কুষ্টিয়ায় কমিউনিষ্ট বিপ্লবী নেতা কমরেড আব্দুল হক’র ২৮ তম স্মরণসভা
নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় কমরেড আব্দুল হক’র ২৮ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া পৌরসভার বিজয় উল্লাস চত্তরে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৃত্যু বার্ষিকী পালন কমিটির জেলা আহ্বায়ক আ্যাডঃ আব্দুল বারী।

কুষ্টিয়ায় কমিউনিষ্ট বিপ্লবী নেতা কমরেড আব্দুল হক’র ২৮ তম স্মরণসভা
আরো আলোচনা করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এর জেলা সভাপতি মোক্তারুল ইসলাম কৃষক সংগ্রাম সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের জেলা সভাপতি রমজান বিশ্বাস, ধুব্রুতারা সাংস্কৃতিক সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাজিমুল ইসলাম ও মৃত্যু বার্ষিকী পালন কমিটির সদস্য আমিনুল হক, আমানত শেখ, সাইফুল ইসলাম প্রমূখ। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, বিংশ শতাব্দীর চল্লিশের দশকে কমরেড আবদুল হক শ্রমিক শ্রেণির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ছাত্র আন্দোলন, তেভাগা তথা কৃষক আন্দোলন, হলওয়েল মনুমেন্ট ভাঙ্গার আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেন। পাকিস্তান আমলে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে অগ্রসর করার প্রেক্ষাপটে খাপড়া ওয়ার্ড আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, কমিউনিজম-সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে পরিচালিত সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও বিপ্লবী যুদ্ধে অগ্রণী ও নেতৃত্বকারী ভুমিকা পালন করেন। বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রেক্ষিতে তিনি বাংলাদেশ যে সাম্রাজ্যবাদ, সামান্ত্রবাদ, আমলা মুৎসুদ্দিপুঁজি উচ্ছেদ তথা জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের পরিণতিতে সৃষ্টি হয়নি এ তথ্য তুলে ধরেন তা আজ দেশের বর্তমান পরিস্থিতির মূল্যায়নের সঠিকতা আবারও প্রমাণ করে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ইসরায়েলের প্যালেস্টাইনে ধারাবাহিক নির্বিচার আগ্রাসন, দখলদারী ও গণহত্যা। আজ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার প্যালেস্টাইনী হত্যা ও অর্ধলক্ষ আহতসহ ব্যাপক ধ্বংসলীলা চলছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদসহ পাশ্চাত্য ও সাম্রাজ্যবাদী চীন রাশিয়ার ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্যালেস্টাইনের লড়াইরত জনগণের আন্দোলন-সংগ্রামকে সমর্থন জানিয়ে আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জাতীয় ক্ষেত্রে বিরাজ করছে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক তথা সামগ্রিক সংকট। সাম্রজ্যবাদ, সামন্ত্রবাদ, আমলা-দালাল পুঁজির নির্মম শোষণ-লুণ্ঠন এবং তাদের স্বার্থ রক্ষাকারী স্বৈরাচারি রাষ্ট্র ও সরকারের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদী শাসনে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের জীবন আজ আরও দুর্বিষহ ও বিপর্যস্ত। মুদ্রাস্ফীতি, মূল্যস্ফীতিতে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের লামাগহীন উর্ধ্বগতি শ্রমিক-কৃষক, মেহনতি জনগণের জীবন-জীবিকা আরও সংকট গ্রস্ত দুঃসহ ও অনিশ্চিত করে চলেছে। নয়া ঔপনিবেশিক-আধাসামন্ত্রবাদী বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক ও রণনীতিগত গুরুত্বের প্রেক্ষিতে মার্কিনের নেতৃত্বে পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে সাম্রাজ্যবাদী চীন ও রাশিয়ার আধিপত্য বিস্তারে প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বীতা তীব্রতর হয়ে চলেছে। সাম্রাজ্যবাদের দালাল নয়া ঔপনিবেশিক-আধাসামস্ত্রবাদী ভারতের ভুমিকাও প্রনিধানযোগ্য। ঊভয়পক্ষই বাংলাদেশকে তাদের আগ্রাসীযুদ্ধে সম্পৃক্ত করতে চায়। সাম্রাজ্যবাদী উভয়পক্ষ তাদের মূল লক্ষ্য হাসিলে সবচেয়ে উপযোগি দালাল ও শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে বা রাখতে চায়। এ প্রেক্ষিতে দালাল সরকার প্রতিপক্ষ দালাল বিএনপির ওপর সর্বাত্মক আক্রমণ চালিয়ে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন দেখিয়ে ক্ষমতায় থেকে যেতে তৎপর। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বিএনপি ও তার পক্ষের জোট ও দল অবরোধ-হরতাল-অসহযোগ কর্মসূচি দিয়ে চলেছে। সাম্রাজ্যবাদের দালালদের ক্ষমতায় থাকা ও যাওয়া নিয়ে কামড়াকামড়ি তীব্রতর হওয়ায় দেশে দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় পরিস্থিতি তীব্রতর হয়ে চলেছে। বাম নামধারী সংশোধনবাদী-সুবিধাবাদীরা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে না দাঁড়িয়ে দালালদের লেজুড়বৃত্তি করছে। এ প্রেক্ষিতে সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল এবং স্বৈরাচারী সরকার বিরোধী সকল সংগঠন, শক্তি ও ব্যক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দূর্বার আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলে জাতীয় গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ছিনিয়ে আনতে হবে মুক্তির লাল সূর্য। তাঁর প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা নিবেদনে তাঁর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের ঐক্যবদ্ধ লড়াই-সংগ্রামের আহ্বান জানান।
