কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আয়োজনে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময় - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আয়োজনে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময়

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৩
কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আয়োজনে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময়

কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আয়োজনে “গণমাধ্যমে হলুদ সাংবাদিকতা প্রতিরোধ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা” সম্পর্কিত সেমিনার ও মতবিনিয়ম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আয়োজনে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময়

কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আয়োজনে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময়

কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আয়োজনে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময়

মঙ্গলবার (১২সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার সময় কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজের কনফারেন্স রুমে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবদুল ওয়াদুদ।

google news

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেমিনারের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হক নাসিম। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন,কুষ্টিয়া জেলা তথ্য অফিসার মোঃ আমিনুল ইসলাম। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল)আবু রাসেল। সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, দি নিউ নেশন পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি আফরোজা আক্তার ডিউ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি মিলন উল্লাহ, নিউজ টুয়েন্টি ফোর টিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জাহিদুজ্জামান, স্থানীয় দৈনিক, এসএ টিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি নুর আলম দুলাল।

বাংলাভিশন টিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হাসান আলী, স্থানীয় দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা পত্রিকার সম্পাদক আব্দুর রশিদ চৌধুরী, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি আরিফ মেহমুদ, স্থানীয় দৈনিক সাগরখালী পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার প্রমুখ।

সভায় প্রধান অতিথি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ নিজামুল হক নাসিম বলেন, স্বাধীনতার সুতিকাগার কুষ্টিয়া জেলা। কেউ যদি বাঙ্গালী বলে পরিচয় দেয়, তাহলে তাকে কুষ্টিয়াকে মানতে হবে। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালের ১৪ফেব্র“য়ারি প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রেস কাউন্সিল আইন প্রনয়ন করেন। বঙ্গবন্ধু সাংবাদিকদের অত্যন্ত আপন মনে করতেন। তিনি সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করতেন। সাংবাদিকদের খুবই শ্রদ্ধা করতেন। বঙ্গবন্ধু মনে করতেন না, সাংবাদিকদের ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ দিয়ে হয়রানি করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছা ছিল কোন সাংবাদিকের হাতে যেন হাতকড়া না পড়ে। সাংবাদিকদের আইনের মাধ্যমে উন্নয়ন করতে হবে।

প্রধান অতিথি আরো বলেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংবাদপত্রের মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি হলুদ সাংবাদিকতা প্রতিরোধে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এক কথায় যে মাধ্যমটির মাধ্যমে জনগণের কথা প্রকাশ পায় তা হলো ‘গণমাধ্যম’। গণমাধ্যম, সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মীকে (সাংবাদিক) বলা হয় ‘চতুর্থ রাষ্ট্র; জাতির বিবেক, জাতির দর্পণ, আয়না।’ আর এই সাংবাদিকরা সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে কাজ করেন। সংবাদপত্র সমাজ ও রাষ্ট্রের আয়না। সংবাদপত্র থেকে জাতির পাশাপাশি রাষ্ট্র উপকৃত হয়। রাষ্ট্রে সংবাদপত্র যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তেমনি স্বাধীনতা ও স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বও রয়েছে। সংবাদপত্র নৈতিকতার চর্চা করে। বিবেককে শাসন করে। সমাজের পাশাপাশি রাষ্ট্রকেও বদলে দিতে পারে। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের নৈতিকতা কোথায় স্খলিত হচ্ছে তা সংবাদপত্রগুলো নির্দেশ করে। এর পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও বহুদিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দেশের সংবাদপত্র শিল্পকে গতিশীল, জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে কাজ করছে। একদিকে এই সংস্থা সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করে।

একই সঙ্গে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। কুষ্টিয়া থেকে কাঙাল হরিনাথ সম্পাদিত ‘গ্রামবাংলা প্রকাশিকা’ পত্রিকা শিল্পকে পাঠকের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসে। সংবাদপত্রগুলো নির্দিষ্ট নীতি দ্বারা পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক প্রবর্তিত আচরণবিধি, হাউসের নিজস্ব নীতি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রবর্তিত নীতির ভিত্তিতে সংবাদপত্রটি পরিচালিত হয়। গণমাধ্যমকর্মী বা গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করার জন্য ‘প্রেস কাউন্সিল’ রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মনে করেন যে, তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম বা গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘প্রেস কাউন্সিলে’ অভিযোগ করতে পারেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন বা বিধি রয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকরা কোনো ধরনের নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হলে প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করতে পারেন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা এবং নৈতিকতা বা আদালত অবমাননার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের, মানহানি বা অপরাধের জন্য উস্কানি দেওয়া স্বাধীনতার নিশ্চয়তা ছিল। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হওয়ার আগেই বাংলাদেশের মানুষ সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে।

দেশের অগ্রগতির জন্য সংবাদপত্র যেমন প্রয়োজন তেমনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও জরুরি। এর পাশাপাশি সাংবাদিকদের স্বাধীনতাও জরুরি। একজন স্বাধীন সাংবাদিক যিনি কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন । তার এমন একটি সংবাদপত্র দরকার, যেখানে পেশাদারিত্ব প্রাধান্য পাবে। মালিকপক্ষের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। আজ পত্রিকার মালিকরা সম্পাদক। সারা জীবন পেশায় কাটিয়ে তিনি একজন পুঁজিপতির অধীনস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু এটা কি স্বাধীন সাংবাদিকতা হবে? এভাবে ধীরে ধীরে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। এখানে প্রকৃত সাংবাদিকদের স্বাধীনতা যেমন খর্ব করা হচ্ছে, তেমনি রাজনৈতিকভাবে সাংবাদিকতা সবসময় হুমকির মুখে।

আরও পড়ুন: