মীর মশাররফ হোসন’র মত সাহিত্যিকরা থাকলে তার লেখনীর মধ্য দিয়ে কলম থেকে আগুন ঝরতো – হানিফ এমপি - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

মীর মশাররফ হোসন’র মত সাহিত্যিকরা থাকলে তার লেখনীর মধ্য দিয়ে কলম থেকে আগুন ঝরতো – হানিফ এমপি

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: নভেম্বর ১৫, ২০২৩
মীর মশাররফ হোসন’র মত সাহিত্যিকরা থাকলে তার লেখনীর মধ্য দিয়ে কলম থেকে আগুন ঝরতো - হানিফ এমপি

কথা সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের ১৭৬ তম জন্মদিন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় দিনে সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটায় গতকাল মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) বিকেল ৪ টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভা’র দ্বিতীয় দিনে জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ।

মীর মশাররফ হোসন’র মত সাহিত্যিকরা থাকলে তার লেখনীর মধ্য দিয়ে কলম থেকে আগুন ঝরতো – হানিফ এমপি

মীর মশাররফ হোসন’র মত সাহিত্যিকরা থাকলে তার লেখনীর মধ্য দিয়ে কলম থেকে আগুন ঝরতো - হানিফ এমপি

মীর মশাররফ হোসন’র মত সাহিত্যিকরা থাকলে তার লেখনীর মধ্য দিয়ে কলম থেকে আগুন ঝরতো – হানিফ এমপি

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবু রাসেল, কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. আমিনুল হক, কুমারখালী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ বিনয় কুমার সরকার এবং দৈনিক আরশীনগর পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম বিপ্লব। এছাড়াও প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন বোধদয়’র সভাপতি এ্যাড. লামিম হক এবং স্বাগত বক্তব্য রাখবেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিতান কুমার মন্ডল।

বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য প্রদান কালে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জজ বলেন, মীর মশাররফ হোসেন জন্ম নিয়েছিলেন ১৮৪৭ সালে এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্ম নিয়েছিলেন ১৮৬১ সালে। রবীন্দ্র পূর্ববর্তী সময়ে বাংলা সাহিত্য এবং বাংলা সাহিত্যের সাহিত্য মূল্য যে সমস্ত ব্যক্তির মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে তাদের মধ্যে অন্যতম মীর মশাররফ হোসেন। তিনি অসংখ্য লিখনী লিখেছেন তার মধ্যে যে গুলো কাল উত্তীর্ণ হয়েছে জমিদার দর্পন, বসন্ত কুমারী এবং উদাসহীন পথিকের মনের কথা সহ তার অনেক লেখা সময়কে পার করে দিয়ে গেছে। বিষাদ সিন্ধুর জন্য তিনি পৃথিবী বিখ্যাত। বিষাদ সিন্ধুর প্রথম (মহরম পর্ব) পর্ব ১৮৮৫ সালে রচনা করেন, এরপর ১৮৮৭ সালে দ্বিতীয় পর্ব (উদ্ধার পর্ব) রচনা করেন। শত বছর আগে একজন মানুষ এই অজপাড়াগাঁয়ে বসে এরকম বৈশ্বিক কল্পনা করেছেন এবং কতটা আধুনিক মনষ্ক হলে একজন মানুষ এভাবে লিখে যেতে পারেন এবং পরবর্তি প্রজন্ম বছরের পর বছর এভাবে শত শত বছর একজন মানুষকে আমরা স্মরণ করে যাচ্ছি। তার কারণ হচ্ছে তাদের সমাজ সংস্কার এবং সমাজ ভাবনা, মানুষের জন্য চিন্তা, এই কল্পনা গুলো যখন বাস্তবতার সাথে মিলে যায় তখন কর্ম গুলো, কাজ গুলো কাল উত্তীর্ণ হয় এবং তারা অমর হয়ে যান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, মীর মশাররফ হোসেনের আদি নিবাস কিন্তু এই কুষ্টিয়ায় নয় বা এই বাংলার ভূখন্ডেও কিন্তু তার আদি নিবাস ছিলো না। তাদের পূর্ব পুরুষ কিন্তু এসেছিলো বাগদাদ থেকে। মীর মশাররফ হোসেনের এটা ছিলো আসলে নানীর বাড়ী। মীর মশাররফ হোসেনর বৈচিত্রময় জীবণের মধ্যেও সাহিত্য এবং দর্শনের উপরে অনেক কবিতা তিনি লিখেছেন। এছাড়াও তিনি অনেক উপন্যাস ও সাহিত্য রচনা করেছেন। বিশেষ করে যে সাহিত্যটা নাটক হিসাবে অনেকবার আলোচিত হয়েছে, সেটা হলো নীল দর্পণ। নীল দর্পণ সেই সময়ে বৃটিশদের নীল চাষের উপর যে ভূমিকা ছিলো সেটার উপরে আলোকপাত করা হয়েছে। তার সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস যেটা সেটা হলো বিষাদ সিন্ধু। বিষাদ সিন্ধু আমাদের মুসলিম ধর্মের উপরে ভিত্তি করে রচিত হয়ে ছিলো। ইমাম এবং হোসেন কিভাবে কারবালার প্রান্তরে নিষ্ঠুর ভাবে শহীদ হয়েছিলো সেটার উপরে তার লেখনী ছিলো। যেটি এখনও পড়লে যারা মুসলমান ধর্মে বিশ^াস করে বা মানবতায় বিশ^াস করে, তাদের মনের ভিতরে এখনও শিহরণ জাগায়, এখনও তা আলোড়ন সৃষ্টি করে। উনি প্রায় ৩৭ টা সাহিত্য রচনা করেছেন। বিষাদ সিন্ধুর মত এতবড় আলোড়ন সৃষ্টিকারী সাহিত্য আর দ্বিতীয়টা ছিলো না। যদি মীর মশাররফ হোসেন আজকে জীবিত থাকতেন তাহলে, কি লিখতেন? ইমাম এবং হোসেন’র মৃত্যু নিয়ে তিনি যে উপন্যাস লিখেছেন, একই ভাবে কিন্তু আজকে গাজা’য় ইসরাইল ফিলিস্থিনিদের নিরীহ শিশু ও নারীদের উপর নির্বিচারে গণহত্যা চলছে। র্দূভাগ্য আমাদের, বিশ্বে এত বড় বড় রাষ্ট্র রয়েছে, যারা সব সময় মুসলমাদের পক্ষে কথা বলেন, জিহাদ ঘোষণা করেন, তারা আজকে নির্বাক। গণহত্যা চলছে, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে, এখন কিন্তু আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলোর কোন বাক্য নেই। যারা অন্য দেশের মানবতা নিয়ে কথা বলেন, মানবাধিকার নিয়ে কথা বলেন তাদের কিন্তু এই ফিলিস্থিনির নিষ্পাপ শিশু নারী হত্যার ব্যাপারে কোন বাক্য নেই। যারা উপদেশ দেন, কথায় কথায় গণতন্ত্রের কথা বলেন, এগুলো কি তাদের একচোখা নীতির কারণেই বলেন। আজকে তো ফিলিস্থিনিদের এই বর্বরোচিত হত্যাজজ্ঞের বিষয়ে তাদের কোন কথা নেই। আমাদের দেশের মধ্যেও দেখি যারা অনেক সময় ধর্মের কথা বলে ধর্মের জিকির তুলেছেন, জিহাদ ঘোষণা করেছেন। আমরা এমনও দেখেছি রাজ পথে স্লোগান দিচ্ছে ” আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগান” এবং অনেকই সেই আফগানস্থানে চলে যাচ্ছেন মুসলমানদের পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য। আজকে সেই সব মৌলবাদী দল গুলো, ধর্মান্ধ দল গুলো, যারা ধর্মের দোহায় দিয়ে একাত্তরে ঘনহত্যা করেছে, ধর্মের দোহায় দিয়ে একাত্তরে মা-বোনদের পাষবিক নির্যাতন করেছে। । এখনও তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। সেই দল গুলো এখনও ধর্মের দোহায় দিয়ে রাজনীতি করছে, মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। সেই দল গুলো এখন নির্বাক। ফিলিস্থিনিদের গণহত্যার বিষয়ে তাদের কোন কথা নেই। যারা ইসলামের ধারক-বাহক সাজার চেষ্টা করেন সেই সমস্ত বিএনপি নেতারাও কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন প্রতিবাদ করে নাই বা একটা বিবৃতি দেয় নাই গণহত্যার বিরুদ্ধে। আজ মীর মশাররফ হোসন’র মত সাহিত্যিকরা থাকলে তার লেখনীর মধ্য দিয়ে কলম থেকে আগুন ঝরতো।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা বলেন, আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অনেক সমৃদ্ধি, অনেক উন্নত। পশ্চাতে অনেক কম, তারপরেও এই গুণীজনদেরকে নিয়ে যেইভাবে আলোচনা করা হয়, এইভাবে আমারা আমাদের অঞ্চল এইভাবে সমৃদ্ধ থাকার সত্ত্বেও আমরা তাদের কদর করতে জানিনা। মূলত প্রতিথিযথা ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা করার লক্ষ হলো তারা যে কাজ গুলো করে গিয়েছেন, লেখনীর মাধ্যমে সেই সময়কার সমাজের যে চিত্র তুলে ধরে গিয়েছেন, সেটি নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করা। মীর মশাররফ হোসেন তার লেখনীর মাধ্যমে তৎকালীন সমাজে যে অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন এবং শ্রেণী বিভেদের চিত্র তুলে ধরেছেন। দ্বিতীয় ও শেষ দিনের আলোচনা সভা শেষে জমিদার দর্পন নাটক পরিবেশনা করেন কুমারখালীর বিজয় নাট্যগোষ্ঠী।