মিরপুরে জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অুনষ্ঠিত - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

মিরপুরে জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অুনষ্ঠিত

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৩
মিরপুরে জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অুনষ্ঠিত

সোমবার (৩১ জুলাই) সকাল ১১টায় মিরপুর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের আয়োজনে মিরপুর উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে কুষ্টিয়ার নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে মিরপুর উপজেলা জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মিরপুরে জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অুনষ্ঠিত

মিরপুরে জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অুনষ্ঠিত

মিরপুরে জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অুনষ্ঠিত

মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সধারণ সম্পাদক কামারুল আরেফিনের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ এহেতেশাম রেজা।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড. আব্দুল হালিম, মিরপুর পৌরসভার মেয়র হাজী এনামুল হক, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মর্জিনা খাতুন, সহকারী কমিশনার হারুন অর রশিদ এবং মিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন মিরপুর প্রেসক্লাবে সাধরণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, মীর আব্দুল করিম কলেজের অধ্যক্ষ আহসানুল হক খান, মালিহাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন, মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার ও মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার উদ্দিন খান।

মিরপুরে জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অুনষ্ঠিত

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক আন্দোলনের বাজার প্রত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক উজ জামান জন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন ।

মতবিনিময় সভায় মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা কামারুল আরেফিন বলেন- আমরা মিরপুরবাসী আমরা ভালো আছি। মিরপুর একটি সময় কুষ্টিয়ার ভিতরে এই মিরপুরের মানুষই ছিলো সবচাইতে জঘন্য। মিরপুরের মানুষ ছিলো সন্ত্রাস কবলিত। আজকে যেটা নিয়ে মানুষ কথা বলতেছে, আজকে বিএনপি’র কর্মিরা যখন পল্টনে ঘুমায় আর তারেক জিয়া লন্ডনে ঘুমায়, ঐ তারেক জিয়া যখন মানবতার কথা বলে, বিএনপি’র লোকজন যখন মানবতার কথা বলে, যখন তাদের সুরে সুর মিলিয়ে কিছু রাষ্ট্র মানবতার কথা বলে, আপনারা জানেন সেই মানবতাকে ভূলন্ঠন করেছিলো আমাদের এলাকার কিছু মানুষ। আমরা চাক্ষুস দেখেছিলাম মানুষ উব্ধো করে একসাথে সাতটা-আটটা জবাই করা হতো। আমার মায়েরা সন্তান কোলে করে নিয়ে রাত্রে ঘুমিয়ে থাকতো, সেই সন্তানদের উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে বলতো এত টাকা দিতে হবে, না দিলে হত্যা করা হবে। কিছুদিন আগে আমাদের চিথলিয়া ইউনিয়নের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর ঠিক এইভাবেই, একটা ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যা যদি মানবতা হয়, তাহলে মানবতাটা কি? আমার বাচ্চার নিরাপত্তা যদি না থাকে তাহলে মানবতাটা কি? মানবতা দেখাতে গিয়ে আজকের জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ মিরপুরের প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে মানবতার বাজরা বসিয়ে দিয়েছে, মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা দিয়েছে।

আমি মিরপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে গর্ববোধ করি, আজকে প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে মুরগী আছে, ছাগল আছে, গরু আছে। এছাড়াও যদি সামান্যতম একটু ডোবা থাকে, সেই ডোবাতেও মাছ আছে। আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে চলে যাচ্ছি। করোনাকালীন দূঃসময়ের বর্ণনা করতে গিয়ে কামারুল আরেফিন বলেন, করোনা’র সময় আমরা জীবনকে বাজি রেখে টিম মিরপুর আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আজকে তার প্রতিফলন আমরা দেখি, আমি যখন স্কুলে যায় দেখি মেয়েরা মাস্ক পরে আছে। অথচ করোনাকালীন সময়ে মাস্ক পরানোর জন্য আমাদের কিনা করতে হয়েছে। একটা প্রচলন হয়েছে, একটি প্রচলন আমরা করতে পেরেছিলাম। আজকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কাউন্সিলের ছেলেরা, আমার ছাত্রলীগের ছেলেরা, আমার যুবলীগের ছেলেরা, আমার আমলা’র ক্যান্সার সোসাইটির ছেলেরা ঘরে ঘরে আমরা লাল পতাকা উঠিয়ে দিয়েছিলাম, ঘরে ঘরে আমরা খাবার পাঠিয়েছিলাম । যে বাড়িতে দুই তিনজন করে করোনা’য় আক্রান্ত রোগী ছিলো সেই বাড়ীতে আমি খাবারের জন্য মুরগী পর্যন্ত পাঠিয়েছিলাম, সকালে প্রত্যেকদিন আমরা ফল দিতাম।

