কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত হল প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী সংবর্ধনা
ভোরে বৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে পুব আকাশে ঘনকালো মেঘ ছিল। বেলা নয়টার দিকে আবার বৃষ্টি শুরু হয়। তবুও আসতে থাকে শিক্ষার্থীরা। কুষ্টিয়ার শিল্পকলা একাডেমি মুক্তমঞ্চে আয়োজন করলেও বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থীদের নেওয়া হয় মিলনায়তনের ভেতরে। সেখানে হয়ে গেল শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ সংবর্ধনা।

কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত হল প্রথম আলো জিপিএ-৫ কৃতী সংবর্ধনা
কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের জন্য এই আয়োজন করা হয়েছে। এতে অংশ নিতে জেলার প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছে। গানে গানে আর মজার মজার কথার মাঝে আনন্দ বিনোদনে দুইঘন্টা পার করে তাঁরা। আটটা থেকে কৃতী শিক্ষার্থীরা জেলার শিল্পকলা প্রাঙ্গণে আসতে থাকে। কারও কারও সঙ্গে বাবা মা ও স্বজনেরাও এসেছেন। বৃষ্টিতে ভিজেও অনেকে। শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলে এসে নির্দিষ্ট বুথের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ক্রেস্ট ও স্ন্যাকস ব্যাগ সংগ্রহ করে। এরপর সবাই মিলনায়তনের ভেতরে আসনে বসে।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বসন্তপুর সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে অনামিকা ইয়াসমিন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে বলে, বাড়ি ঝিনাইদহে হলেও কুষ্টিয়া থেকে সংবর্ধনা নিতে ভালো লাগছে।
তার সঙ্গে আসা বান্ধবী রুবাইয়া জাহান বলে, ‘২০১৩ সালে বড় বোন হালিমা খাতুনও জিপিএ ৫ পেয়েছিল এবং সংবর্ধনা নিয়েছিল। আজ আমি জিপিএ-৫ পেয়ে প্রথম আলোর সংবর্ধনা নিতে এসেছি। খুবই ভালো লাগছে।’
কুষ্টিয়া শহরের রথখোলা এলাকার বাসিন্দা জয়ন্তী সাহা তাঁর মেয়ে প্রতিমা সাহাকে নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘সকাল সকাল মেয়েকে নিয়ে এখানে আছি। অনুষ্ঠান দেখে আনন্দ পাচ্ছি।’
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এ এস এম মুসা কবির। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কখনো হতাশ হবে না। হতাশ হয়ে নিজের জীবনকে শেষ করবে না। আবেগে ভুল পথে পা বাড়াবে না। তোমাদের এই সময়টা খুবই স্পর্শকাতর সময়। নিজেকে এগিয়ে নিতে নিজের জীবনকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতে হবে। তবেই তুমি সফলতার শীর্ষে যেতে পারবে। বিশ্ব তোমাকে চিনবে,তোমার দেশকে জানবে।’
![]()
কুষ্টিয়া বন্ধুসভার অর্থ সম্পাদক নাবিলা নূর তন্বীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন প্রথম আলোর উপ-সম্পাদক এ কে এম জাকারিয়া। তিনি সবাইকে মুখস্ত, মিথ্যা ও মাদককে না বলার শপথ করান। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানুষ হয়ে দেশ গড়ার আহবান জানান।
এছাড়া অনুষ্ঠানে দুই পা অচল কুষ্টিয়ার শিল্প উদ্যোক্তা প্রকৌশলী সাইফুল আলম তাঁর সংগ্রামী জীবনের কিছু কথা তুলে ধরেন। সামনে এগিয়ে যাবার অনুপ্রেরণা দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু ও সমাজসেবক প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন কুষ্টিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদী হাসান। বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে। জিপিএ ৫ পাওয়া অন্তত সাতজন শিক্ষার্থী গান পরিবেশন করে। অনুষ্ঠান শেষে মিলনায়তন থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা বন্ধুদের সাথে ফটো ফ্রেমের ভেতর দাঁড়িয়ে হাসিমুখে ছবি তোলে। মুক্তমঞ্চে মূল ব্যানারের সামনে দাঁড়িয়ে ক্রেস্ট হাতে অনেকে মোবাইলফোনে ছবি তুলে রাখে।
দিনব্যাপী উৎসবে শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল ক্রেস্ট, অনলাইনে সার্টিফিকেট, প্রথম আলো ই- পেপার (১ মাস) ও চরকির (১৫ দিন) ফ্রি সাবস্ক্রিপশন, শিখোর সৌজন্যে বিনামূল্যে কোর্স ও ফ্রেশ ব্র্যান্ডের স্ন্যাকস।
সারা দেশের ৬৪টি জেলায় প্রথম আলোর আয়োজনে ও শিক্ষার ডিজিটাল প্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় জিপিএ-৫ উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের উৎসবটি পাওয়ার্ড বাই ‘বিকাশ’। সহযোগিতা করছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।
