খোকসায় গড়াই নদীর বালু-মাটি কেটে বিক্রি করছে উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাতিজা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

খোকসায় গড়াই নদীর বালু-মাটি কেটে বিক্রি করছে উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাতিজা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ২৪, ২০২৩

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বনোগ্রাম বাজার সংলগ্ন গড়াই নদী থেকে অবাধে মাটি ও বালু কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। আর এ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন খোদ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুল আখতারের ভাতিজা সাফি আহমেদ।

খোকসায় গড়াই নদীর বালু-মাটি কেটে বিক্রি করছে উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাতিজা

খোকসায় গড়াই নদীর বালু-মাটি কেটে বিক্রি করছে উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাতিজা

খোকসায় গড়াই নদীর বালু-মাটি কেটে বিক্রি করছে উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাতিজা

উপজেলা চেয়ারম্যান চাচার নির্দেশে ভাতিজা সাফি এসব মাটি-বালু কেটে বিক্রি করছেন। প্রতিদিন লাখ টাকার কাছাকাছি মাটি-বালু বিক্রি হচ্ছে অবৈধভাবে। দিনে রাতে সমানে এভাবে নদীর মাটি লুট করা হলেও প্রশাসন বলছে তাদের কিছুই জানা নেই।

অভিযুক্ত সাফির দাবি তার চাচা উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশেই এ মাটি কাটা হচ্ছে।

খোকসায় সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, নদীর পাড়ের নিচ থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে বালু কেটে ট্রলি আর ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশেই শান বাঁধানো একটি বটগাছের ছায়ায় বসে ট্রাক আর ট্রলি চালকদের কাছ বালুর মূল্য বুঝে নিচ্ছেন এক যুবক। সেই সাথে হিসেব টুকে রাখছেন খাতায়।

ক্যামেরা অন করতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। হিসেবের খাতায় লুকিয়ে ফেলেন টাকা আদায়কারী যুবকের এক সহযোগি। তখনও বালু ভর্তি দুটো ট্রলি নদী পাড়ের নিচেই অবস্থান করছিল। পরে ট্রলি চালক­ বালু নিয়ে চলে গেলেও যুবক তাদের কাছ থেকে কোন টাকা নিলেন না। এরই মাঝে সাংবাদিক পরিচয় শুনে যুবক নিজের পরিচয় দিলেন। তিনি খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুল আখতারের ভাতিজা। তার নাম সাফি।

তিনি বললেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশেই এ মাটি কাটা হচ্ছে। ক্যামেরা বন্ধ করেন, নিউজ করা দরকার নেই, চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে কথা বলেন। এ ঘটনা খোকসা উপজেলার বনোগ্রাম বাজার সংলগ্ন গড়াই নদী এলাকার।

স্থাণীয়রা জানান,‘ বনোগ্রাম বাজার সংলগ্ন গড়াই নদীর মাটি লুটপাট চলছে বেশ কিছুদিন ধরে। মাঝে প্রশাসনের চাপাচাপিতে কিছুদিন ধরে মাটি কাটা বন্ধ থাকলেও চলতি সপ্তাহ থেকে ফের শুরু হয়েছে। স্যালো ইঞ্জিন চালিত ট্রলি ও ট্রাকটারে করে এ মাটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এতে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। পাশাপাশি নদী ভাঙনের মুখে পড়ছে বনোগ্রাম বাজার ও আশে পাশের এলাকা। এ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন খোদ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুল আখতারের ভাতিজা সাফি।

তবে সাফির দাবি এ মাটি উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য কাটা হচ্ছে। তবে ট্রলি চালকরা বলছেন, কোন সরকারী প্রকল্পের জন্য নয়, সাফির কাছ থেকে প্রতি গাড়ি মাটি ৪৫০ টাকায় কিনে বিভিন্ন লোকের কাছে বিক্রি করেন তারা। তাদের হিসেবে প্রতিদিন ১০০ থেকে দেড়শ ট্রলি বালু তারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করেন। স্থানীয় মানুষ সব কিছু জেনেও প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ভ্যান চালক বলেন, সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বালু কাটা হয়। উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশেই কাটা হচ্ছে এ বালু ও মাটি। তিনি বলেন, এ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললে তাকে চরম বিপদে পড়তে হবে।’

উপজেলা চেয়ারম্যান বাবুল আখতারের দাবি টিআর প্রকল্পের জন্য সামান্য মাটি কাটা হচ্ছে। দু’একদিনের মধ্যেই এটা বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, এর মধ্যে দুয়েক গাড়ি মাটি কেউ বিক্রি করে থাকতে পারে এটা ধরার মত কোন বিষয় নয়।’

তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার রিপন কুমার বিশ্বাস বলেন, বনোগ্রাম এলাকায় গড়াই নদী থেকে বালু কাটার বিষয়টি তার জানা নেই। এ ব্যাপারে কাউকে অনুমতিও দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন।