কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুরের মাদকের গডফাদার মেহেদীর মাদক ব্যবসা থামাবে কে?

আন্তর্জাতিক মাদক কারবারি একাধিক মামলার আসামী

 

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মাদক কারবারি ও চোরা কারবারিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিণত হয়েছে এ অঞ্চলটি। এ উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো দিয়ে দেশে প্রতিদিন-ই মাদক ও বিভিন্ন চোরাইকৃত মালের বড় বড় চালান পাচার হয়। আর এ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে বড় বড় রাঘববোয়ালরা। এমন-ই একজন দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের বাগোয়ান হিসনাপাড়া এলাকার মৃত মোসলেম সর্দারের ছেলে নুরুল ইসলাম আকারুল ওরফে মেহেদী হাসান (৪৫)। বর্তমানে তিনি এ জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতও রয়েছে তার। অভিযোগ রয়েছে আন্তর্জাতিক মাদক কারবারিদের সাথেও তার সংখ্যতা। একাধিক স্থানীয় কয়েকটি সূত্র জানায়, স্থানীয় বিট পুলিশিং কর্মকর্তা অপূর্ব কুমার ঘোষকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়েই মাদক ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান করেন এই ব্যবসা। তার-ই নিজ ডেরায় মেলে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা সহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য। আর সেই মাদক-ই ছড়িয়ে পড়ে কুষ্টিয়া জেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। তার মাদকের এই ব্যবসা ঢাকাও জমজমাট। এর আগে ঢাকা থেকে মেহেদীর মাদক ব্যবসায় জড়িত তার স্ত্রী মানসুরা ও মেহের নেগার নামের দুইজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয় মেহেদী, তার স্ত্রী মানসুরা ও সহযোগী মেহের নেগারের নামে। মামলা নং : ৭৫। যেখানে ১ কেজি গাঁজা ও ৬০৫ পুরিয়া হেরোইন জব্দ দেখায় পুলিশ। কিন্তু এ নিয়েও সেসময় চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। একটি বিশস্থ সূত্র জানায়, ওই অভিযানে পুলিশ মেহেদী হাসানের স্ত্রী ও সহযোগী মেহের নেগারের কাছ থেকে প্রায় ১০০ কেজি গাঁজা পেয়েছিল। মেহেদী হাসান ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে এই মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতো বলে সূত্র জানায়। ওই অভিযানের পর মেহেদী নতুন পন্থা অবলম্বন করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। এছাড়াও মেহেদী হাসান একাধিকবার মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে। একাধিক সূত্র জানায়, মাদক ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান একজন সুযোগ সন্ধানী মানুষ। রাজনৈতিক ভাবে দৌলতপুর অঞ্চলে যখন যার ক্ষমতা থাকে তখন মেহেদী হাসান তার লোক হয়ে যায়। মূলত সহজ ভাবে মাদকের কারবারের জন্যই মেহেদী হাসান এ পন্থা অবলম্বন করেন। মেহেদীর মাদক ব্যবসা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে ঘিরে। কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন খুচরা মাদক ব্যবসায়ীরা মেহেদী হাসানের থেকে মাদক ক্রয় করে থাকেন বলে জানা গেছে। এছাড়া পাশ্ববর্তী জেলাগুলোতে মেহেদীর মাদক সাপ্লাই হয়ে থাকে। প্রধানত ঢাকাতে ফেনসিডিল ও গাঁজার বড় বড় চালান সাপ্লাই দেন মেহেদী। মেহেদীর এ মাদকের ব্যবসায় সহযোগিতা করে থাকেন তার বোন চম্পা, ভাগ্নে উজ্জল ও তার এক ভাস্তে। আর কাজ প্রতি টাকা নির্ধারণে কাজ করেন ওই অঞ্চলের প্রায় ১০-১২ জন নারী ও পুরুষ। যারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেহেদীর এই মাদকের বড় বড় চালান পাচার করে থাকে। উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের বাগোয়ান হিসনাপাড়া এলাকার মায়ারাণী নামের এক নারীর বাসায় মেহেদীর মাদকের হাট বসে। কুষ্টিয়া জেলার নামী-দামী অনেক মানুষকেই মায়ারাণীর মায়ায় পড়তে দেখা গেছে। মেহেদীর বোন চম্পার থেকে মাদক নিয়ে মায়ারাণীর বাড়িতে দিনরাত এ মাদক সেবন হয়ে থাকে। এদিকে মেহেদী হাসান একজন মাদকের গডফাদার হিসেবে খ্যাতি পেলেও এ বিষয়ে নিশ্চুপ দৌলতপুর প্রশাসন। কারণ মেহেদী হাসানের মাথার উপর হাত রয়েছে দৌলতপুরের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের। সাধারণ মানুষ মনে করেন, মেহেদী হাসানদের মতো মানুষদের এসকল অপকর্ম এখনি রুখে না দিলে ভবিষ্যতে সামাজিকতা আরো অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হবে। তাই মাদকের গডফাদার মেহেদী হাসান ও তার সহযোগীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। এ বিষয়ে মথুরাপুর ইউনিয়ন বিট পুলিশিং কর্মকর্তা অপূর্ব কুমার ঘোষ বলেন, অভিযোগটি সঠিক নয়, কারো ক্ষতি করে থাকলে তারা রাগে ক্ষোভে এমন কথা বলতে পারে। তাই এই নিউজের প্রতিবেদককে তার বিষয়ে যাচাই-বাচাই করতেও দাবি জানান। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। পুলিশের কেউ জড়িত থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেল) মহসীন আল মুরাদ বলেন, যারা মাদক ব্যবসা করে তাদের সাথে কোন আপোষ নাই। মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু মেহেদী হাসান-ই নয়, অন্য যারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স।  

Tags :

Desk Reporter

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর