কুমারখালীতে পুলিশের উপর হামলা ঘটনায় থানায় তিনজনের নামে মামলা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে পুলিশের উপর হামলা ঘটনায় থানায় তিনজনের নামে মামলা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৪

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ বসতবাড়ির জমি নিয়ে এক মামলায় বিবাদপূর্ণ স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন বিজ্ঞ আদালত। সাদা পোশাকে বাদী ও বিবাদীর বাড়িতে সেই নোটিশ নিয়ে যান পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ও এক পুলিশ সদস্য। সেখানে তাঁদের উপরে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিবাদীর বিরুদ্ধে। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামের ফকিরপাড়ায় গত শুক্রবার রাত পৌণে ৮ টার দিকে এঘটনা ঘটে।

সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান ও হামলার ঘটনায় রাতেই তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। তবে এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারিনি পুলিশ। মারধরের শিকার পুলিশের ওই এ এস আইয়ের নাম মো. নিজাম এবং পুলিশ সদস্য হলেন মো. রাশেদুল হাসান। তাঁরা পান্টি পুলিশ ক্যাম্পে কর্মরত রয়েছেন। আর অভিযুক্তরা হলেন-পান্টি ইউনিয়নের ভালুকা ফকিরপাড়া এলাকার মৃত হাসান আলীর ছেলে মো. রফিকুল আলম (৫০) ও তাঁর ছেলে মো. শাকিল (২০।

এবং শফির ছেলে ইউসুফ আলী (২৫)। ঘটনার পর থেকেই তাঁরা পলাতক রয়েছেন। গতকাল শনিবার (২৯ জুন) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপ পরিদর্শক ( এস আই) দীপংকর দেবনাথ। তিনি জানান, ১৪৪ ধারার নোটিশ দিতে গেলে বিবাদী পক্ষের লোকজন দুই পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে মারধর করেছেন। এঘটনায় তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ভালুকা ফকিরপাড়া এলাকার মো. শমসের আলীর ছেলে শাহীন আলমের সঙ্গে অভিযুক্ত রফিকুল আলমের শূণ্য দশমিক ১৭৯ একর জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এনিয়ে শাহীন কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২৬ জুন ১৪৪ ধারা জারি করেন। গত শুক্রবার রাতে এ এস আই মো. নিজাম ও পুলিশ সদস্য রাশেদুল সেই ১৪৪ ধারার নোটিশ প্রদান করতে গেলে বিবাদী রফিকুল ও তাঁর ছেলে শাকিলের সঙ্গে বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রফিকুলের স্ত্রী শাহিদা খাতুন। তিনি জানান, পুলিশ প্রথমে বাদীর বাড়িতে নোটিশ প্রদান করেন। এরপর সেখান থেকে টাকা খেয়ে এসে তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাঁর ছেলেকে লাথি মারে। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি-হাতাহাতি হয়। তাঁর ভাষ্য, তাঁরা পুলিশকে মারিনি, শুধু আত্মরক্ষা করেছেন।

হামলার শিকার এ এস আই মো. নিজাম জানান, ১৪৪ ধারার নোটিশ দিতে গেলে বিবাদী পক্ষের রফিকুল, শাকিল ও ইউনুস তাঁদের সঙ্গে অসৌহার্দপূর্ণ আচরণ করে এবং মারধর করেছে। তিনি রাতেই আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ক্রাইম অ্যান্ড অপস) পলাশ কান্তি নাথ জানান, এই ঘটনায় তাঁদের পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।