কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে আলোচনা সভা
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমীর মিলনায়তনে কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে আলোচনা সভা
উক্ত আলোচনা সভায় জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কুষ্টিয়া জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষ এর সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সদর উপজেলা কমান্ডের সাবেক কার্যকরী সদস্য ও কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমানের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ ।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভপতি হাজ¦ী রবিউল ইসলাম এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তাইজাল আলী খান। এছাড়াও কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী বলেন, মানিক কুমার ঘোষ আজকের থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের টানছেন না, যখন আওয়ামী লীগের সরকার ছিলো না তখনও কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সেই মুজিবনগরে যাওয়া। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ যে কোন সময়ই হোক না কেন এক জায়গায় থাকতে হবে এইটাই কথা। যেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৭০ সালে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের শহীদ মিনারে ফুল দিয়েছেন সেদিন ১৩ বা ১৪ জন ছাড়া কেউ ছিলো না। উনি ফুল দেওয়ার পরে সেদিনও জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছিলাম। এইতো সেদিনের কথা মনে হচ্ছে। আমি তখনও দেখেছি, এখনও দেখছি, স্লোগান এদের মুখে আসে না। আজকে কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস। আজকে ৫২ বছর আগের সেই দিনের কথা গুলো মনে হয়। ছাত্রজীবন থেকে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছি। সেই জয় বাংলা স্লোগান আজকে জাতীয় স্লোগান হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের রক্তের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। এই দেশের মাটিতে জাতীয় চার নেতা বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সফল ভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন। দেশীয় ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেছেন। আর্ন্তজাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বিশে^র মধ্যে সুসজ্জিত পাক বাহিনীকে পরাজিত করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জাতীর পিতা হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাঙালী জাতিকে বীরের জাতিতে পরিনত করেছে। সেই দেশের মাটিতে সাড়ে ৩ বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে স্বপরিবারে হত্যা করেছে। এই সরকার যখন ছিলো সেই সময় তাদের জীবণ দিতে হয়েছে। জাতীয় ৪ নেতাকে সবথেকে নিরাপদ জয়গায়, জেলখানায় খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েছি। আমরা কোন কিছুই করতে পারি নাই। আত্নসুদ্ধি, আত্ন সমালোচনায় থাকতে হবে। আজকের এই দিনে আপনারা ৫২ বছর আগে যেই কাজটা করেছেন সেই জায়গা থেকে আপনাদের মনে রাখতে হবে আমাদের দ্বন্দ্ব জয় বাংলা জিন্দাবাদের সঙ্গে। যারা জিন্দাবাদ বলে তারা এই দেশে থাকতে পারে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের রক্ত এই বাংলাদেমর মাটিতে পড়েছে, জাতীয় ৪ নেতার রক্তও বাংলাদেশের মাটিতে পড়েছে। দেশকে মুক্ত করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তও পড়েছে। সেই জায়গা থেকে আমাদের পরিবর্তন হওয়ার সুযোগ নাই। আমরা নৌকা প্রতিকের মানুষ, নৌকার নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেই জায়গাতেই আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি আওয়ামীলীগ করি অন্য জায়গাতে ভোট দেওয়ার কোন সুযোগ নাই। সেই দিকে লক্ষ রেখে আমি পরিস্কারভাবে বলতে চাই, আমাদের নেতা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আত্নতৃপ্তি আত্ন সমালোচনা করতেই হবে। আমার দ্বারা দলের কতটুকু ক্ষতি হলো, আমার দ্বারা জনগণ কতটুকু উপকৃত হলো? সেই জায়গা থেকে নিজেদের তৈরি করুন। আমার দ্বারা দল যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সদর উদ্দিন খান বলেন, দীর্ঘ দিন পরে মানিক ঘোষের নেতৃত্বে আমরা একত্রিত হয়েছি। আজকে অত্যন্ত একটা ভালো দিন ”কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস”। মুক্তিযোদ্ধা ভায়েরা, আপনারা এই বয়সে যেই স্পিডে জাতীয় সংগীত গাইলেন এবং আজগর আলী যে স্লোগান দিলেন ও আপনারা যে ভাবে তার উত্তর দিলে, তার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। কুষ্টিয়া মুক্ত দিবসে আমরা অরেকটা মুক্তি পেতে চাই। মাহবুবউল আলম হানিফ কুষ্টিয়াতে নৌকার প্রতিনিধিত্ব করছেন, প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুষ্টিয়াতে ৩ বার তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আগে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ছিলেন। সেই সময় থেকেই এই কুষ্টিয়ার উন্নয়ন, কুষ্টিয়ার মানুষের সেবা, তার যে লক্ষ সেই লক্ষ থেকে সব সময় তিনি কুষ্টিয়াবাসীকে স্মরণ করেছেন। আজকে আমরা তাকে কুষ্টিয়ার উন্নয়নের রুপকার বলি। উন্নয়ন, অবকাঠামোর উন্নয়ন, সামাজিকাতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানুষের সেবা সহ সকল কিছুর উন্নয়ন তিনি করেছেন। এই কুষ্টিয়া শহর সহ শহরতলী সহ কুষ্টিয়ার ৬টি উপজেলা এবং কুষ্টিয়ার পাশেই চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর সহ দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের সন্ত্রাসও তিনি র্নিমূল করেছেন। আজকে আমরা তার ভোট আশা করি বা চাই। আমরা বিশ^াস করি বা মনে করি বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন ইউনিয়নে, বিভিন্ন ওয়ার্ডে আমাদের একটা বর্ধিত সভা ছিলো সদর শহর আওয়ামী লীগের। সভাপতি, সেক্রেটারী, চেয়ারম্যান সাহেবরা সেখানে বক্তব্য দিয়েছেন। ঐ বক্তব্যের পর আমরা যেটা দেখলাম, অনুধাবন করলাম, ৬ টা-৭টার সময় রওনা দিয়ে কুষ্টিয়াতে আসা তার দায়িত্বে মধ্যে পড়ে না, তারপরেও সে আসছে। এজন্য তাকে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের সময় হয় না, তার সময় হয়। তিনি শুধু যে ভোটের সময় অক্লান্ত পরিশ্রম করে, সেটা নয়। উন্নয়নের সময় যে পরিশ্রম করে, কেউ তার কাছ থেকে ফেরত আসে বলে আমার জানা নাই। রাজনৈতিক ভাবে তার যে দূরদর্শিতা, যদি বিভিন্ন চক্রান্ত জাতীয় ভাবে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে করা হয়েছে। বিভিন্ন সমস্যা যদি না থাকতো তাহলে আজকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব দ্বিতীয় পর্যায়ে তারই থাকতো। যাই হোক সময় শেষ হয় নাই। আজকে আমাদের কুষ্টিয়া সদর আসন ৩ এ সমস্ত মুক্তিযোদ্ধারা ঐক্যবদ্ধ। এখন আমাদের মূখ্য উদ্দেশ্য আগামী ভোট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন অনেক চক্রান্ত চলছে দেশ-বিদেশে, আর্ন্তজাতিক ভাবে। ভোটের বিষয়ে একটি ছোট্ট অনুরোধ অপনাদের কাছে রাখবো, সকলের কাছে সবাই নৌকার জন্য ভোট চাইবেন। মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, যারা ১৯৭১ সালে জাতির পিতার নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছিলেন সেই সমস্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সালাম । যারা এখনও জীবিত আছেন তাদের প্রতিও আমার শ্রদ্ধা। যারা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন তাদের আত্নার মাগফিরাত কামনা করি।
কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস উপলক্ষে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, আপনাদের প্রচেষ্টার কারণেই আমরা আজ স্বাধীন দেশের নাগরিক।আজকে স্বাধীনতার প্রায় ৫২ বছর পার হয়ে গেছে। এই ৫২ বছরে ইতিহাসের চাকা অনেক ঘুরেছে। সোজা পথেও ঘুরেছে, উল্টা পথেও ঘুরেছে। অনেকেই আছেন যারা হয়তো জয় বাংলা স্লোগান দিতে কুন্ঠাবোধ করেন। এখন অনেকেই হয়তো জয় বাংলা থেকে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ এ চলে গেছেন। তারা এখানে হয়তো আসেননি। এটা শোনার পর আমি নিজে কিছুটা হলেও ব্যাথিত। কারণ আমাদের এই জয় বাংলা স্লোগানটা রণাঙ্গনের স্লোগান ছিলো। এটা আওয়ামী লীগের স্লোগান না। জয় বাংলা মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান, মুক্তিযোদ্ধাদের স্লোগান। এই স্লোগান পাকিস্থানী সৈন্যরা ভিতু হতো। এই স্লোগান জাতির পিতা দিয়েছিলেন। রাজাকাররা ভিতু হতো। আলবদর, আলসামস তাদের কাছে এই স্লোগান খুবই জ¦ালাময় এবং অতঙ্ক ছিলো। সেই স্লোগান আওয়ামী লীগ ধারণ করে রাখছে। এইটা পুরো জাতির স্লোগান, এটা কোন দলের নয়। বঙ্গবন্ধু যে জাতির পিতা, এই কথাটা অনেকেই স্বীকার করতে চায় না। মাহবুবউল আলম হানিফ আরো বলেন, বাংলাদেশ আজকে চরম দূর্ণীতির দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। একথা বিশে^র অর্থণীতিবিদরা বলছে উন্নয়নের যে ধারা চলছে এই ধারা যদি অব্যহত থাকে তাহলে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। আর ২০৪১ সালে আমরা বঙ্গবন্ধুর সেই সোনার বাংলা এবং আত্নমর্যাদাশীল দেশ আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো। তখনই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। নেতা তিনিই হন, যিনি স্বপ্ন দেখেন. স্বপ্ন দেখান এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেন। আজকে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, উনি স্বপ্ন দেখেছেন। তার পিতার সেই আদর্শকে উনি বাস্তবায়ন করবেন এবং সেটার জন্যই উনি কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছি।
উক্ত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ সুভীন আক্তার। এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি এবং প্রেজেন্ট টাইম ও আজকালের খবর পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান।
