতে পারে না, ফলে তারা শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এতো ক্ষতিকর ফসল হওয়া সত্বেও কেনো তামাকের রফতানি শুল্ক শূন্য শতাংশ করা হলো? এখনই যদি সরকার তামাকের উপর শূন্য শতাংশ রফতানি শুল্ক প্রত্যাহার করে তামাক রপ্তানিতে শুল্ক আরোপ করে তাহলে সরকারের যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব অর্জন করা সম্ভব তেমনি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে অর্জনে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

তবে তামাক চাষ ও ব্যবহার নিয়ে অনেক আক্ষেপ থাকলেও দেশকে তামাকমুক্ত করতে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই।

(সাফ) এর নির্বাহী পরিচালক মীর আব্দুল রাজ্জাক বলেন, তামাকে রপ্তানি শুল্কমুক্ত করায় তামাক উৎপাদনকারী এবং তামাক রপ্তানিকারীরা তামাক উৎপাদনে উৎসাহিত হচ্ছে। ফলে তামাক চাষে নদী-নালা, খাল-বিল, ফসলি জমি ও মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতিগুলো দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে আর লাভবান হচ্ছে তামাক কোম্পানিগুলোর। রপ্তানিতে শুল্ক বাদ দিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার লক্ষ্য পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে না। তাই আমরা চাই তামাকের সকল ক্ষেত্রে কর আরো বৃদ্ধি করা হোক।