কুমারখালী প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিশ্বাস ফাউন্ডেশনে গত এক দশকে শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে প্রতারনার স্বীকার হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিনিয়োগকারীরা।
সোমবার সকালে উপজেলার প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্যবে গ্রাহকরা দ্রæত বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আনিচকে আইনের আওতায় এনে গ্রাহদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবী জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম বিশ্বাসের ছেলে আনিসুর রহমান বিশ্বাস ও তার ভাই আবু সাইদ বিশ্বাস সঞ্চয় ঋণদান সমবায়সমিতি লিমিটেড নামে এনজিও চালু করেন। বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা দেবার আশ্বাসে সমিতির সদস্য সংগ্রহ শুরু করেন এবং এনজিওর সদস্যরা লাখে ১৫ শত থেকে ২ হাজার টাকা মাসিক লভ্যাংশের আশায় লাখ লাখ টাকা লগ্নি করতে থাকেন বিশ্বাস ফাউন্ডেশনে। পরবর্তীতে দেখা যায় গ্রাহকের টাকা নিয়ে গ্রামে পরিপাটি করে বাড়িঘর নির্মাণ ছাড়াও কুষ্টিয়া – ৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহাবুব উল আলম হানিফ এর বাড়ি সংলগ্ন ৭ তলা ভবন ছাড়াও ৪ শতাংশ জমি ক্রয়, কুমারখালী কাজীপাড়া মেইন রোডের সাথে ১৯ শতাংশ মুল্যবান জমি ক্রয় ও ঢাকা বিভিন্ন এলাকায় ৩/৪ টি ফ্ল্যাট কিনে বিলাসী জীবন যাপন করতে থাকেন আনিসুর রহমান ও তার ভাই। সদস্যরা বিষয়টি অনুমান করতে পেরে তাদের লগ্নিকৃত টাকা ফেরত চাইলে শুরু হয় নানা টাল বাহানা। একাধিকবার সময় দিয়েও টাকা ফেরত না দিলে সদস্যদের চাপে আলাউদ্দিন নগরের বিশ্বাস ফাউন্ডেশন এর মুল অফিসসহ প্রায় সব শাখাতে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায় এনজিও কর্তৃপক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কাজলী খাতুন জানান, আমার মেয়ে ও জামায়ের ১৫ লক্ষ টাকা বিশ্বাস ফাউন্ডেশনে রেখেছিলাম কিন্তু এখন আর টাকা দিচ্ছে না, আমার স্বামী আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। সেসময় তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমানকে আইনের আওতায় আনা হোক। এছাড়াও ভুক্তভোগী লিয়াকত বিশ্বাস জানান, আমার ছেলেকে প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা প্রথমে বিনিয়োগ করায়,পরবর্তীতে আমি নিজে জমি বিক্রি করে বিশ্বাস ফাউন্ডেশনে প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা রেখেছিলাম। বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে রয়েছে। লোকমুখে শুনতে পায় সে তার সম্পত্তি বিক্রি করে বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। জানাগেছে, সারাদেশের ১২ টি জেলায় বিভিন্ন নামে ৬৪ টি এনজিওর শাখা তৈরি করা হয়। ৬৪ টি শাখায় ১৫৩ জন কর্মী নিয়োগ দেয়া হয় এবং কর্মচারিদের নিকট থেকে একাধিক ফাঁকা চেক ও ষ্ট্যাম্প নেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার কথা বলে। এসব কর্মীদের দিয়ে তাদের আতœীয় স্বজনদের বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা বিশ্বাস ফাউন্ডেশনে লগ্নি করানো হয়। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বিশ্বাস ও তার ভাই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবু সাঈদ বিশ্বাস দু’জনের ২ টি প্রাইভেট কার ছাড়াও অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য আরো তিনটি প্রাইভেট কার কেনা হয়। কুমারখালী সহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় মোট ৬ টি টিভি ফ্রিজ ও নিত্য ব্যবহারের শোরুম চালু করা হয়। এবং এসব শোরুমে মালামাল পরিবহনের জন্য দুটি কাভার্ড ভ্যান কেনা হয়। গ্রামে পরিপাটি করে বাড়িঘর নির্মাণ ছাড়াও কুষ্টিয়া – ৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহাবুব উল আলম হানিফ এর বাড়ি সংলগ্ন ৭ তলা ভবন ছাড়াও ৪ শতাংশ জমি ক্রয়, কুমারখালী কাজীপাড়া মেইন রোডের সাথে ১৯ শতাংশ মুল্যবান জমি ক্রয় ও ঢাকা বিভিন্ন এলাকায় ৩/৪ টি ফ্ল্যাট কিনে বিলাসী জীবন যাপন করতে থাকেন আনিসুর রহমান ও তার ভাই। ২০২২ সালে সারা বাংলাদেশে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্য মালঞ্চ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ নামের এমআরএ সনদ ৪৫ লাখ টাকায় ক্রয় করেন।২০২৩ সালের শুরুতেই ধ্বস নামে বিশ্বাস ফাউন্ডেশনের।