নবাগত জেলা প্রশাসককে কামারুল আরেফিন বলেন, আগে এই এলাকায় তামাক ঘর প্রতি চাঁদা দেওয়া লাগতো, সেই সন্ত্রাসীদের আমরা নির্মূল করতে পেরেছি। আপনার কাছে কিছু দাবী নেই আমার, আমার শুধু একটাই কথা, আমরা ভালো আছি, ভালো থাকতে চাই । এই ভালো থাকার জন্য আপনার যা যা করনীয় আপনি সেটা করবেন । আমরা ভালো থাকতে চাই। আমরা সুখে আছি, শান্তিতে আছি। এই সুখ শান্তির ধারাবাহিকতা আমরা সুন্দরভাবে রাখতে চাই।

মিরপুরে জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অুনষ্ঠিত

প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা বলেন- আমি মাদকের কথা দিয়ে শুরু করতে চাই, যেহেতু রবিবার ছিলো আন্তর্জাতিক মাদক দিবস। আপনারা জানেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ খুব একটা অবদান রাখে না। তারপরও বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশে। ঠিক একইভাবে মাদকে ব্যবহৃত হয় সেসব উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও বাংলাদেশ শুধুমাত্র ভৌগলিক কারণে মাদকের অত্যন্ত একটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে অবস্থান করছে। এর মূল কারণ হলো গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট নামে যে অঞ্চলগুলো রয়েছে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড। যেগুলো সারা বিশ্বব্যাপী মাদক সরবরাহকারী ও উৎপাদককারী দেশ হিসাবে পরিচিত। তাদের যোগাযোগের কেন্দ্র ভূমিতে বাংলাদেশের অবস্থান। সেজন্য বাংলাদেশ উৎপাদককারী দেশ না হয়েও মাদকের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশে মাদকাসক্তের ৮৬ শতাংশ হলো ১৮ বছরে থেকে ২৫ বছর বয়সী যুবকেরা। গত বছর এক হাজার বাবা-মা নিহত হয়েছে মাদাকাসক্ত ছেলে মেয়ের দ্বারা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করা কারো একার পক্ষে সম্ভব না । জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান নিয়মিত ক্লাস করার পশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের মাদকদ্রব্য সেবনের কুফল বর্ণনা করার জন্য।

এছাড়াও জেলা প্রশাসক অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন- সকল অভিভাবকদের উচিৎ প্রতিদিন নূন্যতম একবার ছেলে মেয়েদের সাথে খাবার খাওয়ার জন্য। তাতে করে পারিবারিক বন্ধন শক্ত হওয়া সাথে সাথে ছেলে মেয়েদের মাদক সেবনে নিরুৎসাহী করবে। কুষ্টিয়াবাসীর উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা বলেন, আপনারা যে কোন প্রয়োজনে হটলাইনে ফোন করে আপনাদের সমস্যার করা আমাদের জানাবেন অথবা জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেইজের মাধ্যমেও জানাতে পারেন। আমরা চেষ্টা করবো দ্রুত আপনাদের সমস্যার সমাধান করতে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা আপনাদের সেবা প্রদানে সব সময় প্রস্তুত ।