কুষ্টিয়ায় স্থূলতা: একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য সমস্যা শীর্ষক সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের খেয়া রেষ্টুরেন্টে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

কুষ্টিয়া ডায়াবেটিকস সমিতির উদ্যোগে স্থূলতা একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য সমস্যা শীর্ষক সায়েন্টিফিক সেমিনার অনুষ্ঠিত
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন- স্থূলতা বা মোটা একটা জাতীয় সমস্যা অতিরিক্ত তেল জাতীয় খাবার এবং পরিশ্রম না করার কারনে মানুষ এই সমস্যায় ভুগে, তবে স্থূলতা রোধে বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে অনেকগুলি কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের অধীনে স্থূলতা রোধে দেশের সব যায়গায় সভা সেমিনার করে আসছে, এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্থূলতা রোধে করনীয় সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি আমরা নিজেরাও যদি স্থূলতা রোধে সচেতন হতে হবে। এছাড়া আমাদের সবসময় ঘরের মধ্যে না থেকে কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। সামাজিক প্রচারের মাধ্যমে সবাইক স্থূলতা বিষয়ে অবগত করতে হবে। ডাক্তার থেকে শুরু করে আমরা যারা সামাজিক নেতৃত্ব দিয়ে থাকি সবাই মিলে সবাইকে সচেতন করে সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
সেমিনারটির উদ্বোধন করেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত জাতীয় অধ্যাপক বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা.এ কে আজাদ খান।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এস. আর খান। এসময় তিনি বলেন আজকের সেমিনারের মূল বিষয় হলো স্থূলতা অর্থাৎ অতিরিক্ত স্বাস্থ্য একটা জনস্বাস্থ্য সমস্যা। অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাদ্যগ্রহণ, কায়িক শ্রমের অভাব, বংশ পরম্পরায় জিনগত বৈশিষ্ট্য থেকে প্রাপ্ত গুণাবলী, কিছু ক্ষেত্রে জিনের চরিত্রের পরিবর্তন, হরমোন গ্রন্থির গন্ডগোল, ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, মানসিক অসুস্থতা ইত্যাদিকেই স্থূল বা মোটা হয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী করা যেতে পারে। স্থূলতা একটি উপেক্ষিত এবং অবমূল্যায়িত রোগ যা বিশ্বব্যাপী মানুষকে প্রভাবিত করেছে। এর বৈশিষ্ট হচ্ছে দেহে অতিরিক্ত মেদ জমা হওয়া। এটি সাধারণত বাচ্চা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে পাওয়া যায়। স্থূল মানুষের সংখ্যার হিসাবে ভারতবর্ষ বিশ্বে তৃতীয় স্থানে আছে; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন আছে যথাক্রমে প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থানে। জনস্বাস্থ্যে স্থূলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ স্থূলতা সংক্রান্ত বিপদগুলি হল হৃদযন্ত্রের রোগ, মধুমেহ, উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশান), গাঁটের বাত এবং কিডনির অসুখ। ভাল খবর হচ্ছে যে স্থূলতাকে প্রতিরোধ করা যায় এবং কার্যকরভাবে বিপরীত হতে পারে। জীবনধারার কিছু পরিবর্তন, খাদ্যের পরিবর্তন, শারীরিক পরিশ্রম এবং অস্ত্রোপচার করে ক্রনিক স্থূলতা কমানো যেতে পারে।
![]()
কুষ্টিয়া ডায়বেটিস সমিতির সভাপতি মতিউর রহমান লাল্টুর সভাপতিত্বে এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কুষ্টিয়া ডায়বেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশফিকুর রহমান টারলিন। এসময় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রখ্যাত এন্ড্রোক্রাইনোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ফারুক পাঠান। এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. এস.এম মোস্তানজিদ, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. এস এম মুসা কবির, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. শাহাজাহান মন্ডল, সিটি হেলথের ডাইরেক্টর ফারুক আজম খান, ড. আমানুর আমান সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকের সাংবাদিকরা।
