কুষ্টিয়া জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ২৬, ২০১৫

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা কুষ্টিয়া। একদিকে এর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যেমন বিখ্যাত লালন শাহের আখড়া, কুমারখালির সাহিত্যচর্চা, ও রবীন্দ্র স্মৃতি—তেমনি গুরুত্বপূর্ণ এর ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা। আজকের আলোচনার মূল বিষয় কুষ্টিয়া জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, যা জেলার অর্থনীতি, সমাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

কুষ্টিয়া জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা

গোপীনাথ জিউর মন্দির – কুষ্টিয়া জেলা

 

কুষ্টিয়া জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা

সড়ক যোগাযোগ

কুষ্টিয়া জেলাটি দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জেলার সঙ্গে সড়কপথে সরাসরি যুক্ত। জাতীয় মহাসড়ক এবং আঞ্চলিক সড়কগুলো জেলার কেন্দ্রস্থল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত পৌঁছার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। নিচে কুষ্টিয়া সদর থেকে বিভিন্ন জেলার দূরত্ব উল্লেখ করা হলো:

জেলার নাম দূরত্ব (কি.মি.)
চুয়াডাঙ্গা ৪৯
যশোর ৯৭
ঝিনাইদহ ৪৬
খুলনা ১৫৮
মাগুরা ৭৩
মেহেরপুর ৫৮
বগুড়া ২২৪
পাবনা ৬৬
রাজশাহী ১৩৭
দিনাজপুর ৪০৯
রংপুর ৩৩০
সিলেট ৬২৩
বরিশাল ২৬৪
চট্টগ্রাম ৫৪১
কুমিল্লা ৩৭৩
কক্সবাজার ৫৭৯
রাঙ্গামাটি ৬১৬
ঢাকা ২৭৭
ফরিদপুর ১৩২
গাজীপুর ১৮৪
ময়মনসিংহ ৪৭০
রাজবাড়ী ৬৫

এই তালিকা স্পষ্ট করে দেয় যে কুষ্টিয়া থেকে সড়কপথে বাংলাদেশের প্রায় সবকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ বিদ্যমান। আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস, স্থানীয় পরিবহন ও সড়ক পরিকাঠামোর আধুনিকায়ন এই সংযুক্তিকে আরও গতিশীল করেছে।

google news

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বৃহত্তর কুষ্টিয়া

ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে কুষ্টিয়া ছিল একটি বৃহৎ প্রশাসনিক অঞ্চল। একসময় কুষ্টিয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর, যারা পরবর্তীকালে পৃথক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই তিন জেলার মানুষ আজও “বৃহত্তর কুষ্টিয়া” পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক আত্মপরিচয়ের এক অপূর্ব মিল লক্ষ্য করা যায়।

এ কারণেই আজও বিভিন্ন সংগঠন যেমন —

  • বৃহত্তর কুষ্টিয়া এসোসিয়েশন,
  • বৃহত্তর কুষ্টিয়া সমাজ
    এই তিন জেলার মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার উপজেলাগুলো

এই ঐতিহাসিক অঞ্চলের আওতাভুক্ত উপজেলাগুলো হলো:

  • কুষ্টিয়া জেলা: কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালি, খোকসা, দৌলতপুর, ভেড়ামারা, মিরপুর
  • মেহেরপুর জেলা: মেহেরপুর সদর, গাংনী, মুজিবনগর
  • চুয়াডাঙ্গা জেলা: চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা, জীবননগর

এছাড়া, এসব উপজেলার মধ্যেও উন্নত সড়ক যোগাযোগ ও আন্তঃউপজেলা পরিবহন ব্যবস্থা বিরাজমান, যা কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা এবং চিকিৎসা সেবার আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

কুষ্টিয়া জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা

রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ী – কুষ্টিয়া জেলা

 

কুষ্টিয়া জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা শুধুমাত্র চলাচলের মাধ্যম নয়, এটি এই জেলার মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অগ্রগতির সেতুবন্ধন। সড়কপথে ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগীয় শহরের সঙ্গে এর কার্যকর সংযোগ কুষ্টিয়াকে জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করেছে। বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলের মানুষ তাদের অতীত ঐতিহ্য আর আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর ভর করে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে।