নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ছোটপরিসরের একটি পাঁচতলা ভবনে একজন সরকারি কর্মচারী একই সঙ্গে অবৈধভাবে তিনটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। লোটাস ডায়গনস্টিক সেন্টার, লোটাস পঙ্গু হাসপাতাল ও লোটাস হাসপাতাল নামের এই তিন প্রতিষ্ঠানে চলছে রমরমা ব্যবসা।

রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র প্রদান বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি গোপনে এখানে রোগীদের অপারেশন করা হয়। শুধু সাধারণ অপারেশন নয় স্পর্শকাতর চোখের অপারেশনও হয় এখানে। কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশেই বেশ কিছুদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা। এসব প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুমোদন তো নেই-ই। পাশাপাশি অন্য কোন সরকারী নীতিমালাও মানা হয় না এখানে । যেসব বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর অপারেশন করা হয় সেসব হাসপাতালে ২৪ ঘন্টা একজন চিকিৎসক থাকার নিয়ম রয়েছে। এসব হাসপাতালে প্রশস্থ সিঁড়ির ব্যবস্থা থাকতে হয়। এছাড়া এসব চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান যদি বহুতল ভবনে হয়, তাহলে লিফটের ব্যবস্থাও থাকতে হয়। কিন্তু আলোচিত লোটাস হাসপাতালে এর কোনোটিই নেই। নেই কোন প্রশিক্ষিত নার্স ও প্যাথলজিস্ট। এছাড়া যে অপারেশন থিয়েটারের সাধারণ রোগীদের অপারেশন করা হয় সেই থিয়েটারে চোখের অপারেশন করার সুযোগ নেই। কিন্তু এই নীতিমালা ভেঙে সাধারণ রোগীর সঙ্গে সেখানে চোখের রোগীদের অপারেশনও করা হয়। এরপরও অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এই কথিত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী প্রসেনজিৎ কুমার বিশ্বাস স্বাস্থ্য বিভাগের একজন সরকারি কর্মচারী। তিনি অফিসে না গিয়ে নিয়মিত তার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাজকর্ম দেখভাল করেন। অভিযোগ রয়েছে, কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার এবং ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসককে ম্যানেজ করে প্রসেনজিৎ কুমার বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। অবিলম্বে এই অবৈধ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। সরকারি নিয়ম নীতি মেনে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রসেনজিৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, সবকিছু মেনে না চললেও কিছু জিনিস মেনে তো চলতে হয়। এই সমস্ত ব্যাপার গুলো নিশ্চিত করেই চলা লাগে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে কুমারখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবুল হক বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম এবং অতিদ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
