আমিন হাসান ॥ সাবলেট বাসা ভাড়ার নামে অসামাজিক কার্যকলাপের ইঙ্গিত। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী কুষ্টিয়াতে রয়েছে বিভিন্ন জেলার মানুষের সমাগম। এখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রয়েছে সরকারি আধা সরকারি এবং প্রতিষ্ঠানসহ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন জেলা থেকে ভিন্ন ভিন্ন মানুষ এসে এই জেলাতে করছে অস্থায়ী বসবাস। বিশেষ করে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে এসে বিভিন্ন ম্যাচ বাসা বাড়িতে ভাড়া থাকে। ছেলেদের জন্য রয়েছে ছেলেদের ম্যাচ ব্যাচেলর পয়েন্ট এদের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা ছাত্রী নিবাস। এছাড়া অনেকে ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন কিন্তু ফ্যামিলি ভাড়া দেওয়ার বাসা বাড়িতে সাধারণত কোন ছেলে ব্যাচেলর ভাড়া দেওয়া হয় না। মেয়েরা চাইলে ফ্যামিলি বাসা বাড়িতে ফ্লাট নিয়ে থাকতে পারে। সর্বোপরি বাংলাদেশ একটি ইসলামিক রাষ্ট্র যেখানে পশ্চিম দেশগুলোর মত নোংরা কালচার গ্রহণযোগ্য নয়। এদেশে একটি স্বচ্ছ সমাজ ব্যবস্থা আছে। বিশেষ করে কুষ্টিয়া জেলার মানুষ এখনো তাদের শিল্প-সংস্কৃতি ও সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা অনুসরণ অনুকরণ করে থাকেন। এই সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা ও পরিবেশকে অনেকটাই কলঙ্কিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বহিরাগতদের এক বিশাল অংশ। তাদের বেশিরভাগই ছাত্রছাত্রী। পার্কে রিকশায় বিভিন্ন বাসা বাড়িতে খোঁজ নিলে দেখা মেলে তার ভয়ানক চিত্র। এমনই এক ঘটনার দেখা মিলে চৌরাস ফুলতলার এক বাসা বাড়িতে। কুষ্টিয়া বাসা বাড়ি ভাড়া দেওয়ার পেজে দেখা যায় ক্লারা হাসান নামের আইডি থেকে পোস্ট করেছে সাবলেট ভাড়া দেওয়া হবে ফ্যামিলি বাসায়। একটি ছেলে অথবা একটি মেয়ে। ড্রয়িং স্পেসে বারান্দার সুবিধা সহ। লোকেশন ফুলতলা মোড় চৌড়হাস আমেনা মঞ্জিল বা ডাক্তার বাড়ি। বিষয়টি একজন গণমাধ্যম কর্মীর দৃষ্টি বছর হয়। একটি ফ্যামিলির বাসায় কি করে একজন ব্যাচেলর ছেলেকে সাবলেট দেওয়া হয়? মেয়েটির মেসেঞ্জার আইডিতে বাসা ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি লেখেন যে এখানে তার মা এবং তিনি থাকেন এবং বাকি দুইটা রুমে আরো দুইজন ব্যাচেলর ছেলে থাকেন। এবং তিনি ড্রয়িং স্পেসে আরো একজন ব্যাচেলর ছেলেকে ভাড়া দিতে চায়। এবং তিনি যোগাযোগের জন্য একটি নাম্বার দেয়, মতলবটা কি? উক্ত বাসা বাড়িতে যোগাযোগ করলে বাসার মালিক জানান পঞ্চম তলাতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া হবে ভাড়া ১০ হাজার টাকা। বাসার মালিককে সাবলেট এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান এ বিষয়ে তিনি অন অবগত। মেয়েটির দেওয়া নাম্বারে যোগাযোগ করলে একটি ছেলে ফোন ধরে এবং তিনি বলেন যে পঞ্চম তলাতে আসেন কথা বলব। বাসার পাহাড়াদারকে দিয়ে দেখার জন্য খুলে দুইজন গণমাধ্যম কর্মীকে সুযোগ করে দেয় এবং তিনিসহ লিফটে চড়ে ফ্লাট দেখানোর উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। পঞ্চম তলাতে পৌঁছানোর সাথে সাথে দেখা যায় বাসা থেকে চার পাঁচ জন ছেলে এবং কেউ উপরের দিকে দৌড় দেয়। এবার ওই মেয়েটির ফ্ল্যাটে দেখা যায় মেয়েটি এবং একটি ছেলে একই রুমের মধ্যে রয়েছে। ছেলেটিকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে মেয়েটি আপনার কি হয় ছেলেটি বলে আমার আপন খালাতো বোন। একই প্রশ্ন মেয়েটিকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসা করলে মেয়েটি বলে ছেলেটি আমার বন্ধু। একই প্রশ্ন মেয়ের মা জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দেন ছেলেটি আমার দূর সম্পর্কের ভাগিনা। এবং ছেলেটিকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় তার বাড়ি কোথায় তিনি উত্তর দেয় মোহাম্মদপুর এবং মেয়েটিকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় তার বাড়ি কোথায় তিনি উত্তর দেন মোহাম্মদপুর যখন তাদের আইডি কার্ড দেখতে চাওয়া হয় তখন এনআইডি কার্ডে দেখা যায় মেয়েটির বাড়ি ঢাকা মিরপুর। মেয়েটির মায়ের এনআইডি কার্ডে ঢাকা মিরপুরের ঠিকানা দেওয়া কিন্তু তা ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে। মেয়েটির বাবার বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়েটির মা গণমাধ্যম কর্মীকে পরবর্তী সময়ে আপনাকে তার বাবার বিষয় এবং পরিচয় সম্পর্কে জানানো হবে এবং যোগাযোগের নাম্বার দেওয়া হবে তার সাথে কথা বলে। পরবর্তীতে পরিচয় পত্র নাম্বার না দিয়ে বাসা মালিককে ভুলভাল বুঝিয়ে ফোন করিয়ে সাংবাদিকের কাজে বাধা প্রদান করার চেষ্টা করেন ও জোরপূর্বক ভাবে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কৌশলে সংবাদ না প্রকাশ করার ইঙ্গিত দেন। এমনকি বাসা মালিক সঠিকভাবে বলতেও পারেন না ওই ফ্ল্যাটে কয়জন থাকে এমনকি কোন পরিচয় পত্র বাসা মালিক জমা নেইনি যা নিয়ম বহির্ভূত।
