স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা আ.লীগের আলোচনা সভা
যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে তারাই শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল এদেশীয় কুচক্রিমহল।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা আ.লীগের আলোচনা সভা
এ সময় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। জাতির পিতার হত্যাকান্ডের পর প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেছিলেন বাংলার মানুষের মুক্তির দূত, গণতন্ত্রের মানষ কন্যা শেখ হাসিনা। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর সৌজন্যে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছিলেন।
সেখানে থাকা অবস্থায় ১৯৮১ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আওয়ামীলীগের কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে সর্বসম্মতিক্রমে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছিল। পরে শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং স্বাধীনতার মূল্যবোধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়েছে।
দেশ ও জাতির কল্যাণে, আধুনিক এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ায় অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন শেখ হাসিনা। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামীলীগের ৪০ হাজার নেতাকর্মী হামলা মামলার শিকার হয়েছিলেন। ২১আগষ্ট গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল এদেশে লুকিয়ে থাকা পাকিস্তানী প্রেত্মারা।
তারেক জিয়া এখন বিশাল নেতা। তার কথায় বিদেশীরা চলে। বিএনপি-জামায়াতরা যা পাই, তাই খায়। আর আওয়ামীলীগরা ভাগ করে খায়। যে পার্টির নেতা চোর, যে পার্টির নেতা ২১আগষ্ট হামলার আসামী। তারা কিভাবে দেশ চালাবে।
সামনে জাতীয় নির্বাচন। আমাদের যে অবস্থা তা তুলে ধরার মত অবস্থা কম। আগামী নির্বাচনে কিভাবে জয় লাভ করা যায়, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। খোকসা থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত দলের মধ্যে কি যে অবস্থা তা বলার মত না। থানা পর্যায়ে অভ্যন্তরিন কোন্দল কম। তবে জেলায় বেশি। এ থেকে উত্তরন হয়ে যার যার অবস্থান থেকে দল যাতে ভালো থাকে এ জন্য এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া দল যাতে সুসংগঠিত থাকতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে বিএনপি জামায়াতের সকল অপকর্মের দাতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে। কুষ্টিয়ায় বাঙালির চিরঞ্জীব আশা ও অনন্ত অনুপ্রেরণার উৎস শেখ হাসিনার ৪২তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
বুধবার (১৭ মে) বিকাল ৩টার সময় কুষ্টিয়া শহরের এন এস রোডে বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে জেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খাঁন এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলীর পরিচালনায় সভার শুরুতে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কুষ্টিয়া জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী হারুন অর রশীদ।
সভায় বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি রবিউল ইসলাম, সহ-সভাপতি ডাঃ আ ফ ম আমিনুল হক রতন, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক বাবু স্বপন কুমার ঘোষ, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডঃ হাসানুল আসকার হাসু, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, দপ্তর সম্পাদক আলহাজ্ব তরিকুল ইসলাম মানিক, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডঃ হারুন অর রশীদ, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ।
জেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মমিনুর রহমান মোমিজ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মীর শওকত আলী বকুল, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডঃ শীলা বসু, কুষ্টিয়া জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জেব-উন-নিসা সবুজ, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য, সাবেক ছাত্র নেতা হাবিবুল হক পুলক, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডঃ আ স ম আক্তারুজ্জামান মাসুম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজাউল হক, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক প্রমুখ।
