হাইব্রীড বীজের কারনে মার খাচ্ছে বিএডিসির আমন বীজ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

হাইব্রীড বীজের কারনে মার খাচ্ছে বিএডিসির আমন বীজ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৩
হাইব্রীড বীজের কারনে মার খাচ্ছে বিএডিসির আমন বীজ

কুষ্টিয়াসহ তিন জেলায় বিপুল পরিমান আমন বীজ অবিক্রিত অবস্থায় গোডাউনে পড়ে আছে। আমন বীজ রোপন করার সময় পার হয়ে যাওয়ায় এসব বীজ আর বিক্রি সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন বিএডিসির কর্মকর্তা, বীজ ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।

হাইব্রীড বীজের কারনে মার খাচ্ছে বিএডিসির আমন বীজ

হাইব্রীড বীজের কারনে মার খাচ্ছে বিএডিসির আমন বীজ

হাইব্রীড বীজের কারনে মার খাচ্ছে বিএডিসির আমন বীজ

বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, হাইব্রীড বীজের আধিপত্যসহ নানা কারনে এবার আমন গত বছরের তুলনায় কম হচ্ছে বলে মনে করছে বিএডিসি। গত বছর আমন বীজ অবিক্রিত না থাকলেও এবার তার উল্টো। বিপুল পরিমান বীজ পড়ে আছে গোডাউনে। অনেক ব্যবসায়ী বিক্রির আশায় বীজ উত্তোলন করলেও লাখ লাখ টাকার বীজ পড়ে আছে তাদের গোডাউনে। এ অবস্থায় বড় ধরনের লোকসানে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

তবে কৃষি বিভাগ বলছে বিএডিসির বীজ বিক্রি না হলেও আমন আবাদে কোন প্রভাব পড়বে না। কৃষকদের ঘরেই প্রচুর বীজ আছে। তারা হাইব্রীড আবাদে ঝুঁকছে।

কুষ্টিয়া শহরের কলেজ মোড়ে রিপন সীড় স্টোর। রিপন সীড স্টোরের মালিক আবু মনি জুবায়েদ রিপন। তিনি বিএডিসি সার ও বীজ এসোসিয়শেনর সাধারন সম্পাদক। তিনি চলতি আমন মৌসুমে অতি আশানুরুপ আমন বীজ বিক্রি করতে পারেননি। তার তিনটি গোডাউনে প্রায় ৭০ মেট্রিক টন বীজ অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। এ ধান আর বীজ হিসেবে বিক্রি করা সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি। পাশাপাশি খাদ্যে হিসেবে লোকসানে বিক্রি করতে হতে পারে বলেও মনে করছেন তিনি। এমনটা হলে তার লোকসান হবে অনেক টাকা।

একই মার্কেটে সাগর সীড স্টোরের মালিকের ঘরে পড়ে আছে ২ মেট্রিক টন আমন বীজ। মালিক জেএম সাঈদী সাগর জানান, খাদ্য হিসেবে বিক্রি করলে সাড়ে ৬ লাখ টাকার মত পুুঁজি আসবে। তাতে তার লোকসান হবে ৬ লাখ টাকার বেশি। এবার আমন বীজ বিক্রি না হওয়ার জন্য বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানীর হাইব্রীড বীজ আমদানি বড় কারন বলে জানান তিনি। হাইব্রীড বীজের চাহিদা কৃষকদের মাঝে বেশি। এসব কারনে বিএডিসির বীজ বিক্রি হয়নি। আবার বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সেচ খরচ বেশি হওয়ার কারনে অনেকে এবার আমন আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে জানান এ ব্যবসায়ী।

