জেলায় মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে যুবসমাজকে কর্মমুখি হতে হবে : ডিসি এহেতেশাম রেজা
জেলায় মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে যুবসমাজকে কর্মমুখি হতে হবে : ডিসি এহেতেশাম রেজা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন সেইপ প্রকল্পের আওতায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত এবং কুষ্টিয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ কর্তৃক বাস্তবায়িত “মোটর ড্রাইভিং উইথ বেসিক মেইনটেন্যান্স” কোর্স এর ১১ ও ১২তম ব্যাচের কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠান রবিবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়।

জেলায় মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে যুবসমাজকে কর্মমুখি হতে হবে : ডিসি এহেতেশাম রেজা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এহেতেশাম রেজা প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষনার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কলেজের প্রিন্সিপাল প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজাউল হক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা ফিন্যান্স এন্ড একাউন্টস অফিসার আনিসুর রহমান ও কুষ্টিয়া সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের সাধারন শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও বাংলা বিভাগের ইনষ্টাক্টর রেজাউল করিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ এহেতেশাম রেজা বলেন, কারিগরি শিক্ষা ছাড়া দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। আপনারা জেনে থাকবেন চীনের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বেশ কয়েক বছর যাবত তাদের সাধারন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে কারিগরি শিক্ষাকে প্রধান্য দিয়ে শুধুমাত্র কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে মূল্যায়ন দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ করে দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সরকারী কারিগরি স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। সরকারী খরচে সম্পুর্ণ বিনা খরচে এই লেখাপড়া শেষে আজ আমাদের দেশে দক্ষ কারিগর গড়ে উঠছে। তিনি আরো বলেন, আপনারা যারা আজ সরকারী খরচে প্রশিক্ষণ গ্রহন করলেন তাদের অনেক দায়িত্ব। এই প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে আপনাদের উজ্জল ভূমিকা রাখতে হবে।
জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা আরো বলেন, কুষ্টিয়া জেলা বাংলাদেশের ৫ম স্থানে রয়েছে অর্থনৈতিক পর্যায়ে। কিন্তু জেলায় মাদকের ভয়াবহতার চিত্র ভয়ংকর। এর থেকে আমাদের পরিবর্তন ঘটাতে হবে। জেলাকে মাদকমুক্ত করে জেলার অথনৈতিক চাঙ্গা রাখতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদকের ভয়ানক পরিস্থিতি থেকে জেলাকে মুক্ত রাখতে যুব সমাজকে উন্নত প্রশিক্ষনের মাধ্যমে কর্মক্ষম করে তুলতে পারলে আমরা কিছুটা উপকৃত হতে পারবো। তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর দেশে যে সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক প্রানহানির ঘটনা ঘটে এর প্রধান কারন চালকের মাদকাসক্ত হওয়া। তাই আসুন আমরা দেশকে মাদকমুক্ত করি আর আমাদের যুব সমাজকে কর্মক্ষম করে তাদের বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করি। পরে তিনি প্রশিক্ষনার্থীদের হাতে সনদ পত্র তুলে দেন।
![]()
সভাপতির বক্তব্যে কলেজের প্রিন্সিপাল রেজাউল হক বলেন আজকে আপনারা যারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেন তাদের এই প্রশিক্ষণের জন্য প্রত্যেক প্রশিক্ষনার্থী বাবদ সরকারের প্রায় ২৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এই টাকা এদেশের আপামর জনতা, সাধারণ মানুষের, এমন কি একজন ভিক্ষুকের টাকাও এর মধ্যে আছে। আপনারা পরবর্তীতে প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞান দেশ এবং জাতির কল্যাণে কাজে লাগান তাহলে গানের ঋণ কিছুটা হলেও পরিশোধ হবে। আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন আমার উপরে অর্পিত দায়িত্ব যদি যথাযথভাবে পালন করি, তাহলে সমাজ এবং রাষ্ট্র ভালো হতে বাধ্য।
