কুষ্টিয়াতে চলতি আমন মৌসুমে চাউল সংগ্রহ সন্তোষজনক হলেও ধান সংগ্রহ নিয়ে সংশয় - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়াতে চলতি আমন মৌসুমে চাউল সংগ্রহ সন্তোষজনক হলেও ধান সংগ্রহ নিয়ে সংশয়

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ১৬, ২০২৪

গত বছরের ২৩ নভেম্বর (বৃহঃবার) সকাল ১০ টায় খাদ্য মন্ত্রাণালয়ের আয়োজনে ভার্চুয়ালি অভ্যন্তরীন আমন ধান ও চাল সংগ্রহ ২০২৩-২০২৪ এর শুভ উদ্বোধন করেন খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। উক্ত ভার্চুয়ালি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেছিলেন খাদ্য মন্ত্রাণালয়ের এনডিসি (সচিব) ইসমাইল হোসেন।

কুষ্টিয়াতে চলতি আমন মৌসুমে চাউল সংগ্রহ সন্তোষজনক হলেও ধান সংগ্রহ নিয়ে সংশয়

এছাড়াও ঐ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শারমিন আখতার। এছাড়াও ঐ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তারেক জুবায়ের, জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ বাবুল হোসেন, সরকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক এহসানুল হক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. হায়াত মাহমুদ এবং বাংলাদেশ রাইস মিল অ্যাসেসিয়েশন ও রশীদ গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আব্দুর রশিদ সহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং কর্মচারী বৃন্দ। এদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক অভ্যন্তরীন আমন ধান ও চাল সংগ্রহ ২০২৩-২০২৪ কার্যক্রমরে আওয়ায় গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২২ ইং থেকে চাউল ও ধান সংগ্রহ শুরু করে কুষ্টিয়া খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় এবং আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত চলবে চলতি আমন মৌসুমের ধান ও চাউল সংগ্রহের কার্যক্রম। ১২১ দিনের এই কার্যক্রমের মধ্যে ৭৭ দিন অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সিদ্ধ চাউল সংগ্রহ সন্তোষজনক হলেও ধান এবং আপত চাউল সংগ্রহ নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সংশয়। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ অদৌও সম্ভব হবে কিনা সেটিই এখন দেখার বিষয়। কুষ্টিয়া জেলার জন্য চলতি আমন মৌসুমে সরকার নির্ধারিত ৪৪ টাকা কেজি দরে ১৭৩টি চুক্তিযোগ্য মিল মালিকদের নিকট থেকে ১৪ হাজার ৯’শ ৩৯ মেট্রিক টন চাল এবং ৩০ কেজি বা ১২০০ টাকা মণ দরে ৩৬৬৯ মেট্রিক টন সংগ্রহের লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। যদিও পরবর্তিতে কুষ্টিয়া সদরে ১০ (দশ) হাজার ৩৭১ দশমিক ৪২০ মেট্রিক টন এবং মিরপুরে ২১৬ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাউল অতিরিক্ত সংগ্রহ করার জন্য পুনঃবরাদ্দ করে লক্ষ্যমাত্র পুনরায় নির্ধারন করা হয়। যার ফলে ১৭৩টি চুক্তিযোগ্য মিল মালিকদের নিকট থেকে চাউল সংগ্রহের নতুন লক্ষ মাত্র দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৫’শ ২৬ দশমিক ৪২০ মেট্রিক টন। এছাড়াও কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলা থেকে পুনঃবরাদ্দ আতপ চাউল সংগ্রহের লক্ষ মাত্র ছিলো ১ হাজার ৩৯৯ মেট্রিক টন। কুষ্টিয়া জেলার ৬টি উপজেলা থেকে ২৫ হাজার ৫২৬ দশমিক ৪২০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাউল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১৬ হাজার ৫০৮ দশমিক ৩০৮ মেট্রিক টন। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৬৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অন্যদিকে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিলো ৩৬৬৯ মেট্রিক টন এবং লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৬১২ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে । যা লক্ষ্যমাত্রার ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এছাড়াও নির্ধারিত লক্ষমাত্রা অনুযায়ী ১৩৯৯ মেট্রিক টন আপত চাউল সংগ্রহ করার কথা থাকলেও এর বিপরীতে সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ৪০ দশমিক ০২০ মেট্রিক টন । যা মোট লক্ষ মাত্রার ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ২৩ হাজার ৮১ দশমিক ৪২০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাউল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ৩৭৮ দশমিক ৬৪০ মেট্রিক টন। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৬২ দশমিক ৩০ শতাংশ। এই উপজেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিলো ৮৩৩ মেট্রিক টন এবং লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোন ধান সংগ্রহ করা হয় নাই। তাই ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংগ্রহ শূণ্য শতাংশ। এছাড়াও নির্ধারিত লক্ষমাত্রা অনুযায়ী ৮৬৮ মেট্রিক টন আপত চাউল সংগ্রহ করার কথা থাকলেও এর বিপরীতে সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ৪০ দশমিক ০২০ মেট্রিক টন। যা মোট লক্ষ মাত্রার ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ।