পবিত্র মাহে রমজান কে সামনে রেখে কুমারখালতে মুড়ি কারখানায় ব্যস্ততা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

পবিত্র মাহে রমজান কে সামনে রেখে কুমারখালতে মুড়ি কারখানায় ব্যস্ততা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ১০, ২০২৪

মোশারফ হোসেন ॥ প্রতি বছর রমজান মাসের ইফতারিতে মুড়ির যেন বিকল্প নেই। সারা বছর কমবেশি চাহিদা থাকলেও এ মাসে মুড়ির চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণ।  চাহিদা মতো মুড়ি সরবরাহ করতে মুড়ি উৎপাদনকারীদের ব্যস্ততাও অনেক বেড়ে যায়। কুষ্টিয়া কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস  এলাকায় রয়েছে একটি মুড়ি কারখানা। এখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকে মুড়ি ভাজতে আসা মানুষ গুলো। এখানকার উৎপাদিত মুড়ির কদর দিন দিন বেড়েই চলেছে। এখানকার মুড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ সমাদৃত। বিশেষ করে কুমারখালী উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের শ’ শ’ পরিবার এই মুড়ি কারখানাটির  ওপর নির্ভরশীল। তবে নানা সীমাবদ্ধতায় বর্তমানে লোকসানের মুখে রয়েছেন তারা। কেউ কেউ এই পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন অন্য পেশায়। জানা যায়, এই এলাকায় দু’ভাবে মুড়ি তৈরি করা হয়। হাতে ভেজে ও মেশিনের সাহায্যে। মেশিনে তৈরি মুড়ির চেয়ে হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা একটু বেশি। মেশিনের মুড়ি সাদা ও লম্বা করতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ইউরিয়া অথবা সোডা ব্যবহারের অভিযোগ থাকায় এক শ্রেণীর মানুষ সর্বদাই হাতে ভাজা বিশুদ্ধ মুড়ি খেয়ে থাকেন। দামেও রয়েছে পার্থক্য। বর্তমানে মেশিনে তৈরী মুড়ির পাইকারি দাম যেখানে প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকা, সেখানে হাতে ভাজা মুড়ির দাম ৯০-৯৫ টাকা। মুড়ি উৎপানকারীরা জানান, কুমারখালী উপজেলার  বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে মুড়ি ভাজতে আসে।  মিলে মেশিনের সাহায্যে মুড়ি ভাজা হয়। এছাড়া মেশিনে প্রতি ঘণ্টায় উৎপাদন ৩০ থেকে  ৪০ কেজি মুড়ি ভাজা হয়। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ মণ মুড়ি ভাজা হয় এই কারখানাটিত এখানে ৪ জন শ্রমিক রাত দিন ধরে মুড়ি ভাজতে কাজ করে থাকে। মুড়ি কারখানাটির পরিচালক চায়না খাতুন বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে এই মুড়ি ভাজা ও ব্যবসার সাথে জড়িত। মুড়ি ভেজেই আমাদের সংসার চলে। তবে কাজটি খুব কষ্টের। কারণ সারা দিনই আগুনের কাছে থাকতে হয়। এখান কার মুড়ি ভাজতে লবণ ও পানি ছাড়া কিছুই দেওয়া হয় না। এই জন্য এখানে  মুড়ি ভাজতে মানুষের ভীড় হয় বেশি। বিষের করে, রমজান মাস উপলক্ষে একটু ব্যস্ততা বেড়ে যায়। মুড়ি ভাজতে আসা আশিক নামে এক জন বলেন, ‘এখানকার মুড়ি মজাদার। তাছাড়া এখানের মুড়ি ভাজা ভালো হয়। তিনি আরো বলেন, মুড়ি ভাজতে এসে দীর্ঘ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছি , দুই দিন পর এসে নিয়ে যাবো। গরম টাটকা মুড়ি খাওয়ার জন্য এতো কষ্ট করছি, তাই সব সময় এখান থেকেই মুড়ি ভেজে নিয়ে যায়।’অন্যদিকে হাতে ভাজা মুড়ি উৎপাদনকারীরা জানান, প্রযুক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে তারা এই পেশায় যেন টিকতেই পারছেন না। এজন্য অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন। ঐতিহ্যবাহী এ পেশাকে টিকিয়ে রাখতে তারা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।