গত শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় পদ্মা নদীর চরের চারটি জায়গা থেকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পূর্ব বাহিরমাদি গ্রামের মওলা বক্স সরদারের ছেলে মিলন হোসেন (২৭) নামের এক যুবকের মরদেহের ৯টি টুকরা উদ্ধার করে পুলিশ। ঐ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। তবে মামলায় কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।

মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মিলনের মা শেফালী খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এই ঘটনায় এই পর্যন্ত মোট ৬ জনকে আটক করছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাতি ও আলোচিত কিশোর গ্যাং নেতা এসকে সজিব, ইফতি, জনি, লিংকন, সজল ও ফয়সাল। কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) সাজু মহন সাহা এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আটককৃতদের যাচাই বাছাই চলছে। তারপর গ্রেপ্তার দেখানো হবে। রাতের অভিযানে আটকদের নাম এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে আমাদের অভিযান চলছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় লাশ দাফনের পর পরিবারের কয়েকজন সদস্য থানায় যান। থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত মিলন হোসেনের মা শেফালি খাতুন। এ সময় মিলনের স্ত্রী মিমি খাতুন, দুলাভাই আশরাফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) মামলার বিষয়ে কথা বলতে বাদী শেফালির মোবাইল নাম্বারে কল করলে তার মেয়ে শিরিনা রিসিভ করেন। তিনি বলেন, আমরা থানায় গিয়ে মামলাটি করেছি। পুলিশের কম্পিউটারে টাইপ হয়েছে। তারা কেমন লিখেছে আমরা জানি না। বাদীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে শিরিনা বলেন, পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানাবেন। গতকাল শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পদ্মার চরে অভিযান চালিয়ে মিলন হোসেনের মরদেহের টুকরাগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। মিলন হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বাহিরমাদি গ্রামের মাওলা বক্স সরদারের ছেলে। তিনি স্ত্রী মিমি খাতুনকে নিয়ে কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং ই ব্লকে ভাড়া বাসায় থাকতেন। টেক্সটাইল প্রকৌশলে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি অনলাইনে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করতেন। বুধবার সকালে এস কে সজিব নামের এক যুবকের ফোন পেয়ে তিনি শহরের ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। ওই সন্ধ্যায় মিলনের স্ত্রী কুষ্টিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, এটি ক্লুলেস মামলা, সেই হিসেবে বাদী এমন এজাহার করেছেন। কিন্তু আমরা হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করেছি, জড়িতদের সনাক্ত করেছি। এরমধ্যে ৬ জনকে আটক করে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। রোববার দুপুরের পর তাদের কুষ্টিয়া আদালতে উপস্থাপন করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পলাশ কান্তি বলেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই মামলার তদন্ত করছি। তদন্তে মিলনের আউটসোর্সিং ব্যবসার টাকাপয়সার লেনদেন, হত্যায় অভিযুক্ত সজীবের চাঁদা দাবি এবং মিলনের কোনো প্রতারণামূলক কাজের কারণে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে কিনা এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা সবাই একে-অপরের পরিচিত। মিলন বাড়ি থেকে অনলাইনে কাজ করতেন। নিখোঁজের দিন তাঁকে মুঠোফোনে ডেকে হাউজিং এলাকার একটি বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। ওই রাতে তাঁকে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ গুম করার জন্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে টুকরা টুকরা করা হয়। চারটি মোটরসাইকেলে সাতজন সাতটি পলিথিন ব্যাগের ভেতর লাশের ৯ টুকরা অংশ নিয়ে বের হন। নদীর পাড় থেকে হেঁটে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে পদ্মার মধ্যে বালুর ভেতর চারটি স্থানে লাশের টুকরাগুলো পুঁতে রাখে তারা। এই পুরো হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এস কে সজীব। এদিকে রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫ টায় গ্রেফতারকৃত ৬ জনকে কুষ্টিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহমুদা সুলতানার এজলাসে তাদের হাজির করা হয়।
