কয়া ইউনিয়ন - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কয়া ইউনিয়ন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০০০

কয়া ইউনিয়ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলাধীন একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্যবাহী জনপদ ও নদনদীসমৃদ্ধ এ ইউনিয়নটি পদ্মা ও গড়াই নদীর কোলঘেঁষে অবস্থান করছে।

কয়া ইউনিয়নে পদ্মা নদী [ Padma Riverview ]

কয়ার পাশ দিয়ে বয়ে চলা পদ্মা নদী [ Padma Riverview ]

🌍 আয়তন জনপরিসংখ্যান

  • মোট আয়তন: ৪৬০৮ একর (প্রায় ১৯.৬১ বর্গ কিলোমিটার)।
  • পরিবারের সংখ্যা: ৫৫০৯টি।
  • জনসংখ্যা (২০১১ আদমশুমারি অনুযায়ী):
    • মোট জনসংখ্যা: ৩৩,৫৫২ জন
    • পুরুষ: ১৬,৭০৪ জন
    • মহিলা: ১৬,৮৪৮ জন

 

🗺️ অবস্থান সীমানা

কয়া ইউনিয়ন কুমারখালী উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। এটি পদ্মা ও গড়াই নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা অঞ্চল।

সীমানা নির্ধারণ:

  • উত্তর: পদ্মা নদী ও ঘোষপুর ইউনিয়ন
  • দক্ষিণ: চাপড়া ইউনিয়ন
  • পূর্ব: শিলাইদহ ইউনিয়ন
  • পশ্চিম: হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের কান্তিনগর ও বোয়ালদহ গ্রাম

 

🏫 শিক্ষা ব্যবস্থা

কয়া ইউনিয়নে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার পাশাপাশি কিছু কারিগরি ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষার হার ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং ইউনিয়নবাসীর মধ্যে শিক্ষাবিস্তার নিয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

💰 অর্থনীতি

এ ইউনিয়নের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। ধান, গম, পাট, তামাক, শাকসবজি ও পান এই অঞ্চলের প্রধান ফসল। নদী ঘেঁষা হওয়ায় জেলেপেশা এবং নদীসেচনির্ভর কৃষিকাজও এখানে প্রচলিত। এছাড়া ছোট পরিসরে গৃহকর্মভিত্তিক হস্তশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও প্রবাসী আয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে।

 

🌊 নদ-নদী

কয়া ইউনিয়নের প্রধান নদী পদ্মা এবং গড়াই। এই নদীগুলো শুধু পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উৎসই নয়, বরং কৃষি, মৎস্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

🏡 গ্রামসমূহ

কয়া ইউনিয়নে মোট ১৩টি গ্রাম রয়েছে:

  • কয়া
  • খলিশাদহ
  • ছোট লক্ষীকোল
  • বাড়াদি
  • সুলতানপুর
  • বেড়কালোয়া
  • কালোয়া
  • শ্রীকোল
  • বানিয়াপাড়া
  • চরবানিয়াপাড়া
  • গট্টিয়া
  • ঘোড়াই
  • চরপাড়ার কিছু অংশ

 

🧑‍🎓 উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

  • বাঘাযতীন (যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়): ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা, যিনি এ অঞ্চলের গর্ব।
  • শামছুদ্দিন: পূর্ব পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন।
  • সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়: কিংবদন্তি ভারতীয় বাঙালি অভিনেতা, যিনি কয়ার সাথে পারিবারিকভাবে সম্পর্কিত ছিলেন।

 

🏛️ ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থানসমূহ

  • বাঘাযতীনের বাস্তুভিটা: কয়া ত্রিমোহনী থেকে পশ্চিমে আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি ইতিহাসপ্রেমী ও গবেষকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান।
  • শামছুদ্দিন মিনিস্টারের বাড়ি: বানিয়াপাড়া গ্রামে অবস্থিত। এটি কয়া ইউনিয়নের একটি স্মারকচিহ্ন যা তাঁর রাজনৈতিক অবদানের সাক্ষ্য বহন করে।

 

🏘️ ইতিহাসের প্রেক্ষাপট

কয়া ইউনিয়নের ইতিহাস সুপ্রাচীন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক জাগরণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে এই ইউনিয়নের মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এ ইউনিয়ন নানা ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী।

 

🧭 কুমারখালী উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নসমূহ

  • শিলাইদহ ইউনিয়ন
  • জগন্নাথপুর ইউনিয়ন
  • সদকী ইউনিয়ন
  • নন্দলালপুর ইউনিয়ন
  • চাপড়া ইউনিয়ন
  • বাগুলাট ইউনিয়ন
  • যদুবয়রা ইউনিয়ন
  • চাঁদপুর ইউনিয়ন
  • পান্টি ইউনিয়ন
  • চরসাদীপুর ইউনিয়ন
google news

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

কয়া ইউনিয়ন একটি ঐতিহ্যবাহী, নদীবিধৌত ও ইতিহাসসমৃদ্ধ জনপদ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, শিক্ষা-সংস্কৃতিতে অগ্রসরতা এবং উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের জন্মভূমি হিসেবে এটি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নে পরিণত হয়েছে। পদ্মা ও গড়াই নদীর আশীর্বাদপুষ্ট এ ইউনিয়ন কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির পাশাপাশি ক্রমেই আধুনিকতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, শিক্ষার প্রসার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে কয়া ইউনিয়ন আগামীতে আরও সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে—এটাই সকলের প্রত্যাশা।