অস্বাস্থ্যকর-নোংরা পরিবেশে কেমিক্যাল মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে আইসক্রিম
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সামনে অবস্থিত নিউ রুচি আইসক্রিম কারখানা। কারখানায় অস্বাস্থ্যকর,নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে নিম্নমানের রং ও কেমিক্যাল মিশিয়ে প্রতিনিয়তই তৈরি করা হচ্ছে আইসক্রিম। এসব আইসক্রিম খেয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

অস্বাস্থ্যকর-নোংরা পরিবেশে কেমিক্যাল মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে আইসক্রিম
এই কারখানায় যে সব উপাদান দিয়ে আইসক্রিমে ব্যবহার করা হয় তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের অস্থিমজ্জার ক্ষতি হতে পারে। এ থেকে ব্লাড ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের ক্ষতি হতে পারে। শিশুদের মানসিক বিকাশে এ ধরনের রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে ব্যাপক। আইসক্রিমগুলোর যে রঙ তা হাতে লাগলে সহজে উঠতে চায় না।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সামনে আইসক্রিম কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, অত্যন্ত স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে নোংরা পানি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে আইসক্রিম। আকর্ষণীয় করতে মেশানো হচ্ছে কাপড়ের রং। চিনির পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকর ঘনচিনি, আম ও লিচুর স্বাদের জন্য কেমিক্যাল এবং গরুর দুধের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে ভেজাল গুঁড়াদুধ। অপরিচ্ছন্ন বালতিতে খালি হাতেই মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকারক সব উপকরণ।
অস্বাস্থ্যকর এসব আইসক্রিম বাহারি সব মোড়কে সরবরাহ করা হচ্ছে জেলার বিভিন্ন দোকানে। প্রচণ্ড দাবদাহে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য শিশুদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ এই আইসক্রিম মুখে দেয়। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে তারা।
আইসক্রিমে অস্বাস্থ্যকর উপাদান ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন নিউ রুচি আইসক্রিম কারখানার মালিক ও শ্রমিকরা। তবে তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি।

অস্বাস্থ্যকর এসব আইসক্রিমের ব্যাপারে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব) কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাফিজ আহমেদ খান টিটু বলেন, কুষ্টিয়ার বেশিরভাগ আইসক্রিম কারখানাগুলোতে অনেক সময় চিনির পরিবর্তে ঘনচিনি বা সোডিয়াম সাইক্লোমেট ব্যবহার করা হয়ে থাকে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ঘনচিনি খাওয়ার ফলে মানুষের দৃষ্টিহীনতা ও নিদ্রাহীনতা দেখা দেয়। বমিবমি ভাব হয়, মেজাজ খিটমিটে হয়ে যায়। এ ছাড়া অনেক সময় তারা আইসক্রিমে রং ব্যবহার করে থাকে। এই রং মানুষের লিভার সিরোসিস ও কিডনি ডিজিজের জন্য দায়ী। এ ছাড়া দীর্ঘসময় এ রং খেতে থাকলে ক্যান্সার হয়ে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে নিউ রুসি আইসক্রিম কারখানার মালিকের সাথে কথা বলার জন্য ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৭ই মে এই নিউ রুচি আইসবারকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিএসটিআই অনুমোদনবিহীন আইসক্রিম তৈরি, প্যাকেটের ওপর মিথ্যা বিজ্ঞাপন দ্বারা প্রতারণা করার অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় ৫০ হাজার এবং ৪৪ ধারায় ৫০ হাজার করে সর্বমোট এক লাখ টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছিল । এছাড়াও বিপুল পরিমাণ আইসক্রিম ধ্বংস করা হয়েছিল।
