নিজ স্ত্রীকে হত্যার দায়ে পল্লী চিকিৎসক আলামিন (৪২) কে বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় যাবজ্জীবন (সশ্রম) কারাদণ্ড এবং সেই সাথে দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

সোমবার (১৫ জানুয়ারি) এই রায় দিয়েছেন কুষ্টিয়া জজ আদালতের বিচারক মোঃ আশরাফুল ইসলাম। ইংরেজি ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর (শুক্রবার) কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হালসা থেকে আলামিনের নিজের প্রতিষ্ঠিত অবৈধ হালসা ক্লিনিক থেকে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় গৃহবধূ শিউলি খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে সেই সময় পল্লী চিকিৎসক আলামিন ঐ হত্যাকান্ডকে আত্মহত্যা বলে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। নিহত গৃহবধু শিউলি খাতুন উপজেলার আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের শাকদহচর গ্রামের আহাদ আলীর পুত্র পল্লী চিকিৎসক আলামিনের ৪র্থ স্ত্রী বলে জানা গেছে। জানা যায়, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আশাদুলের কন্যা শিউলী খাতুন (২৮)’র আগেও একবার বিয়ে হয়েছিলো পোড়াদহ ইউনিয়নের স্বরুপদহ গ্রামে। সেই সময় তার আগের স্বামী বিদেশে কর্মরত ছিলো। তার অনুপস্থিতে আলামিনের সাথে পরোকিয়ায় জড়িয়ে তারা বিয়ে করেন। আলামিনের আগেও আরও তিন স্ত্রী থাকার কারনে শিউলিকে হালসা বাজারে তার প্রাইভেট ক্লিনিকের পাশে ভাড়া বাসায় রাখেন। জানা যায়, তাদের দুই বছরের সাংসারিক জীবণে সব সময়ই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো এবং আলামিন প্রায়ই শিউলিকে মারধর করতো। এই ঘটনায় শিউলী খাতুনের মৃত্যুর পরদিন ২৯ অক্টোবর (শনিবার) তার বাবা আশাদুল বাদী হয়ে মিরপুর থানায় আলামিন ও তার ২নং স্ত্রী জানেরা খাতুন (৩২)’র বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌসুলি এ্যাড. রফিকুল ইসলাম লালন জানান, ‘বহুনারী আশক্ত আসামী আলামিনের সাথে স্ত্রী শিউলী খাতুনের দাম্পত্য কলহের জেরে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে আনীত অভিযোগ ডাক্তারি পরিক্ষা সনদসহ সন্দেহাতীত প্রমানিত হওয়ায় আলামিনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ ১০হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬মাসের সাজার আদেশ দেন আদালত। এছাড়া অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় আসামী জানেরা খাতুনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে বলে জানালেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি। রায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী আশাদুল বলেন, একজনের শাস্তি হলেও অপরজনকে বিলকুল খালাস দিলো। সরকারী আইন মোতাবেক সেই রায় হয়েছে তাতে আমরা খুশি না হলেও খুশি।
