বিদ্যালয়ের জায়গা ভাড়া নিয়ে অসামাজিক কাজ, উচ্ছেদ অভিযান
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ঐতিহ্যবাহী মথুরানাথ (এমএন) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জায়গা ভাড়া নিয়ে চায়ের দোকানের আড়ালে জাহিদ, লালু ও সোনাই নামে তিন দোকানীর বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যাক্রম পরিচালনা ও শিক্ষার্থীদের কাছে সিগারেট বিক্রির অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।

বিদ্যালয়ের জায়গা ভাড়া নিয়ে অসামাজিক কাজ, উচ্ছেদ অভিযান
রোববার (২৭ আগষ্ট) দুপুরে কুমারখালী এমএন পার্ক এলাকায় অভিযান চালিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিযানে তিনটি দোকান ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, গড়াই নদীর কূল ঘেঁষে ঐতিহ্যবাহী এম এন মাধ্যমিক অবস্থিত। বিদ্যালয়ের প্রাচীরের সামনের কয়েকটি চায়ের দোকান ভাঙা হয়েছে। দোকানীরা মালামাল সরিয়ে নিচ্ছে। জানা গেছে, প্রায় মাসখানেক আগে দোকান গুলো উচ্ছেদ করার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন স্থানীয় ৬৭ জন।
এবিষয়ে স্থানীয় রাশিদুজ্জামান ও আজিম উদ্দিন বলেন, এম এন পার্কে নানা বয়সি মানুষ বিনোদনের জন্য আসে। কিন্তু জাহিদ চায়ের দোকানের ভিতরে পর্দা টাঙিয়ে যুগল – যুগলীদের অসামাজিক কাজে সহযোগীতা করত। সকল দোকানদারই শিক্ষার্থীদের কাছে সিগারেট বিক্রি করত। এতে পার্কের পরিবেশ নষ্ট হতো। সেজন্য তারা লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।
দোকানী জাহিদ রুক্ষ ভাষায় বলেন, তিনি ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করেন। তার কাছে ভাল – মন্দ সব লোকই আছে। শিক্ষার্থীরা সিগারেট কিনলে তার কি করার আছে। এটা তার ব্যবসা। এখন তো সব জায়গায়ই অনেক কিছু হয়।

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে দোকানের ভিতরে সিগারেট টানে। বিভিন্ন ছেলেমেয়ে এসে অসাসাজিক কাজ করে। এতে পার্কের সুন্দর্য নষ্ট হচ্ছিল। সেজন্য দোকান গুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে।
কুমারখালী মথুরানাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ মো. বাশার বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে মাত্র ৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে দোকানদারেরা ব্যবসা করছিল। তবে দুইমাস আগে ভাড়া বাড়িয়ে ২০০ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু দোকানের আড়ালে ব্যবসায়ীরা অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা ও শিক্ষার্থীদের কাছে সিগারেট বিক্রি করছিল। সেজন্য এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে দোকান গুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে।
