কুমারখালী থানার ওসির প্রচেষ্টায় ২২ দিন পরে ঘরে ফিরলেন রাজু - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালী থানার ওসির প্রচেষ্টায় ২২ দিন পরে ঘরে ফিরলেন রাজু

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ১৪, ২০২৪

বউয়ের যন্ত্রণায় দীর্ঘ ২২ দিন আত্নগোপনে থাকা অবস্থায় কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকিবুল ইসলামের সফল অনুসন্ধান এবং প্রচেষ্টায় ঘরে ফিরলেন ব্যাংক কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ রাজু (৪০)।

কুমারখালী থানার ওসির প্রচেষ্টায় ২২ দিন পরে ঘরে ফিরলেন রাজু, বউয়ের যন্ত্রণায় আত্নগোপনে ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা

সে ভেড়ামারা শহরের দক্ষিণ রেলগেট পূর্ব বামন পড়া এলাকার ইয়াছিন আলীর পুত্র ও কুমারখালী পূবালী ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত। জানা যায়, কুমারখালীতে কর্মরত ও বসবাসরত ব্যাংক কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ রাজু গত ২২ শে ডিসেম্বর কুমারখালীর ভাড়া বাড়ী থেকে নিখোঁজ হয়। তাকে তার বাসা বাড়ি সহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া যাচ্ছিল না। খোঁজাখুঁজির জন্য মোবাইল ফোনে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। এমতাবস্থায় কুষ্টিয়া ভেড়ামারা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মৃত ইয়াসিন আলীর পুত্র উক্ত ব্যাংক কর্মকর্তার পরিবার এবং স্বজনেরা চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সংবাদপত্রে এ বিষয়ে নিখোঁজ সংবাদ প্রকাশিত হতে দেখা যায়। পুলিশের সহযোগিতা কামনা করে এ ব্যাপারে স্বজনদের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। নিখোঁজ কর্মকর্তার কোন হদিস না মেলায় এলাকাবাসী ও পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা শহরে মানববন্ধন করা হয়। এদিকে নির্বাচন সহ নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী নানা পরিস্থিতির কারণে কুমারখালী থানা প্রশাসন ব্যাপক ব্যস্ত থাকায় সেই ব্যস্ততার মধ্যেও নিখোঁজ ব্যাংক কর্মকর্তার সন্ধানে প্রশাসনিক তৎপরতা অব্যাহত রাখেন তারা। কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক আকিবুল ইসলাম এর আন্তরিক তৎপরতায় ২২ দিন পর গত শুক্রবার রাত আটটার সময় মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং এর সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে ব্যাংক কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ রাজুকে। কুমারখালী থানা সূত্রে জানা যায়, ২২ শে ডিসেম্বর নিখোঁজ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে রাজীব আহমেদ রাজু মোবাইল ফোনে তার স্ত্রী রায়হানা পারভীনের সাথে কথা বলেছিলেন। এরপর সে তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে স্ত্রী সহ পরিবারের সকলের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর সে ২৬ ডিসেম্বর তারিখে তার বন্ধ মোবাইল খুলে কয়েক সেকেন্ড তার স্ত্রীর সাথে কথা বলে তা পুনরায় বন্ধ করে দেন। পরবর্তিতে ১১ জানুয়ারী তিনি আবারো তার বন্ধ মোবাইল ফোন খুলে স্ত্রীর সাথে কয়েক সেকেন্ড কথা বলেন। কুমারখালী থানা সূত্রে আরো জানা যায়, আত্নগোপনে থাকা ব্যাংক কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ রাজুর মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে কুমারখালী থানা পুলিশ জানতে পারে রাজীব আহমেদ রাজুর খুলনার সোনাডাঙ্গা বাসষ্ট্যান্ডের পাশে হোটেল এশিয়াতে অবস্থান করছেন। সেই সূত্র ধরেই কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকিবুল ইসলামের সফল অভিযানে ১১ জানুয়ারী রাতে রাজীব আহমেদ রাজুকে হোটেল এশিয়া থেকে উদ্ধার করা করে কুমারখালী থানাতে নিয়ে আসা হয় এবং রাজু ও তার স্ত্রী বাবার পরিবারের সদস্যদের থানায় ডেকে ঐ রাতেই তাকে উভয় পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই সন্তানের জনক ব্যাংক কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ রাজু ও রায়হানা পারভীন দম্পত্তি। ব্যাক্তিগত জীবনে স্ত্রী ছাড়া অন্য কারো সাথে খুব একটা যোগাযোগ ছিলো না রাজুর। এছাড়ও রাজু কোন বন্ধুদের সাথেও মিশতেন না বলে জানা যায়। আসলে তার স্ত্রী রায়হানা পারভীন তার স্বামীকে অন্য কারো সাথে খুব একটা মেলামেশা করতে দিতেন না। এমনকি রাজু তার স্ত্রীর চাপে তার নিজের পরিবারের সদস্যদের সাথেও খুব একটা মেলামেশা করতেন না বা স্ত্রীর কারণে ভেড়ামারার বাড়ীতেও যেতেন না বললেই চলে। রাজুর স্ত্রী গাছ-গাছড়ায় বিশ^াস করতেন। তাই তার স্ত্রী সব সময়ই তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ করতেন। তার স্ত্রীর ধারণা রাজুর ভাই, ভাবী এবং বোন সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা তকে গাছ-গাছড়া খাইয়ে তার সম্পত্তি লিখে নিয়ে আত্নসাৎ করতে পারে। মূলত স্ত্রীর মাত্রারিক্ত সন্দেহ এবং নজরদারির কারনেই রাজু এই পথ বেছে নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। থানা পুলিশ সূত্রে আরো জানা যায়, রাজু মূলত আত্নহত্যা করার উদ্দেশ্যেই আত্নগোপন করেছিলেন। এদিকে থানা পুলিশ কর্তৃক রাজুকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তরের পর পরিবারের সকল সদস্য মিলে রাজুর স্ত্রী ও শ^শুর বাড়ীর সদস্যদের খোকসায় মাঝরাতে নামিয়ে দিয়ে আসে এবং রাজুকে নিয়ে ভেড়ামারায় চলে যান। কিন্তু গতকাল শনিবার দুপুরে রাজুর স্ত্রী রায়হানা পরভীনের চাচাতো ভাই শামীমকে দেখা যায় কুমারখালী থানায় অভিযোগ দিতে এসেছে রাজুর বিরুদ্ধে। জানতে চাইলে শামীম বলেন, গত রাতে থানা থেকে নিয়ে যাওয়ার পর খোকসা মন্টু কলেজের সামনে থেকে তার বোন রায়হানা পরভীনকে মারধর করা হয়। যা ফলে সে বাম হাতের আঙ্গুলে, পায়ে এবং কোমরে আঘাত প্রাপ্ত হন। এরপর সকালে খোকসা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সে বর্তমানে তার বাবার বাড়ীতে অবস্থান করছে বলে জানান শামীম। ব্যাংক কর্মকর্তার বড় ভাই সাইদুল ইসলাম সান্টু জানান, স্ত্রীর সঙ্গে তার ভাইয়ের পারিবারিক কলহ ছিল। তাই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে সে আত্মগোপনে চলে যায়। শুক্রবার রাতে ভাইয়ের শশুর বাড়ি থেকে জানতে পারি সে ফিরে এসেছে। পরে আমরা গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে আসি।