কুমারখালী উপজেলায় ৪২৯ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাউল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ২৯৩ দশমিক ৮৮০ মেট্রিক টন। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। এই উপজেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিলো ৬১৭ মেট্রিক টন এবং লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৮১ মেট্রিক টন। সেই হিসাবে ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংগ্রহ ৬১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। কুমারখালী উপজেলা থেকে এই মৌসুমে আপত চাউল সংগ্রহের কোন পরিকল্পনা সরকারের ছিলো না।খোকসা উপজেলায় ২৪৭ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাউল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ২০৩ দশমিক ৮২০ মেট্রিক টন। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ৫২ শতাংশ। এই উপজেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিলো ২৭৮ মেট্রিক টন এবং কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোন ধান সংগ্রহ করা হয়নি এই উপজেলা থেকে। খোকসা উপজেলা থেকে এই মৌসুমে আপত চাউল সংগ্রহের কোন পরিকল্পনা সরকারের ছিলো না। ভেড়ামারা উপজেলায় মাত্র ২৪ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাউল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোন চাউল সংগ্রহ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এই উপজেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিলো ২৭০ মেট্রিক টন এবং কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ১৩৫ মেট্রিক টন। সেই হিসাবে ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংগ্রহ ৫০ শতাংশ। ভেড়ামারা উপজেলা থেকে এই মৌসুমে আপত চাউল সংগ্রহের কোন পরিকল্পনা সরকারের ছিলো না। মিরপুর উপজেলা থেকে ১ হাজার ১৪৩ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাউল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩০ দশমিক ৪০০ মেট্রিক টন। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯০ দশমিক ১৫ শতাংশ। এই উপজেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিলো ৮৩৩ মেট্রিক টন এবং লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোন ধান সংগ্রহ করা হয় নাই। তাই ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সংগ্রহ শূণ্য শতাংশ। এছাড়াও নির্ধারিত লক্ষমাত্রা অনুযায়ী ৮৫১ মেট্রিক টন আপত চাউল সংগ্রহ করার কথা থাকলেও এর বিপরীতে সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ২৭ মেট্রিক টন। যা মোট লক্ষ মাত্রার ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। দৌলতপুর উপজেলা থেকে ৬০২ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাউল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৬০১ দশমিক ৬৫০ মেট্রিক টন। যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এই উপজেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিলো ৮২০ মেট্রিক টন এবং লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৬৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। যা মোট লক্ষ মাত্রার ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ। এছাড়াও নির্ধারিত লক্ষমাত্রা অনুযায়ী ১৭৩ মেট্রিক টন আপত চাউল সংগ্রহ করার কথা থাকলেও এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোন আতপ চাউল সংগ্রহ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ বাবুল হোসেন বলেন, চাউল সংগ্রহের মূল লক্ষ্যমাত্রা ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে। লক্ষমাত্রা নির্ধারনের পরে ডিসেম্বরে আরো যে অতিরিক্ত লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া আছে সেটাও আশা করি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করতে পারবো। তবে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না বলেও তিনি জানান। কারণ হিসাবে তিনি বলেন, কৃষকরা অনেকেই অনলাইনে ’কৃষকের অ্যাপ’ এ রেজিস্ট্রেশন’ করেছিলেন, কিন্তু বাজারে ধানের দাম ভালো থাকায় তার আমাদের কাছে ধান নিয়ে আসেনি। এছাড়াও আতপ চাইলের লক্ষমাত্রা অনেক পরে দেওয়া হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রা দেওয়ার সাথে সাথে জেলার ৫ নিবন্ধিত আপত চাউল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তা বন্টন করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ বাবুল হোসেন। তবে নিবন্ধিত আপত চাউল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যদি চাউল না দেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তিনি জানান।