কুমারখালীতে শান্তি সমাবেশে স্কুল শিক্ষার্থীদের জোরপুর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে শান্তি সমাবেশে স্কুল শিক্ষার্থীদের জোরপুর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুলাই ২৬, ২০২৩
কুমারখালীতে শান্তি সমাবেশে স্কুল শিক্ষার্থীদের জোরপুর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ অনুগত আওয়ামী লীগ নেতাদের ডাকা শান্তি সমাবেশে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জোরপুর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক-সভাপতির নেতৃত্বে মিছিল সহকারে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়ার মত ঘটনা ঘটছে।

কুমারখালীতে শান্তি সমাবেশে স্কুল শিক্ষার্থীদের জোরপুর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

কুমারখালীতে শান্তি সমাবেশে স্কুল শিক্ষার্থীদের জোরপুর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

কুমারখালীতে শান্তি সমাবেশে স্কুল শিক্ষার্থীদের জোরপুর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

দলীয় সভায় স্কুলের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। এ সময় প্রচন্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।

গত সোমবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের চৌরঙ্গী কলেজ মাঠে সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জ অনুগত আওয়ামী লীগ নেতারা শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশের আয়োজন করে। সেই সমাবেশে চৌরঙ্গী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম মিলন ও সভাপতি মাহফুজুর রহমানসহ অন্য শিক্ষকদের নেতৃত্বে প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর মিছিল নিয়ে শোডাউন দিয়ে সমাবেশে যোগ দেয়। একই সাথে উত্তর চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী ও সভাপতি এমএন হাইস্কুলের শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের মিছিল নিয়ে সমাবেশে আসে।

google news

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

এ সময় মঞ্চের সামনে রাখা চেয়ারে বসতে দেওয়া হয় ছেলে-মেয়েদের। এ সময় গরমে অনেকে বই খাতা দিয়ে বাতাস নিতে থাকে। আবার অনেকে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দীর্ঘক্ষন বসিয়ে রাখা হয়। সমাবেশ শেষ হলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও ও ছবি পাওয়া যায়। সেখানেও বড় মিছিল নিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিসহ অন্যদের। ভিডিওতে দেখা যায় মাঝখানে থেকে মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। তার ডান পাশে সহকারি প্রধান শিক্ষক। বাম পাশে সভাপতিসহ অন্য একজন। মিছিলের সামনে একটি নৌকা বানিয়ে সেটি ঠেলে আনছেন শিক্ষার্থীরা। স্কুলের ব্যান্ডদল বাদ্য বাজাচ্ছে আর পেছনে মেয়েদের একটি দল জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে হেঁটে আসছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চৌরঙ্গী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান,‘ স্কুল ছিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এমপির সমাবেশে যাওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ ছিল স্যারদের। এ জন্য ছুটির পর যাতে কেউ চলে যেতে না পেরে সেজন্য তাদের বই ও ব্যাগ জোরপুর্বক রেখে দেওয়া হয়। এরপর সাড়ে ৪টার দিকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম মিলন ও সভাপতি মাহফুজুর রহমান মিছিল সহকারে তাদের সমাবেশে নিয়ে যায়। মিছিলে স্কুলের প্রায় সকল ছেলে-মেয়েরা ছিল।

অভিভাবকরা বলেন,‘ ছুটি হলেও বাচ্চাদের ব্যাগ রেখে দেওয়া হয়। সমাবেশে না গেলে শাস্তি দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। প্রধান শিক্ষক লোক ভাল না, তাই সমাবেশে যেতে বাধ্য হয় সবাই। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করার সাহস নেই কারো।

স্কুলের অষ্টম শ্রেনীর একজন শিক্ষার্থী বলেন,‘ সমাবেশে যাওয়ার আগে স্কুলে থাকতে বলা হয় সকলকে। আমরাও দুপুরে না খেয়ে বিকেল পর্যন্ত ছিলাম। যারা কাছের তারা বাড়ি থেকে খেয়ে এসেছিল। আমাদের কষ্ট হয়েছে। শোডাউন ও মিছিল সহকারে স্যাররা আমাদের নিয়ে যান। মিছিলে প্রধান শিক্ষক-সভাপতিসহ অন্যরা শিক্ষকরা ছিলেন। আমাদের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাও হাজির ছিলেন সেখানে।’

শিক্ষার্থীদের দলীয় সমাবেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম মিলনের মোবাইলে রিং দিলে তিনি বলেন,‘ কোন নিউজ করলে আপনার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দেব। কোন মিছিল নিয়ে সমাবেশে যাওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। উত্তেজিত হয়ে এ প্রতিবেদককে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে ফোনের লাইন কেটে দেন। প্রধান শিক্ষক অস্বীকার করলেও পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন,‘আমি সমাবেশে ছিলাম না। তবে অল্প কিছু ছেলে-মেয়ে সমাবেশে গিয়েছিল। তারা বেশি সময় ছিল না।’

এদিকে যদুবয়রা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন,‘ দুটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক-সভাপতি মিলে শিক্ষার্থীদের জোরপুর্বক মিছিল নিয়ে সমাবেশে আসে। গরমে অনেকেই অসুস্থ পড়েন। এভাবে স্কুল শিক্ষার্থীদের সমাবেশে আনার কোন নিয়ম ও বিধান নেই।’

কুমারখালী উপজেলা শিক্ষা অফিসার এজাজ কায়সার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ আমাকে জানায়নি।’

আরও পড়ুন: