বিয়ের প্রলোভনে অসহায় মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্কে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

বিয়ের প্রলোভনে অসহায় মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্কে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: নভেম্বর ১৩, ২০২৩
বিয়ের প্রলোভনে অসহায় মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্কে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়নের শংকরদিয়া গ্রামে একটি অসহায় মেয়ের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বিয়ের প্রলোভনে তার সাথে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘটনা ঘটেছে।

বিয়ের প্রলোভনে অসহায় মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্কে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

বিয়ের প্রলোভনে অসহায় মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্কে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

বিয়ের প্রলোভনে অসহায় মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্কে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়া ঐ লম্পটের নাম জাহিদ (২০)। লম্পট জাহিদ একই গ্রামের কলেজপাড়া এলাকার মৃত. আকালে সর্দারের ছেলে। বর্তমানে তিনি সৌদি প্রবাসী। এদিকে অসহায় মেয়েটি এখন ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তিনি স্ত্রীর দাবি নিয়ে লম্পট জাহিদের বাড়িতে গেলে তার পরিবারের সদস্যরা মেয়েটিকে মারধর করে বের করে দেয়।

যদিও পরবর্তীতে এলাকার কয়েকজন মাতব্বর বিচার করে মেয়েটির বাচ্চা নষ্ট করে ফেলার জন্য জোরপূর্বক ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। এরপরও মেয়েটি বাচ্চা নষ্ট করে না ফেললে তার পরিবারকে এলাকা ছাড়া করার হুমকিও দিয়েছে সেই মাতব্বররা। যার ফলে মেয়েটি ও তার পরিবারকে নিরাপত্তাহীনতায় মধ্যে দিয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। অতি দরিদ্র অসহায় মেয়েটি ও তার পরিবারের পক্ষে প্রশাসনের দ্বার পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা না থাকায় এলাকার মাতব্বররা জাপটে ধরেছেন তাদেরকে।

তবে এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বেশ কিছু সচেতন মানুষ অধিকার আদায়ে মেয়েটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় এলাকাবাসীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার অসহায় মেয়েটি স্ত্রীর দাবি নিয়ে জাহিদের বাড়িতে যায়। সেই দিন ওই মেয়েটিকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় জাহিদের পরিবার।

এরপর শুক্রবার বাদ মাগরিব শংকরদিয়া কলেজপাড়া এলাকার মৃত মুনিব মন্ডলের ছেলে মিন্টু (৪০), একলাছ (৪৫), মৃত তোরাব মন্ডলের ছেলে ঝেন্টু (৪২), আইজদ্দিনের ছেলে আতিয়ার (৪৫), শুভ সর্দারের ছেলে মতিয়ার (৪২) সহ কয়েকজন মাতব্বর বিচার বসান। সেই বিচারে মিয়েটিকে জোর পূর্বক ১০ হাজার টাকা দিয়ে বাচ্চা নষ্ট করে ফেলতে বলা হয়। যদি বাচ্চা নষ্ট করে না ফেলা হয় তবে মেয়েটি সহ তার পরিবারের সবাইকে গ্রাম ছাড়া করার হুমকিও দেওয়া হয়।

অসহায় মেয়েটি জানান, জাহিদের সাথে আমার ১ বছরের প্রেমের সম্পর্ক। জাহিদ বিদেশে যাওয়ার কয়েক মাস আগে থেকেই আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। আমার বাবা বাড়িতে না থাকায় এবং আমার মা বাহিরে যাওয়ার পর জাহিদ সুযোগ বুঝে আমার বাড়িতে এসে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতো। জাহিদের মা আমাদের সম্পর্কের কথা জানতে পেরে জাহিদের কাছ থেকে তার মোবাইল ফোন কেরে নিয়েছিলেন। এরপর জাহিদের পাশের বাড়ির জহুরুলের ছেলে আকাশের মাধ্যমে আবার আমাদের সাথে যোগাযোগ শুরু হয়। এর একপর্যায়ে জাহিদের পরিবার জাহিদকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়। আমার গর্ভে এখন জাহিদের বাচ্চা বড় হচ্ছে। আমি জাহিদকে ভালোবাসি। আমার জীবন থাকতে আমি বাচ্চা নষ্ট করবো না। আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে কিছু মাতব্বর জোর করে আমাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছে। আমি সেই টাকা সে ভাবেই রেখে দিয়েছি। আমি বাচ্চা নষ্ট করে না ফেললে তারা আমার পরিবার সহ আমাদের সবাইকে গ্রাম ছাড়া করার হুমকি দিয়েছেন। দরকার হয় আমি গ্রাম ছেড়ে চলে যাবো, তবুও আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করবো না। এবিষয়ে আমি মহামান্য আদালতে মামলা করবো।

সরেজমিনে সৌদি প্রবাসী লম্পট জাহিদের বাড়িতে গেলে তার দাদি বলেন, আমরা নাতি ছেলে ৪ মাস আগে বিদেশ গিয়েছে। জাহিদের মা বলেন, আমরা ছেলেকে ৬ মাস আগে বিদেশে পাঠিয়েছি। আমার ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে।