রঞ্জুউর রহমান ॥ ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া-পাকশী-দাশুরিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) আঞ্চলিক জাতীয় মহাসড়ক (এন-৭০৪)। গত চার বছর ধরে প্রায় ১১.৮০ কিলোমিটার সড়কের কাজ চলমান। ঠিকমত কাজ শেষ না হাওয়ায় ঐ মহাসড়ক ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে সব সময়। যার ফলে বাধ্য হয়েই ধুলায় আচ্ছন্ন মহাসড়কে বাধ্য হয়েই চলছে যাত্রীবাহী যানবাহন ও পথচারীরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। ধুলাবালি রোধে সময় মত পানিও দিচ্ছেন না সড়ক ও জনপথ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। ধূলাবালিতে পরিপূর্ণ ১২ কিলোমিটার মহাসড়ক এখন গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে। যে কোন উপয়ে এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাল এলাকার সর্ব শ্রেণীর মানুষ। রাস্তার কাজের সিডিউল অনুযায়ী, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া-পাকশী-দাশুরিয়া জাতীয় মহাসড়ক (এন-৭০৪) এর কুষ্টিয়া শহরাংশ ৪-লেনে উন্নীতকরণসহ অবশিষ্টাংশ যথাযথমানে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ৫১+০০০ হতে ৬২+৮০০ পর্যন্ত বাজার অংশসমূহে প্রশস্তকরণ, পুনঃনির্মাণ, ডিবিএস বেসকোর্স, ওয়ারিং কোর্স, হার্ডসোল্ডার নির্মাণ, পার্শ্বসড়ক উন্নয়ন, ইউ ড্রেন, বাস বে, রোড ডিভাইডার, মেডিয়ান ফুটপাথ নির্মাণ, রোড ডিভাইডার নির্মাণ কাজ। প্রকল্পের প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছিলো প্রায় ১’শ ৪৭ কোটি টাকা এবং প্রকল্পের মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৪ ইং পর্যন্ত। এদিকে ৩০ জুন প্রকল্পের কাজ শেষ হাওয়ার কথা থাকলেও কাজের অগ্রগতি দেখে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় জন সাধরণ। তাদের দাবী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। অন্যথায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে রাস্তার ধূলা রোধ করে সাধারণ মানুষের দৈনিন্দন কাজ কর্ম স্বাভাবিক রাখতে হবে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়ক প্রশস্তকরণে ধুলায় ঢাকা পড়েছে জনগুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এই জনপদ। এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে মানুষ, ঢাকা, রাজশাহী পাবনা, খুলনা যশোর, চুয়াডাঙ্গা ঝিনাইদহসহ দেশের সব প্রান্তের যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক, সিএনজিচালিত এবং অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। কিন্তু বর্তমানে ধুলাবালিতে পরিপূর্ণ হয়ে পড়েছে নির্মানাধীন এই সড়ক। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে দিনের বেলাও হেডলাইট জ্বালিয়ে চালাতে হচ্ছে যানবাহন। এছাড়াও প্রতিদিন এই মহাসড়কে রাতের বেলায় শত শত ট্রাক-ড্রাম ট্রাক চলাচল করে। যার ফলে সড়ক এবং আশে পাশের এলাকায় সব সময়ই কুয়াশার মতো ধূলা উড়তে দেখা যায়। অথচ এই মহাসড়কের পাশেই নওদা খাদিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, দোকানপাট ও বাসাবাড়িতে পড়ে গেছে ধুলার আস্তর। ছোট ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার রাস্তাও হয়ে গেছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ধুলার কারণে দোকানের জিনিসপত্র, কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাড়তি ধুলার কারণে ঐ এলাকার মানুষের বেড়ে গেছে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। দূষিত পরিবেশে বাড়ছে রোগব্যাধি। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি, কাশিসহ শ্বাসপ্রশ্বাসের রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। এতে হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। নওদা খাদিমপুরের বাসিন্দা গ্রামের বাসিন্দা মামুন বিশ্বাস বলেন, যানবাহনগুলো যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধুলোয় অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে এলাকা। এমনকি দোকানের মধ্যে ও বাসাবাড়িও ধুলায় ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। নয় মাইল কাচারির এলাকার বাসিন্দা আবদুলা বলেন, ‘রাস্তা প্রশস্ত ও উন্নয়নের কাজ চলছে। একটু সমস্যা হবে সেটা আমরা জানি। কিন্তু ধুলাবালি রোধে প্রতিদিন পানি দিতে হবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা সড়ক বিভাগকে। কিন্তু তারা তা করছে না। ভ্যানচালক চান মিয়া বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই রাস্তার এই অবস্থা। আমরা ভ্যান চালকরা সবচেয়ে বেশি বিপদে আছি। ৮ মাইল বাজারের বাজারের ব্যবসায়ী রুহুল আমিন বকুল বলেন, ‘রাস্তা সংস্কারের জন্য যে পরিমান ধুলা হয়, সেটা বন্ধ করতে হলে দিনে কমপক্ষে তিন-চারবার পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাফিলতির কারণে এমন দুরবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স প্রজেক্ট ম্যানেজার মোঃ রাহাত হোসেন বলেন, কিছুদিন ধরে সূর্যের তাপ অত্যাধিক হওয়ার কারণে রাস্তায় পানির দিলে তা শুকিয়ে যাচ্ছে। আজ থেকে প্রতিনিয়ত পানির গাড়ি যাবে আশা করি। রাস্তায় এখন থেকে আর ধুলাবালি হবে না। এ বিষয় উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী,সওজ, সড়ক উপ-বিভাগ কুষ্টিয়া লিটন আহমেদ খান বলেন রাস্তায় ধুলাবালি রোধ করতে নিয়মিত পানি ছিটানোর নির্দেশনা রয়েছে।
