ঢাবি, রাবি ও গুচ্ছতে সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারছেনা কুমারখালীর আহাদ
২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সি গ্রুপে ১৫২৭ তম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩১ তম এবং গুচ্ছ অন্তর্ভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০৮১ তম, ৬৪.২৫ মার্ক পেয়েও টাকার অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর দরিদ্র পরিবারের সন্তান আহাদ ইসলামের।

ঢাবি, রাবি ও গুচ্ছতে সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারছেনা কুমারখালীর আহাদ
মেধাবী শিক্ষার্থী আহাদের স্কুল জীবন থেকেই আর্থিক অনটন ছিলো নিত্যসঙ্গী। মেধার জোরে সব বাধা জয় করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও আবার সেই আর্থিক দুশ্চিন্তাই তাকে ঘিরে ধরেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পরবর্তী অর্থের যোগান কিভাবে হবে? এই শঙ্কায় দিন কাটছে আহাদ ও তার পরিবারের। আহাদ কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের দিনমজুর আব্দুল্লাহ মন্ডল ও মর্জিনা খাতুনের সন্তান।
আহাদ জানান, তারা দুই ভাইবোন। বড় বোন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ালেখা করা অবস্থায় আর্থিক অনটনের কারণে বাবা বোনকে বিয়ে দিয়ে দেন। টাকার অভাবে নামীদামী স্কুলে ভর্তি হতে না পেরে স্থানীয় হাসিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে ৪.৭৮ পেয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ভর্তি হয়ে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তির্ন হন আহাদ। তাদের বাড়ির জায়গা মাত্র ৩ শতাংশ, মাঠে কোন সম্পত্তি নেই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তার বাবা অন্যর জমিতে কাজ করে দিনশেষে যে টাকা উপার্জন করেন সেটাই দিয়েই চলে তাদের সংসার সহ চিকিৎসা ও লেখাপড়া।
ছোটকাল থেকেই সহপাঠীদের বই নিয়ে কখনও কখনও বই ফটোকপি করে লেখাপড়া চালিয়েছেন। কিন্তু এই পর্যায়ে এসে হতাশা তাকে ঘিরে ধরেছে। ভর্তির জন্য ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা সহ আরো অনেক খরচ কিভাবে যোগাড় হবে এই আশংকায়। আহাদ চ্যাটার্ট একাউন্টেন্ট হতে চান। সমাজের বিত্তবানদের কাছে স্বপ্নপূরণের আকুতি আহাদের।
![]()