কুষ্টিয়ার চৌড়হাসে বিএডিসির বড় গোডাউন আছে। কুষ্টিয়াসহ মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ধান বীজ এ গোডাউন থেকে সরবরাহ করা হয়। বিএডিসির এ গোডাউনে বর্তমানে ৩০০ মেট্রিক টন আমন বীজ পড়ে আছে। বিএডিসির উপ-পরিচালক (বীজ) আবদুর রহমান বলেন,‘ তিন জেলায় এবার গতবারের তুলনায় কম বীজ বিক্রি হয়েছে। এখনো আমাদের গোডাউনে বিপুল পরিমান বীজ পড়ে আছে। এগুলো বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা কম। খুলনা বিভাগে এবার বৃষ্টিপাত অনেক কম পাশাপাশি হাইব্রীড বীজের চাহিদার কারনে এবার বীজ বিক্রি কমেছে। আমরাও বিক্রি বাড়াতে হাইব্রীড বীজের চাহিদার বিষয়টি জানিয়েছি। এসব বীজ বিক্রি না হলে খাদ্যে হিসেবে বিক্রি করা হয় অনেক সময়। সেখানে সরকারের লোকসান হয়।’

বীজ ব্যবসায়ীরা জানান, গোডাউনের বীজ ছাড়াও ব্যবসায়ীদের ঘরে বিপুল পরিমান অবিক্রিত বীজ পড়ে আছে। কুষ্টিয়া জেলায় বিভিন্ন ব্যবসায়ীর ঘরে ৩০০ মেট্রিক টনের মত বীজ পড়ে আছে। পাশাপাশি মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় সমপরিমান বীজ বিক্রি না হয়ে পড়ে আছে বলে জানান বীজ ব্যবসায়ী সমিতির নেতা আবু মনি জুবায়েদ রিপন।

মেহেরপুরের ব্যবসায়ী আরমান আলী বলেন,‘ তিন কারনে এবার আমন বীজ বিক্রি হয়নি। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাট কাটতে পারছে না কৃষকরা এ কারনে অনেক কৃষক আমান আবাদে যেতে পারছেন না। আবার হাইব্রীড বীজ বড় একটি কারন। তার ঘরে ২৫টন বীজ পড়ে আছে। বিশাল লোকসানে পড়েছেন বলে জানান তিনি।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী বলেন,‘ হাইব্রীড বীজ দেশীয় বীজের ব্যবসা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সরাকরের উচ্চ পর্যায়ের লোকজন এসব জেনেও চুপচাপ বসে আছে। তারা বিএডিসিকে ধ্বংস করতে বেসরকারি ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দিচ্ছে। এ কারনে এবার সারা দেশে বীজ অবিক্রিত হয়ে পড়ে আছে। এতে সরকারের বিপুল পরিমান আর্থিক ক্ষতি হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও লোকসানের মুখে পড়বে। কৃষকরা হাইব্রীড বীজ সংরক্ষন করলে আগামীতে বিক্রি আরো কমতে পারে।

কুষ্টিয়া খামার বাড়ির উপ-পরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ ড. হায়াত মাহমুদ বলেন,‘ কুষ্টিয়া অঞ্চলে ব্রি ধান ৩৩, ৩৯, ৪৯ ও স্বর্ণা জাতের ধানের আবাদ কমেছে। সেখানে নতুন জাতের উচ্চফলন শীল ব্রি ধান ৭১,৮৭,৮০ ও৭৫ আবাদ বেড়েছে। আগের জাতগুলোর জীবনকাল বেশি হওয়ার পাশাপাশি ফলন কম হওয়ায় নতুন জাতগুলোতে কৃষকরা ঝুঁকছে। তারা এসব জাত আবাদ করে প্রতি বিঘা ২ থেকে ৪ মণ পর্যন্ত বেশি ফলন পাচ্ছে। আর বৃষ্টিপাত কম হলেও কৃষকরা বসে নেই, ধানের জীবনকাল ছিল ১৫০ দিন এখন সেটা ১১৫ থেকে ১২০দিন। তাই আষাঢ়ে আমন আবাদ না করে কৃষকদের শ্রাবন মাসের পুরোটা জুড়ে আমন রোপনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জিকের পাম্প নষ্ট থাকায় পানির কিছুটা সংকট থাকলেও বিকল্প উপায়ে কৃষকরা আমন রোপন করছেন। উৎপাদনে তেমন কোন প্রভাব পড়বে না ইনশাআল্লাহ।’