কাঞ্চনপুরে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও সিরিজ বোমা হামলা উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও শহর আওয়ামী লীগের যৌথ উদ্যোগে মাসব্যাপী শোকাবহ আগস্টের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কাঞ্চনপুরে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও সিরিজ বোমা হামলা উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
মাসব্যাপী কর্মসূচির ১৭তম দিনে বিকেল ৫টার দিকে কাঞ্চনপুর বাজারে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও ১৭ আগস্ট ২০০৫ সাল সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সেকেন্দার আলী এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক রহিদুল ইসলাম এর পরিচালনায়, প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. আ স ম আক্তারুজ্জামান মাসুম। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক, সহ-সভাপতি একরামুল হক, কাঞ্চনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাদের, সদস্য মনোয়ার হোসেন ও মহর আলী, আলামপুর বালিয়াপাড়া কলেজ অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক। এদিকে কুষ্টিয়া শহর ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আয়োজনে একই অনুষ্ঠান সন্ধা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের ৪নং পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উক্ত প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা উপস্থিত ছিলেন। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডাঃ আমিনুল হক রতন ও এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. হাসানুল আসকর হাসু, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ। ৩নং ওয়ার্ডে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুস সামাদ, পরিচালনা করেন সাধারন সম্পাদক মতিউর রহমান। উপস্থাপনা করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নান্টু। এসম আরো উপস্থিত ছিলেন, শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর মীর রেজাউল ইসলাম বাবু, কুষ্টিয়া নাগরিক পরিষদের সভাপতি সাইফুদৌলা তরুন, শহর ছাত্র লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জাহিদুর রহমান সর্দার পাভেল, শহর যুবলীগ নেতা আলমগীর শেখ প্রমূখ।
বক্তারা, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ও ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা সহ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার কথা উল্লেখ করে ব্যাপক আলোচনা করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালির জীবনে নেমেছিলো কালোরাত। সেদিন জাতি হারিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের মহানস্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তাকে সহ তার পরিবারের সদস্যদের ঘাতকরা নির্মম ভাবে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া আমরা স্বাধীনতা পেতাম না। ঘাতকেরা সেদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে খান্ত হয়নি। ২১ আগস্টে বঙ্গকত্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছিলো। আবার ২০০৫ সালের ১৭ই অগাস্ট বাংলাদেশের ৬৩টি জেলায় একযোগে চালানো সিরিজ বোমা হামলা। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নিজেদের সংঘবদ্ধ উপস্থিতির ঘোষণা করেছিল জঙ্গিরা। তখন জঙ্গিরা ছিল খুবই সুসংগঠিত। আজ সেই অশান্তির দেশে শান্তি ফিরিয়ে এনেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার।

বক্তারা বলেন, জামাত-বিএনপির দোষররা আবারো দেশকে নিয়ে যে ষড়যন্ত্র করছে তা আর সফল হবে না। কারন তারা উন্নয়নে বিশ্বাসী না। জামাত-বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী শুরু হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নত অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে। সকলকে মনে রাখতে হবে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আবারো চাঁদা দিয়ে চলতে হবে। যারা প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধু সহ তার পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করেছিলো। তারা হত্যার রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই করবে না। দেশটাকে বিক্রি করে দিতে চাই তারা। জামাত-বিএনপি মিথ্যা প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বিএনপি-জামাতের মুখে মিষ্টি’ অন্তরে বিষ। তারা কখনো দেশের মানুষের ভালো চাইবে না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে উন্নয়ন হয়। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সন্ত্রাস তৈরী হয়। জালাও পোড়াও ছাড়া তারা রাজনীতি বোঝে না। আগুন সন্ত্রাসী করে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে, আর আওয়ামী লীগ বসে থাকবে’ সেটা হবে না। বিএনপির রাজনীতি রক্ত দিয়ে, আর আওয়ামী লীগের রাজনীতি উন্নয়ন নিয়ে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপির বিকল্প নেই। জনগন যদি দেশের উন্নয়ন চাই তাহলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনগনের ভোটে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার গঠিত হবে।
