কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের নির্মানাধীন ভবনের বাথরুমের পাশ থেকে বঙ্গবন্ধুর মুর্যাল অপসারন
কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের নির্মানাধীন নতুন অফিস ভবনের সামনে বাথরুমের পাশে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর পুরাতন মুর্যাল অপসারন করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান। একই সাথে নতুন একটি বড় মুর্যাল নির্মাণ করা হয়েছে ভবনের মুল ভবনের দেওয়ালে।

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের নির্মানাধীন ভবনের বাথরুমের পাশ থেকে বঙ্গবন্ধুর মুর্যাল অপসারন
এদিকে সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম ভবনের পাশে অপরিকল্পিতভাবে মুর্যালটি নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ উঠে। এছাড়া বাথরুমের সাথে হওয়ার কারনে এর সৌন্দর্য্য নিয়েও কথা ওঠে। কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোডে জেলা পরিষদের নতুন আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে। কয়েক বছর আগের সরকার থেকে একযোগে সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর মুর্যাল নির্মানের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, একই সাথে ডিজাইন সরবরাহ করা হয়। ৫ লাখ টাকা বরাদ্দে সে সময় তড়িঘড়ি করে জেলা পরিষদের নতুন ভবনের এক পাশের মুর্যাল নির্মাণ করেন তৎকালীন চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম। নতুন ভবন হওয়ার কারনে মুর্যালটি অকেটা আড়ালে চলে যায়। নিচতলার পশ্চিম অংশে বাথরুমের সাথে লাগোয়া হয়ে যায় মুর্যালটি। নিচতলায় বাথরুমের ঠিক সামনেই পড়ে মুর্যালটি। একই সাথে কয়েকটি দোকান ঢেকে যাওয়ার নতুন নির্মিত ব্যাংকের বুথে আসা-যাওয়ার সমস্যার কারনে মুর্যালটি অপসারন করার উদ্যোগ নেয় বর্তমান পরিষদ।
জেলা পরিষদের একটি সূত্র জানায়, ‘তখন তড়িঘড়ি কাজ করে এটির উদ্বোধন করেন চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম। মুর্যালটির কারনে নানা সমস্যা হচ্ছিল। এ কারনে সেটি অপসারন করা হয়েছে। একই সাথে ভবনে ঢুকতেই মুল দেওয়ালের সাথে বঙ্গবন্ধুর একটি প্রোট্রেট বাঁধায় করা হয়েছে, অপসারন করা মুর্যালটির চেয়ে এটি আয়তনে বড় ও একই ডিজাইনের। নতুনটি নির্মাণ করা শেষ হলে পুরাতনটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে রোববার।’
জেলা পরিষদের ওই সূত্র জানায়, বিষয়টি মন্ত্রনালয়সহ সবখানে জানিয়ে অনুমতি পাওয়ার পর অপসারন করা হয়েছে। এখানে কোন ঝামেলা নেই। বরং অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত মুর্যালটি অপসারন করার কারনে সৌন্দর্য্য বেড়েছে।
এদিকে মুর্যালটি অপসারন নিয়ে আগের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি এটিকে ভালভাবে নেননি। এদিকে নতুন মুর্যাল নির্মাণ ও অপসারন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তিনি এ জন্য বর্তমান চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খানকে নানাভাবে দায়ী করেন। হাজী রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন,‘মুর্যালটি অপসারন করে বঙ্গবন্ধুকে খাট করা হয়েছে। এটি অপসারন করা ঠিক হয়নি। যখন হাতুড়ি মারা হয় সেটি মনে হচ্ছিলো আমার মাথায় এসে পড়ছে। এদিকে জেলা
পরিষদের ফেসবুক পেজ থেকে নতুন মুর্যালের একটি ছবি দিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলামকে নিয়ে নানা রকম কথা লেখা হয়েছে।
বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান বলেন,‘ আগের মুর্যালটি তড়িঘড়ি অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করার কারনে এটা বাথরুমের পাশে অবস্থিত হওয়ায় সৌন্দর্য্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নানা কথা হচ্ছিল। এছাড়া ভবনের সিড়ি ও দোকান আড়াল হয়ে যাচ্ছিল। এসব কারনে সেটি অপসারন করার আগেই নতুন একটি মুর্যাল নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন মুর্যাল নির্মাণ করার পর পুরাতনটি অপাসরন করা হয়েছে। এটি নিয়ে যারা কথা বলছেন তারা ভুল বুঝে বলছেন।’
