কয়া ইউনিয়ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলাধীন একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্যবাহী জনপদ ও নদনদীসমৃদ্ধ এ ইউনিয়নটি পদ্মা ও গড়াই নদীর কোলঘেঁষে অবস্থান করছে।
![কয়া ইউনিয়নে পদ্মা নদী [ Padma Riverview ]](https://kushtia.glive24.com/wp-content/uploads/2000/02/কয়া-ইউনিয়নে-পদ্মা-নদী_-Padma-Riverview-300x225.jpg)
কয়ার পাশ দিয়ে বয়ে চলা পদ্মা নদী [ Padma Riverview ]
কয়া ইউনিয়ন কুমারখালী উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। এটি পদ্মা ও গড়াই নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা অঞ্চল।
সীমানা নির্ধারণ:
কয়া ইউনিয়নে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার পাশাপাশি কিছু কারিগরি ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষার হার ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং ইউনিয়নবাসীর মধ্যে শিক্ষাবিস্তার নিয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ ইউনিয়নের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। ধান, গম, পাট, তামাক, শাকসবজি ও পান এই অঞ্চলের প্রধান ফসল। নদী ঘেঁষা হওয়ায় জেলেপেশা এবং নদীসেচনির্ভর কৃষিকাজও এখানে প্রচলিত। এছাড়া ছোট পরিসরে গৃহকর্মভিত্তিক হস্তশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও প্রবাসী আয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে।
কয়া ইউনিয়নের প্রধান নদী পদ্মা এবং গড়াই। এই নদীগুলো শুধু পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উৎসই নয়, বরং কৃষি, মৎস্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কয়া ইউনিয়নে মোট ১৩টি গ্রাম রয়েছে:
কয়া ইউনিয়নের ইতিহাস সুপ্রাচীন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক জাগরণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে এই ইউনিয়নের মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এ ইউনিয়ন নানা ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী।
কয়া ইউনিয়ন একটি ঐতিহ্যবাহী, নদীবিধৌত ও ইতিহাসসমৃদ্ধ জনপদ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, শিক্ষা-সংস্কৃতিতে অগ্রসরতা এবং উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের জন্মভূমি হিসেবে এটি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নে পরিণত হয়েছে। পদ্মা ও গড়াই নদীর আশীর্বাদপুষ্ট এ ইউনিয়ন কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির পাশাপাশি ক্রমেই আধুনিকতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, শিক্ষার প্রসার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে কয়া ইউনিয়ন আগামীতে আরও সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে—এটাই সকলের প্রত্যাশা।
