কুষ্টিয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠুভাবে শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করে দিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর
বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানের উপযোগী নান্দনিক আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত ও পরিবেশ বান্ধব শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ, সংস্কার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহে আসবাবপত্র সরবরাহ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা এবং মাদ্রাসা ও কারিগরী শিক্ষা স্তরের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সুষ্ঠুভাবে শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করে যাচ্ছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। এরই ধারাবহিকতায় ইতিমধ্যে কুষ্টিয়ায় ছয় উপজেলায় পাঁচটি প্রকল্পের আওতায় আট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় কুষ্টিয়া জেলার ছয়টি উপজেলায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নব-নির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কুষ্টিয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠুভাবে শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করে দিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর
গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও সম্মেলনের মাধ্যমে এই আট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষ হতে সংযুক্ত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ এহেতেশাম রেজা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ, কুষ্টিয়া-১(দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য আঃ কাঃ মঃ সরওয়ার জাহান বাদশা, কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা ) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ এবং কুষ্টিয়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইশতিয়াক ইকবাল হিমেলসহ সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগন।
কুষ্টিয়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া জেলার ছয়টি উপজেলায় ৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নব-নির্মিত ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে, “নির্বাচিত বে-সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কুষ্টিয়া শহরের কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪তলা একাডেমিক ভবন নির্মানসহ স্যানেটারী, পানি সরবরাহ ও বৈদ্যুতিকরণ কাজ। যার চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি ৭৩ লক্ষ ৯০হাজার টাকা। দৌলতপুর উপজেলার ঝাউদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪তলা একাডেমিক ভবন নির্মানসহ স্যানেটারী, পানি সরবরাহ ও বৈদ্যুতিকরণ কাজ, যার চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি ৭৩ লক্ষ ৯০হাজার টাকা।
ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৪তলা একাডেমিক ভবন নির্মানসহ স্যানেটারী, পানি সরবরাহ ও বৈদ্যুতিকরণ কাজ। যার চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩৮ লক্ষ ৮৬হাজার টাকা। খোকসা উপজেলার আলহাজ্ব সাইদুর রহমান মন্টু মহিলা কলেজের ৪তলা নির্মানসহ স্যানেটারী, পানি সরবরাহ ও বৈদ্যুতিকরণ কাজ। যার চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে ২ কোটি ১৬ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর জামেয়া আরাবীয়া দাখিল মাদ্রাসার ৪তলা একাডেমি ভবন নির্মানসহ স্যানেটারী, পানি সরবরাহ ও বৈদ্যুতিকরণ কাজ। যার চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে ৩ কোটি ২৪ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা।
স্বস্তিপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৪তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণসহ স্যানেটারী, পানি সরবরাহ ও বৈদ্যুতিকরণ কাজ। যার চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে ৩ কোটি ২৪ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। এছাড়া “কারিগরি ও শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের সক্ষমতা বৃদ্ধি” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ টেকনিকাল স্কুল এন্ড কলেজের ৫তলা একাডেমিক কাম ওয়ার্কশপ ভবন নির্মাণ কাজ। যার চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৫৭ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। অপরদিকে রয়েছে ১০০টি উপজেলায় ১টি করে টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ (টিএসসি) স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ভেড়ামারা উপজেলায় ভেড়ামারা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ৫তলা একাডেমিক ভবন, ৪ তলা প্রশাসনিক ভবনসহ ওয়ার্কশপ, একতলা সার্ভিস এরিয়া নির্মাণসহ স্যানিটারী, বৈদ্যুতিকরণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ভূমি উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর, মেইন গেট নির্মাণ ও গভীর নলকুপ স্থাপন কাজ। যার চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৪০ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা। যার মোট পাঁচটি প্রকল্পের ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে ৪১ কোটি ৫০লক্ষ টাকা।
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইশতিয়াক ইকবাল হিমেল বলেন, আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্মিলিত কম্পিউটার ল্যাবসহ মান সম্মত ও নান্দনিক একাডেমিক ভবন নির্মাণ করায় সারাদেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীদের সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে ওয়ার্কশপ/ল্যাব স্থাপনের জন্য আধুনিক একাডেমিক ও ওয়ার্কশপ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা চতুর্থ শিল্প বিল্পবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য উপযোগী হয়ে গড়ে উঠবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ একটি উন্নত জাতি হিসাবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।
