একজন বিতার্কিক মননশীল ও স্মার্ট হয় : ডাঃ মুসা কবির
“যুক্তি দিয়ে মুক্তির পথে”—এই বিশ্বাসকে ধারণ করে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল কুষ্টিয়ায় পুষ্টি-প্রথম আলো বিতর্ক উৎসব। “যোগ দাও মুক্তির মেলায়”—এই শ্লোগানে উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয় ২২ জুলাই (সোমবার) কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মিলনায়তনে।
সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উৎসবের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এ.এস.এম. মুসা কবির। তিনি উদ্বোধনী বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন,
“একজন বিতার্কিক কেবল যুক্তিবাদী নয়, সে হয় মননশীল, স্মার্ট এবং আত্মপ্রত্যয়ী। বিতর্ক চিন্তাকে শাণিত করে, মাদক ও নেতিবাচকতার বিরুদ্ধে মানসিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক আমাদের সমাজকে নীরবে গ্রাস করছে। তোমরা কখনও মাদক স্পর্শ করবে না, এমনকি একদিনের জন্যও নয়। এর জন্য নিজেদের সচেতন থাকতে হবে এবং সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে।”
ঝিনাইদহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক স্বপন কুমার বলেন—
“তোমরা জিনিয়াস, বিতর্কের মাধ্যমে আরও জিনিয়াস হয়ে উঠতে পারো। এই আয়োজন তোমাদেরকে শুধু যুক্তির যুদ্ধে নয়, ভবিষ্যতের নেতৃত্বে এগিয়ে দেবে।”
কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মঈন উদ্দীন আহমেদ বলেন—
“ভালো কিছু করতে হলে আন্তরিকতা থাকতে হবে। বিতর্ক আত্মবিশ্বাস তৈরি করে এবং যুক্তির মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দেয়। আমি পুষ্টি ও প্রথম আলোকে ধন্যবাদ জানাই এমন একটি শিক্ষণীয় আয়োজন করার জন্য।”
উৎসবে কুষ্টিয়ার ১২টি এবং ঝিনাইদহ জেলার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। বিকেলের ফাইনাল রাউন্ডে তীব্র যুক্তি-তর্কের লড়াইয়ে কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরাজিত করে সানআপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে এবং অর্জন করে চ্যাম্পিয়ন খেতাব।
চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা:
রানার্সআপ দলের সদস্যরা:
প্রথম রাউন্ড শেষে অনুষ্ঠিত হয় সনাতনী বিতর্ক কর্মশালা ও প্রতিযোগিতা এবং কুইজ পর্ব। নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক দুই ক্যাটাগরিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে মোট ছয়জন।
নিম্নমাধ্যমিক ক্যাটাগরি বিজয়ীরা:
মাধ্যমিক ক্যাটাগরি বিজয়ীরা:
বারোয়ারী বিতর্কে শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হন:
ফাতেমা মারজিয়া আনুষ্কা (নবম শ্রেণী, কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়)
কুষ্টিয়া ডিবেটিং সোসাইটির পক্ষে বক্তব্য দেন:
শিক্ষার্থীদের অনুভূতি:
“আমি চাই জ্ঞানের আলো বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে। জ্ঞানই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে।”
“বিশ্বের না হলেও, বাংলাদেশের জন্য কিছু করতে চাই।”
“এ অনুষ্ঠানে এসে অনেক কিছু শিখেছি, যা জীবনকে পথ দেখাবে।”
ফাইনাল শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে মেডেল, সনদ ও ট্রফি তুলে দেন কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এফতে খাইরুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের প্রভাষক আসমা আখতার।
প্রধান শিক্ষক বলেন,
“প্রথম আলোর এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। আজকের বিজয়ীরা যেন ঢাকায় জাতীয় পর্বেও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে, এটাই আমার প্রত্যাশা।”

একজন বিতার্কিক মননশীল ও স্মার্ট হয় : ডাঃ মুসা কবির
সমাপনী বক্তব্যে কুষ্টিয়া বন্ধুসভার সভাপতি মাহফুজা লুবনা ও সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন সকল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
১৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ বিতর্ক উৎসব চলছে দেশের ৩৯টি অঞ্চলে। আঞ্চলিক পর্যায়ের বিজয়ীরা অংশ নেবেন ঢাকায় জাতীয় পর্বে।
পুষ্টির পৃষ্ঠপোষকতায় এবং প্রথম আলোর উদ্যোগে, বন্ধুসভার সহযোগিতা ও নাগরিক টিভির প্রচার সহযোগিতায় এই আয়োজন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
