কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে কুমারখালী উপজেলার ৭নং বাগুলাট ইউনিয়নের নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক শ্রী তপন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে।

জানা যায় সে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসাবে ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন। জানা যায়, গত ২৯ ডিসেম্ববর বাগুলাটের নৌকার একটি নির্বাচনী প্রচারণার একটি অনুষ্ঠানে নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক শ্রী তপন চক্রবর্তী কে দেখা যায় দুইটি ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়।
একটি নির্বাচনী অনুষ্ঠানে তিনি নৌকা প্রতীকের নেতা কর্মিদের সাথে বসে মত বিনিময় করছেন এবং অন্য একটি পথ সভায় তিনি নৌকা প্রতীকে প্রার্থী সেলিম আলতাফ জর্জের সাথে অংশ গ্রহণ করেছেন। যদিও শ্রী তপন চক্রবর্তীর দাবী দুইটা ছবিই একই দিনে, একই স্থানের একটি নির্বাচনী প্রচারণার ছবি। তবে গতকাল মঙ্গলবার (২রা জানুযায়ী) তিনি নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধায়নে নির্বাচনী ট্রেনিং সম্পন্ন করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। এই বিষয়ে এলাকাবাসী সাথে কথা বললে তারা বলেন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের মত গুরুত্বপূর্ণ কোন দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যাক্তি সরাসরি একটি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করেন এবং সেই প্রার্থীর জন্য ভোট চান তাহলে তাকে দিয়ে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষতা আশা করা যায় না। জেলা রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের উচিত নির্র্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই ধরণের ব্যাক্তিকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া।
জানতে চাইলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শ্রী তপন চক্রবর্তী বলেন, এইটা আমার জন্য ঠিক হয় নাই। আমি বিষয়টা বুঝতে পারি নাই। সঠিক এবং নিরপেক্ষ ভাবে নির্বচিনী দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না, প্রশ্ন করলে শ্রী তপন চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশে কেউই নিরপেক্ষ না। নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করাটাই কথা। আমার ডিউটি হবে অন্য জায়গায়। তাই কারচুপির সুযোগ নাই। বিষয়টি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রউফ বলেন, কুমারখালী-খোকসার অনেক প্রিজাইডিং এবং সহকারী প্রিজাইডিং সরাসরি নৌকার নির্বাচনী প্রচারণার সাথে জড়িত। তারা অনেকেই প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকের সভা সমাবেশে যোগদান করছেন এবং নৌকার পক্ষে সাধারণ ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন। যা নির্বাচনী আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ধরনের ব্যাক্তিদের যদি ভোটের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাহলে কোনদিনই সুষ্ঠ ভোট সম্ভব না। কিন্তু শষ্যের ভিতর থেকে এই ভূত তাড়াবে কে? আমি চাই সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সফল ভাবে সম্পন্ন করার জন্য এই সমস্ত ব্যাক্তিদের নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হোক।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মাহাবুবুল হক বলেন, এই ধরণের অভিযোগ আমরা পাই নাই। আমরা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি তাদেরকে আমার নির্বাচনী দায়িত্ব দেইনি। উনাকে ডিউটি দেওয়া হয়েছে কিনা, আমি না দেখে বলতে পারছি না। যদি আমরা অভিযোগ পাই, প্রয়োজনে আমরা ডিউটি বাদ দিয়ে দেবো।
