কুষ্টিয়ার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আওয়ামীলীগ সরকার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আওয়ামীলীগ সরকার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: নভেম্বর ৮, ২০২৩
কুষ্টিয়ার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আওয়ামীলীগ সরকার

স্বাধীনতার পর থেকে অবহেলিত এক জনপদ ছিলো সাংস্কৃতির রাজধানী কুষ্টিয়া । ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সরকার দেশের ক্ষমতায় আসার পর কুষ্টিয়া সদর আসনের এমপি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ, আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সদর উদ্দিন খান এবং জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী’র নেতৃত্বে কুষ্টিয়ার সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে ।

কুষ্টিয়ার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আওয়ামীলীগ সরকার

কুষ্টিয়ার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আওয়ামীলীগ সরকার

কুষ্টিয়ার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আওয়ামীলীগ সরকার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বে এবং মাহাবুব উল আলম হানিফ এমপি’র প্রচেষ্টায় কুষ্টিয়া ৬৮২ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল । যার নির্মান কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে । ইতিমধ্যে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজস্ব ক্যাম্পাসে তাদের পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন । আশা করা হচ্ছে অতি দ্রুত হাসপাতালের কর্যক্রম চালু করা হবে ।
কুষ্টিয়াতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ফলে কুষ্টিয়া সহ আশে পাশের জেলা গুলোর মানুষ আরো উন্নত এবং বিশ্ব মানের স্বাস্থ্য সেবা পাবেন । মেডিকেল কলেজ নির্মানের ফলে কুষ্টিয়ার জনসাধারণের স্বাস্থ্য সেবার জন্য রাজশাহী বা ঢাকাতে যাওয়ার আর প্রয়োজন হবে না ।

এছাড়াও কুষ্টিয়া শহরকে যানযট মুক্ত রাখতে ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মান করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩মিটার প্রশস্ত ৬.৬ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বাইপাস সড়কে সংযুক্ত করা হয়েছে ১ টি সেতু, ১ রেল ওভারপাস এবং ২২ টি কালভার্ট । ২০১৮ সালের পহেলা নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে বাইপাস সড়ক উদ্বোধন করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।

প্রায় দুই শত কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া রাজবাড়ী মহাসড়কের ২৮ দশমিক শুন্য ৫৪ কিলোমিটার প্রশস্তকরণ সহ যথাযথ মানে উন্নতিকরণ করা হয়েছে । যার ফলে কুষ্টিয়ার থেকে রাজবাড়ী হয়ে রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ আরো সহজতর হয়েছে ।

কুষ্টিয়াবাসীর বিনোদনের কথা মাথায় রেখে কুষ্টিয়া গড়াই নদীর তীরে প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে ৩০ একর জায়গা জুড়ে নির্মান করা হয়েছে জেলা পরিষদ রবীন্দ্র লালন উদ্যান । যা ইতিমধ্যে কুষ্টিয়াবাসীর মধ্যে ব্যপক সাড়া জাগিয়েছে ।

জনসংখ্যার দিক দিয়ে হরিপুর কুষ্টিয়া সর্ববৃহত ইউনিয়ন । বাংলাদেশ স্বাধীন হাওয়া, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকার আসলেও এই ইউনিয়নের মানুষের জীবন যাত্রার মানে অপরিবর্তিত ছিলো । বিভিন্ন দলের নেতারা প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তাবায়নের জন্য কোন পদক্ষেপ চোখে পড়েনি । ২০ বছর আন্দোলন সংগ্রামের পর অবশেষে হানিফ এমপি’র প্রচেষ্টায় ২০১৩ সালের ১২ ই ডিসেম্বর ৭১ কোটি ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৬৩২ টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর উপর ৫০৫ দশমিক ৫৫ মিটার দীর্ঘ কুষ্টিয়া হরিপুর শেখ রাসেল সংযোগ সেতুর কাজ শুরু হয় এবং ২০১৭ সালের ২৪ শে মার্চ সেতুটি উদ্বোধন করেন মাহাবুব উল আলম হানিফ এমপি ।

কুষ্টিয়ার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আওয়ামীলীগ সরকার

এছাড়ও আওয়ামীলীগের সরকারের আমলে কুষ্টিয়াতে দুইটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া যা কুষ্টিয়া সহ আশে পাশের জেলার শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রসারে গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ।

