ভোগান্তির অপর নাম কুষ্টিয়া বিআরটিএ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ভোগান্তির অপর নাম কুষ্টিয়া বিআরটিএ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ৪, ২০২৪

ভোগান্তির অপর নাম কুষ্টিয়া বিআরটিএ। বিআরটিএ অফিসে থেকে নতুন গাড়ীর রেজিস্ট্রেশন অথবা রোড পারমিট বা প্রয়োজনীয় কাগজ নিতে আসলে দূর্ভোগের সীমানা থাকে না সাধারণ মানুষের। তবে বিআরটিএ অফিসের পোষ্য দালালের শরণাপন্ন হলে সহজেই সকল ভোগান্তির উপশম হয়। আর এ জন্য গুনতে হয় মোটা অঙ্কের ঘুষ বা উপঢৌকন।

ভোগান্তির অপর নাম কুষ্টিয়া বিআরটিএ

বিআরটিএ কার্যালয়ের পরতে পরতে প্রতিনিয়ত চলে ঘুষের খেলা। এই অফিসে ঘুষ ছাড়া হয় না কোন কাজ। নির্ধারিত দালালচক্রের মাধ্যমে প্রতিটি কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রেটে ঘুষ আদায় করা হয়। ঘুষ দিলেই পাশ করা যায় ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষায়। সে ক্ষেত্রে দক্ষতা প্রমাণের প্রয়োজন হয় না। হালকা যান চালানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স নিতে হলে ড্রাইভিং টেষ্ট দেবার বিধান থাকলেও কুষ্টিয়াতে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা দিলেই তাকে আর প্রাইভেট কার চালাতে হয় না। বস্তুত এ চিত্র কেবল কুষ্টিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ের নয়, দেশের প্রায় সব বিআরটিএ কার্যালয়েই কম-বেশি এ অবস্থা বিরাজ করছে।

একজন ভুক্তভোগী প্রতিবেদককে জানান, আমি গত মঙ্গলবার (২রা জানুয়ারি) মালিকানা পরিবর্তন করার জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার পর সকাল থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোন অফিসার আসে না। আমি নিজে অফিসার কে ডাকতে গেলে বলে, এখন এসেছেন কেন? এখন দেরী হয়ে গিয়েছে। আমাকে ভুলভাল বুঝিয়ে বলেন আপনার সিগনেচার দেখার জন্য ১ হাজার টাকা লাগবে। কিন্তু আমি তখন ওনাকে টাকা দেয়নি। পরবর্তীতে এহেসান নামের একটা লোক এসে আমার কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে আমার ফাইল রেডি করে এবং সিগনেচার দেখার জন্য ছবি তুলে দেন, তিনি ডিসি অফিসের তৃতীয় তালাই থাকেন। এবার সিগনেচার টা দেখার জন্য আমি তখন ফিল্ড মেকানিক মুরাদ নামের একজন লোকের কাছে গেলাম, উনার মাথায় অবশ্য তেমন চুল নেই। তিনি আমাকে কিছুই বলছে না। কিন্তু ওখানে দুজন লোক ছিল। দেখে মনে হল তার বিআরটির অফিসের কোন কর্মচারী নন। তারা আমাকে বলে আমাদের কিছু অফিস খরচ দেন আমরা সব ঠিক করে দিচ্ছি। তখন আমি বললাম আমি কেন আপনাদের অফিস খরচ দিব। পরে বুঝতে পারলাম এই টাকা মুরাদ সাহেব তাদের মাধ্যমে চাচ্ছে।

ভুক্তভোগী ঐ ব্যাক্তি প্রতিবেদকে আরো বলেন, আমার একটাই দাবি বিআরটিএ দালাল মুক্ত হোক। আমরা শিক্ষিত জনগণ, আমরা টাকা দিয়ে কাজ করবো কেন। আমরা তো সরকারি ফ্রী যেটা, সেটাতো অনলাইনের মাধ্যমে জমা দিয়েছি। আমরা কেন তাদের পাঁচশো এক হাজার টাকা দিব। তারা আমাদের কোন কাজে লাগে না, উল্টো তারা আমাদেরকে হয়রানি করে। আমাদেরকে প্রতিদিন কী এত টাকা রোজগার হয়। আমি জোর দাবি জানাচ্ছি, সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে বিষয়টি। এখানকার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের চোখে পড়লে যেন অবশ্যই এর সঠিক পদক্ষেপ নেন। না হলে দিন দিন এদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ সহজে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে আসবে না। এ বিষয়ে ফিল্ড মেকানিক মুরাদকে ফোন করলে তিনি জানান, এইভাবে উনার কাছ থেকে টাকা চাওয়ার কথা না। তিনি সরকারি ফি জমা দিলেই আমরা মালিকানা পরিবর্তন করে দিয়ে থাকি। আর আমি কোন টাকা চাইনি। যদি এই অফিসের কেউ এমন টাকা চেয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে বিআরটিএ এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আতিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুরাদ আমাদের এখানে ফিল্ড মেকানিক হিসেবে কর্মরত আছেন। এ বিষয়ে আমি কালকে অফিসে গিয়ে শুনে আপনাকে জানাবো।