কুষ্টিয়া জেলার পেশা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া জেলার পেশা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ১৭, ২০১৫

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় কুষ্টিয়া জেলার পেশা।

কুষ্টিয়া জেলার পেশা:-

বাংলাদেশের অন্যান্য বিভিন্ন অঞ্চলের মতো কুষ্টিয়া কেবল চাষাবাদের উপর নির্ভরশীল নয়। চাষাবাদের পাশাপাশি কুষ্টিয়ায় শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। কুষ্টিয়ায় অনেক তামাকের কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে নাসির টোব্যাকো লিমিটেড, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, দি ইউনাইটেড ঢাকা টোব্যাকো, পারফেক্ট টোব্যাকো উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক তার তৈরির কারখানা বি.আর.বি. কেবলস কুষ্টিয়ায় অবস্থিত।

জেলার কুমারখালি উপজেলায় গড়ে উঠেছে উন্নতমানের ফ্রেব্রিকস শিল্প। এখানে উৎপাদিত ফ্রেব্রিকস সামগ্রী দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এছাড়া কুষ্টিয়ায় অসংখ্য চালের মিল রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম মা ভান্ডারী অটো রাইচ মিল। বিভিন্ন কলকারখানা গড়ে ওঠায় এককভাবে কৃষিকাজের উপর নির্ভরতা কম।

 

কুষ্টিয়া জেলার পেশা

পাকশী রেল সেতু – কুষ্টিয়া জেলা

 

আনুষ্ঠানিকভাবে ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ সালে ভারতভাগের সূত্র ধরে বর্তমান কুষ্টিয়া জেলা পাকিস্তানের অংশ হয়ে পূর্ব বাংলার অন্তর্ভুক্ত হয়। তার আগে ছিল মহকুমা হিসেবে অবিভক্ত বাংলার প্রেসিডেন্সি বিভাগের অন্যতম নদীয়া জেলার অংশ। পেছনে রয়েছে আরো ইতিহাস।

 

google news

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

ইতিহাসবিদ কুমুদনাথ মল্লিক তার ‘নদীয়া কাহিনী’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ‘কুষ্টিয়া জেলার প্রাচীন ইতিহাস জানা যায় না।’ কুষ্টিয়া নামকরণেও প্রচলিত নানা কথা। ১৮২০ সালে হ্যামিলটনের গেজেটিয়ারে উল্লেখ আছে যে স্থানীয় জনগণ একে ‘কুষ্টি’ বলে ডাকত, সেজন্য নাম হয়েছে কুষ্টিয়া। অনেকের মতে ফারসি শব্দ ‘কুশতহ’ যার অর্থ ‘ছাই দ্বীপ’ থেকে কুষ্টিয়ার নামকরণ হয়েছে। এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে ‘কুষ্টা’ (পাট) জন্মায় বলে এ নামের সৃষ্টি হতে পারে।

সম্রাট শাহজাহানের (১৫৯২-১৬৬৬) আমলে স্থানটি গড়ে উঠেছিল পাট ব্যবসাকেন্দ্রিক নৌবন্দর হিসেবে এবং ওই সময় কুষ্টি বন্দরকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া শহরের উত্পত্তি ঘটেছে। পাটের স্থানীয় পরিভাষা এখনো কুষ্টা। অনেকে মনে করেন, কুষ্টা থেকে কুষ্টিয়া নামের উত্পত্তি।

 

কুষ্টিয়া জেলার পেশা

মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা – কুষ্টিয়া জেলা

 

কুষ্টিয়া নামকরণের ব্যাপারে বেশকিছু যুক্তি আছে। এ জেলার অনেক মানুষ এখনো কুষ্টিয়াকে ‘কুইষ্টে’ বা ‘কুষ্টে’ বলে অভিহিত করে। তাই ধারণা করা যুক্তিযুক্ত যে কুষ্টে শব্দ থেকে কুষ্টিয়া নামটি এসেছে। ইতিহাস বলছে, এ অঞ্চলের ও অবিভক্ত নদীয়া জেলার আদি বাসিন্দাদের মুখের ভাষার সঙ্গে আধুনিক প্রমিত বাংলার ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে। নদীয়া জেলায়ও এ মহকুমাকে ‘কুষ্টে’ বা ‘কুইষ্টে’ নামে ডাকার দীর্ঘ প্রচলন লক্ষ করা যায়।

আরও পড়ুনঃ