কুমারখালীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে সনদ বিক্রির অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে সনদ বিক্রির অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ৭, ২০২৪

কুমারখালী প্রতিনিধি \\ কুষ্টিয়া কুমারখালীতে বুজরুক বাঁকই  মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে বয়স ও নামের আংশিক পরিবর্তন করে জাল সনদ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বুজরুক বাঁকই  মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোনায়েম খানকে শোকজ করেছেন বিদ্যালয়ের সভাপতি। লিখিত অভিযোগ ও শোকজ নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, মোঃ  জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে দুলু নামের এক শিক্ষার্থী ২০১২ সালে বুজরুক বাঁখই মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হন। পরে চাকরির প্রয়োজনে তাঁর একটি সার্টিফিকেটের দরকার হলে তিনি প্রধান শিক্ষক মোঃ মোনায়েম খানের কাছে যান। সে সময় প্রধান শিক্ষক ৫২ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে বয়স ও নামের আংশিক পরিবর্তন করে ২০০৯ সালে দুলুকে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ দেখিয়ে একটি সার্টিফিকেট তৈরি করে দেন। সার্টিফিকেটটি ২০১৪ সালের ৬ ফেব্র“য়ারি ইস্যু করা হয়। তবে জাল সার্টিফিকেটটি দুলুর প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হলে স¤প্রতি তিনি প্রধান শিক্ষককে অর্থ ফেরত দিতে বলেন। প্রধান শিক্ষক অর্থ ফেরত না দেওয়ায় গত ২৭ ফেব্র“য়ারি বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতির কাছে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার প্রধান শিক্ষককে শোকজ করেন সভাপতি মোঃ ফজলুর রহমান। অভিযোগকারী জাহাঙ্গীর হোসেনের ভাষ্য, তিনি ২০১২ সালে জেএসসির ইংরেজি পরীক্ষায় ফেল করেন। ২০১৪ সালে একটি চাকরির প্রয়োজনে অষ্টম শ্রেণি পাসের সার্টিফিকেট দরকার হলে তিনি মোনায়েম খানের কাছে যান। সার্টিফিকেট প্রদানের বিনিময়ে প্রধান শিক্ষক প্রথমে এক লাখ টাকা দাবি করেন। পরে দরকষাকষি করে ৫২ হাজার টাকা দিয়ে তিনি অষ্টম শ্রেণি পাসের একটি সার্টিফিকেট নেন। বর্তমানে জাল সার্টিফিকেটটি তাঁর কোনো কাজে লাগছে না। সে জন্য টাকা ফেরত চেয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করেছেন। বুজরুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোনায়েম খানের ব্যক্তিগত নম্বরে কল দেওয়া হলে তিনি জানান, ব্যক্তিগত কাজে বাইরে আছেন তিনি। অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ ফজলুর রহমান বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষককে গত মঙ্গলবার (৫ মার্চ) শোকজ করা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে নোটিশের উপযুক্ত জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী এজাজ কায়সার জানান, এই বিষয়টি শুনেছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।