কুষ্টিয়ায় উচ্চাদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাততলা ভবনের নির্মাণ কাজ করছেন এক প্রভাবশালী
কুষ্টিয়ায় উচ্চাদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিবাদমান জমিতে বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করার অভিযোগ উঠেছে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। তিনি ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের নাম ব্যবহার করে কাজ করে যাচ্ছেন। ভুক্তভোগী থানায় গিয়ে অভিযোগ দিলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। উচ্চ আদালতে অবকাশকালীন বেঞ্চ চলার সুযোগে গভীর রাত পর্যন্ত অর্ধশত শ্রমিক লাগিয়ে তড়িঘড়ি কাজ শেষ করার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই ভুক্তভোগীর।

কুষ্টিয়ায় উচ্চাদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাততলা ভবনের নির্মাণ কাজ করছেন এক প্রভাবশালী
ভুক্তভোগী অসহায় নারী বলেন, ‘শহরের প্রাণ কেন্দ্র আর. এ খান চৌধুরী সড়কে সালেক মোহম্মদ কাদেরী নামে ওই ব্যক্তি হাইকোর্টের ‘‘স্ট্যাটাস- কো’’ নিষেধাজ্ঞার আদেশ অমান্য করে সাততলা ভবন নির্মান করছেন। হাইকোর্টের আদেশের কপি কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার ও মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে দেয়া হলেও তারা কোন সহযোগীতা করছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নিশাত পারভীন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আশিকুর রহমান বলেন, হাইকোর্টে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আদেশ বাস্তবায়ন করতে পুলিশকে কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি।
সুত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর মৌজার আর.এস ২৫৯৫ দাগে দুই শতক ২৩ পয়েন্ট জমি শরিকানাসুত্রে প্রাপ্ত হন দুই বোন লাইলা পারভীন ও নিশাত পারভীন। শহরের প্রাণ কেন্দ্র আর.এ খান চৌধুরী সড়কের প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের উক্ত সম্পত্তি দীর্ঘদিন দখল করে রেখেছিলেন সালেক মোহম্মদ কাদেরী নামে প্রভাবশালী ওই ব্যক্তি। উক্ত সম্পত্তির মধ্যে এক শতক ৬০ পয়েন্ট জমি ফেরত দিলেও ৬৩ পয়েন্ট জমি জোরপূর্বক দখল করে রাখেন। এনিয়ে কুষ্টিয়া সদর সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা করেন নিশাত পারভীন। উক্ত মামলায় আদালত নালিশী সম্পত্তিতে সকল ধরনের স্থাপনা নির্মানে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। সদর সহকারী জজ আদালতের উক্ত নিষেধাজ্ঞার আদেশের বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে মিস আপীল দায়ের করেন সালেক মোহম্মদ কাদেরী। জেলা জজ আদালত নিম্নআদালতে নিষেধাজ্ঞা ভ্যাকেট করে তার পক্ষে আদেশ প্রদান করেন।
জেলা জজ আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে সিভিল রিভিশন মামলা দায়ের করেন নিশাত পারভীন। যার সিভিল রিভিশন মামলা নং ২৯৫৪/২৩। মহামান্য হাইকোর্ট গত ১৩ জুলাই নালিশী জমি হস্তান্তর ও কোন প্রকার ইমারত তৈরি না করতে ছয় মাসের ‘‘স্ট্যাটাস-কো’’ নিষেধাজ্ঞা জারী করেন হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারক মি. জাকির হোসেন।
![]()
কিন্তু মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার আদেশ অমান্য করে শহরের প্রাণ কেন্দ্র আর.এ খান চৌধুরী সড়কে বিবাদমান উক্ত জমিতে সাততলা ভবনের নির্মান শুরু করেছেন প্রভাবশালী সালেক মোহম্মদ কাদেরী। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হাই ভোলটেজ লাইট জ¦ালিয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট মাটি কেটে গর্তের মধ্যে ব্যাচের রড বাধছেন শ্রমিকরা। কাজের পাশেই চেয়ার পেতে কয়েকজন ক্যাডার নিয়ে বসে আছেন সালেক মোহম্মদ কাদেরী। শনিবার সকাল থেকে প্রায় একশ শ্রমিক নিয়ে তড়িঘড়ি করে ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন।
ভুক্তোভোগী নিশাত পারভীন হাইকোর্টের আদেশের কপি কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার ও মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগসহ জমা দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ নির্মান কাজ বন্ধে কোন সহযোগীতা করছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নিশাত পারভীন। মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার আদেশ অমান্য করে পেশীশক্তি ব্যবহার করে ভবনের নির্মান কাজ অব্যাহত রেখেছেন।
ভুক্তোভোগী নিশাত পারভীন বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার আদেশ অমান্য করে ভবনের নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বারবার হস্তক্ষেপ কামনা করলেও তারা কোন সহযোগীতা করছেন না। উল্টো বলছেন উপরের নির্দেশ আছে, ওই জমির ওখানে যাওয়া যাবে না। নিষেধাজ্ঞার আদেশ অমান্য করে হুমকি ও ভয়ভীতির শক্তি প্রদর্শন করে ভবনের নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখায় আমি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। অভিযোগের বিষয়ে সালেক মোহম্মদ কাদেরীর সাথে কথা হলে বলেন,‘ বিষয়টি সঠিক নয়। নিয়ম মেনে কাজ করছেন তিনি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আশিকুর রহমান বলেন, হাইকোর্টে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আদেশ বাস্তবায়ন করতে পুলিশকে কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। জমি-জায়গার বিষয়ে পুলিশ কোন হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রকিব বলেন, ওই জমি নিয়ে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা বিষয়টি আমি শুনেছি। কিন্তু জমি-জায়গার বিষয়ে আমাদের কিছুই করার নেই। আদালতের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