কুষ্টিয়ায় ১৩ একর জায়গার উপর ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে শেখ কামাল স্টেডিয়াম । বৃহস্পতিবার ১৪ জানুয়ারি ২০২২ সালে বিকেল ৫টার সময় কুষ্টিয়া স্টেডিয়াম মাঠে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০২৩ সালে স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। খুলনা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম হবে শেখ কামাল স্টেডিয়াম। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই স্টেডিয়ামটি নির্মাণ শেষ হলে দীর্ঘদিনের ঝিমিয়ে পড়া কুষ্টিয়া জেলার ক্রীড়াঙ্গণ আবারও প্রাণ ফিরে পাবে। নতুন এই স্টেডিয়ামে ক্রিকেট এবং ফুটবল দুটি খেলাই যাতে অনুষ্ঠিত হতে পারে সেভাবেই নকশা তৈরি করা হয়েছে। ক্রিকেট পিচের পাশেই থাকবে পুরোপুরি একটি ফুটবল মাঠ। জিমনেশিয়াম, সুইমিং পুল, খোলোয়াড়দের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা, আধুনিক গ্যালারি, প্রেস বক্স, সম্প্রচার পিসিআর, প্রেসিডেন্স এরিয়াসহ আন্তর্জাতিক ভ্যেনুর সকল সুযোগ-সুবিধাই থাকবে এই স্টেডিয়ামে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং সোমবার ১৩ ই জুন ২০২২ তারিখে সন্ধায় কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি উদ্বোধন কার হয় । বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পর কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমিকে দ্বিতীয় বৃহত্তম একাডেমি ভবন। এটি নির্মানের ফলে জেলার সাংস্কৃতিক চর্চা বিশ্ব দরবারে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। জেলার কৃষ্টি- কালচারকে দেশ তথা বিশ্ব দরবারে পরিচিত করতে কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। কুষ্টিয়া শিল্পকলাতে আছে ৩টি অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক ফিক্সড অডিটোরিয়াম, মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়াম এবং এরিনা মঞ্চ। এক একর জায়গার ওপর নির্মিত এই কমপ্লেক্স ভবন। বাংলাদেশের মধ্যে এটিই সেরা অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স শিল্পকলা একাডেমী ভবন।

কুষ্টিয়ার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আওয়ামীলীগ সরকার

কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের উন্নয়নে আওয়ামীলীগ সরকারের ভূমিকা আজীবণ মনে রাখবে কুষ্টিয়াবাসী । কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে ছাত্র এবং ছাত্রীদের জন্য নতুন আবাসিক হোস্টেল নির্মান, আধুনিক লাইব্রেরী ভবন নির্মান সহ দশ তলা বিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবন নির্মানের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ।

কুষ্টিয়া জনসাধারনের চাহিদা এবং প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে আওয়ামীলীগ সরকার এর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে কুষ্টিয়ার বটতৈল থেকে মজমপুর হয়ে ত্রিমোহনী পর্যন্ত রাস্তা চার লেনে উন্নতিকরন সহ আধুনিকায়নের কাজ দ্রæত গতিতে এগিয়ে চলেছে । যা প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে ।

আওয়ামীলীগ সরকারের শাসন কালে কুষ্টিয়া সহ সারা বাংলাদেশে নির্মান করা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) । যেখানে বেকার জনগোষ্ঠী বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজ শিখে দেশে এবং বিদেশে সুনামের সাথে কাজ করছেন । যার ফলে টিটিসি দেশের বেকারত্ব দূরী করনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে ।

কুষ্টিয়ার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আওয়ামীলীগ সরকার

এছাড়াও কুষ্টিয়া নির্মান করা হয়েছে আধুনিক পাসপোর্ট ভবন, ১০ তলা বিশিষ্ট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, লাইব্রেরী ভবন সহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আরো অনেক অবকাঠামো । আরো নির্মানাধীন রয়েছে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজ ।

এছাড়াও নদ ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করতে অতি সম্প্রতি ১৪ শ ৭২ কোটি টাকার কাজ একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে । যার ফলে কুষ্টিয়া জেলায় নদী ভাঙ্গনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের সংখ্যা শূন্যেও কোটায় নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।

কুষ্টিয়ার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় আওয়ামীলীগ সরকার

কুমারখালী উপজেলায় প্রায় ছয় লাখ মানুষের বসবাস এ উপজেলায়। পদ্মা ও গড়াই দ্বারা তৃ-বিভক্ত এই উপজেলায় রয়েছে একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন। গড়াই নদীর উপর সেতু না থাকায় দুপাড়ের মানুষ একে অপরকে অপার আর এপারের (দক্ষিণাঞ্চল) মানুষ বলে ডাকাডাকি করে। দক্ষিণাঞ্চলীয় মানুষদের উপজেলা পর্যায়ের সেবা নিতে নৌকার সাহায্য নিতে হয়। এতে একদিকে যেমন সময় অপচয় হয়, অন্যদিকে ভোগান্তি পোহাতে হতো। গড়াই নদীর ওপর চুক্তিমূল্য প্রায় ৮৯ কোটি ৯১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৯১ টাকা ব্যয়ে ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের পিসি গার্ডার ব্রিজ (সেতু) নির্মাণের করা হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ ও কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ ১৭ এপ্রিল ২০১৯ সালে সেতুর কাজের উদ্বোধন করেন এবং বৃহস্পতিবার (২৮ জুন ২০২৩) কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেন।

কুষ্টিয়াবাসীর জন্য রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগের অনন্য দিগন্ত সূচনা হয়েছে গত ২রা নভেম্বর ২০২৩ । ঐ দিন কুষ্টিয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে সরাসরি ঢাকার সাথে রেল যোগাযোগ শুরু হয় । যার ফলে কুষ্টিয়া থেকে মাত্র ৪ ঘন্টায় ঢাকায় পৌঁছাতে পারছেন কুষ্টিয়া বাসী । তবে অনেকই মনে করেন চাহিদার তুলনায় দুইটি ট্রেন খুবই নগন্য । ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবী করেছেন কুষ্টিয়াবাসী । এছাড়াও কুষ্টিয়ার খোকসায় ঢাকা গামী ট্রেন সার্ভিস চালু করার দাবী জানিয়েছেন খোকসাবাসী ।

এছাড়াও ২৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলাধীন গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে জুলাই ২০২৩ হতে জুন ২০২৭ মেয়াদে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেতুটি নির্মাণ করবে। মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩) প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সঙ্গে খোকসা উপজেলা শহরের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন হবে এ সেতুর মাধ্যমে। এর ফলে ওই এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কৃষিপণ্য পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। এর মাধ্যমে শহরের নাগরিক সুবিধা গ্রাম পর্যন্ত সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এলাকার দারিদ্রতা কমবে। সেতুটি খোকসা উপজেলায় গড়াই নদীর ওপর নির্মিত হবে। বর্তমানে ওই এলাকার মানুষ নৌকায় নদী পারাপার হন। যাবতীয় মালামালও নৌকায় পরিবহন করতে হয়। কুষ্টিয়াজেলার খোকসা উপজেলা অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকে থেকে অনেক উন্নত। কুষ্টিয়া জেলার সঙ্গে খোকসা উপজেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে আরও প্রসার লাভে সেতুটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের আওতায় ২৭৯ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ৯৪০ মিটার সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেতু নির্মাণসহ অন্যান্য বিভিন্ন ব্যয়সহ প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। বহুল প্রতীক্ষিত কুষ্টিয়ার খোকসায় জিসি সড়কের ১০০০ মিটার চেইনেজে গড়াই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের খবরে এলাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে।

দেশে চলমান স্থল বন্দরগুলোর পাশাপাশি আরও ৬টি স্থানে স্থল বন্দর চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে প্রস্তাবিত প্রাগপুর স্থল বন্দর অন্যতম। কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে স্থল বন্দর স্থাপনের জন্য জাতীয় সংসদে বিষয়টি একাধিকবার উপস্থাপন করা হয়। এর প্রেক্ষিতে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত স্থল বন্দরগুলোর মধ্যে প্রাগপুর রয়েছে ১ নম্বর অগ্রাধিকারের তালিকায়।

দৌলতপুরের প্রাগপুর সীমান্তে স্থল বন্দর নির্মান বা স্থাপন করা হলে ঢাকার সাথে কলকাতার সড়ক পথে দূরত্ব কমবে। বাংলাদেশের প্রাগপুর সীমান্ত যেখান থেকে সরাসরি ঢাকার সাথে সড়ক পথে যোগাযোগের সুব্যবস্থা রয়েছে। অপরদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার করিমপুর থানার শিকারপুর (রানীনগর) সীমান্ত যেখান থেকে কলকাতায় সরাসরি সড়ক পথে যোগাযোগের সুব্যবস্থা রয়েছে। স্থল বন্দর নির্মানের জন্য উভয় সীমান্তের মাঝে মাথাভাঙ্গা নদীতে শুধুমাত্র ৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ব্রীজ প্রয়োজন। প্রাগপুর সীমান্তে স্থল বন্দর নির্মিত হলে উভয় দেশের আর্থিক খাত সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টগণ।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৮ মে ২০২৩) বিকেলে স্থল বন্দরের জন্য নির্ধারিত স্থান দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার (রাজশাহী) মনোজ কুমার।

উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া জেলার ছয়টি উপজেলায় আওয়ামীলীগ সরকারের শাসন আমলে যে পরিমান অবকাঠামোগত এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তা বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে অন্য কোন সরকার করেনি ।