শতবর্ষী বিদ্যালয়ের মাঠ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, মানববন্ধন - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

শতবর্ষী বিদ্যালয়ের মাঠ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, মানববন্ধন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: নভেম্বর ১২, ২০২৩
শতবর্ষী বিদ্যালয়ের মাঠ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, মানববন্ধন

১০৪ বছরের ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউরিয়া জয়নাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। শনিবার (১১ নভেম্বর) সকাল ৯ টায় বিদ্যালয়ের মাঠে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর একাংশ উপস্থিত ছিলেন।

শতবর্ষী বিদ্যালয়ের মাঠ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, মানববন্ধন

শতবর্ষী বিদ্যালয়ের মাঠ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, মানববন্ধন

মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জয়নাবাদ জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আতাউল গনি, সদস্য জাহিদুল ইসলাম ঝন্টু, চাপড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রিপন মন্ডল, ১,২,৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার মাজেদা বেগমসহ প্রমূখ। বক্তারা বলেন, প্রায় ৭০ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয় ও খেলার মাঠ রয়েছে। এই মাঠে জানাজার নামাজ, ঈদের নামাজ, খেলাধুলা ওয়াজ মাহফিলসহ বিভিন্ন সভা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে প্রায় ১০৪ বছর ধরে। কিন্তু প্রায় ৭ মাস ধরে বিদ্যালয়ের জমিদানকারীর স্বজনরা বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের ২৫ শতক জমি দখল করে নেওয়ার পায়তারা করছে। এলাকাবাসীর স্বার্থে তাঁরা মাঠ রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত জয়নাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ২৯২ দাগে ৭০ শতাংশ জমিদান করেন স্থানীয় মৃত ইসমাইল বিশ্বাস। ওই জমির সাথে ২৯৩ দাগে আরো ৪৭ শতক জমি রয়েছে জমিদানকারীর। প্রায় ১০৪ বছর ধরে দুইটি দাগের জমির সম্পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে বিদ্যালয় ও মাঠ হিসেবে। এরপর প্রায় সাত মাস আগে জমিদাতার ছয় মেয়ে ও স্বজনরা ২৯৩ দাগের ২৩ দশমিক ৫০ শতাংশ ওয়ারিশসুত্রে দাবি করেছে। এনিয়ে জমিদাতার বড় মেয়ে আনোয়ারা খাতুন এ্যাসিল্যান্ড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এবিষয়ে অভিযোগ করে ইসমাইল বিশ্বাসের নাতনি মৌসুমী খাতুন বলেন, আমরা ওয়ারিশ সুত্রে ২৯৩ দাগে সাড়ে ২৩ শতাংশ জমি পাব। তবে রিপন মেম্বর ও স্থানীয়রা আমাদের দিচ্ছেনা। শনিবার প্রশাসনিকভাবে জমি মাপার কথা ছিল। কিন্তু এ্যাসিল্যান্ড অন্যকাজে ব্যস্ত থাকায় মাপা হয়নি। সেই সুযোগে জামাত – বিএনপির কিছু লোকজন মানববন্ধন করে আমাদের দোষারোপ করছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ৭০ শতাংশের ওপর বিদ্যালয়টি। তবে শতবছর ধরে দুই দাগের জমিই ব্যবহার হচ্ছে বিদ্যালয়ের কাজে। আজ (শনিবার) জমি মাপের জন্য এসেছিলাম। কিন্তু মাপ হয়নি। স্থানীয়রা মানববন্ধন করেছে। চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক মঞ্জু বলেন, ওয়ারিশসুত্র মৌসুমীরা জমি পাবে। আজ মাপও হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশেষ কারনে মাপ হয়নি। সেই সুযোগে কিছু দুষ্কৃতকারী এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছে। আমি সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভ‚মি) মো. আমিরুল আরাফাত জানান, সরকারি বিদ্যালয়ের সীমানা নির্ধারণে জটিলতা নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার পরিমাপের দিনধার্য ছিল। তা বিশেষ কারনে হয়নি। তবে ভবিষ্যতে সুবিধামত সময়ে উভয়পক্ষের উপস্থিতি সঠিক পরিমাপের মাধ্যমে সমাধান করা হবে।