কুমারখালীতে পাওনা টাকা নিতে এসে ৭ দিনেও ফিরেনি জিয়া
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পাওনা টাকা ফেরত আনতে গিয়ে জিয়াউল হক জিয়া নামে এক ব্যক্তি সাতদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর সন্ধান জানতে থানায় জিডিমূলে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর ছেলে জিহাদ হোসেন। জিয়া জেলার খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের শোমসপুর মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং হুসনুল উলুম আলিম মাদ্রাসার নৈশ্যপ্রহরী। তিনি গত বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা যায়।

কুমারখালীতে পাওনা টাকা নিতে এসে ৭ দিনেও ফিরেনি জিয়া
স্বজনদের অভিযোগ, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি চক্রের মো. বাঁধন হোসেন (২৭) ও মো. রানা হোসেন (২৬) জিয়াকে গুম করেছে। বাঁধন কুমারখালী পৌরসভার শেরকান্দি এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে। রানা খোকসা উপজেলার চরপাড়া এলাকার মো. ফরিদের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) সকালে শেরকান্দি গ্রামে বাঁধনের খোঁজে তাঁর বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বাঁধন কয়েকদিন হলো বাড়িতে নেই। তাঁর ফোনটিও বন্ধ। এসময় তাঁর মা জহুরা খাতুন বলেন, বাঁধন তাঁর অসুস্থ চাচীকে নিয়ে কয়েকদিন আগে ঢাকা গেছে। ফোনের বিষয় তিনি কিছু জানেনা। তিনি আরো বলেন, সেদিন ওই লোক (জিয়া) তাঁর বাড়িতে এসে বকাবকি করতেছিল। কিছুক্ষণ পরে চলে গিছিলেন জিহাদের বাবা। তাঁর ছেলে কাউকে গুম করিনি।
এবিষয়ে নৈশ্যপ্রহরী জিয়ার ছেলে জিহাদ বলেন, তাঁর মায়ের এনআইডি কার্ডে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ভুল আছে। লিজা কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী রানা তাঁর বন্ধু বাঁধনকে দিয়ে ঠিকঠাক করার প্রতিশ্রুতি দেন। এজন্য রানা শোমসপুর ইউপি চেয়ারম্যান বদর উদ্দির খানের হাত দিয়ে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু আটমাসেও কার্ডের ভুল ঠিক না হওয়ায় ৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) তাঁর বাবা বাঁধনের বাড়িতে টাকা ফেরত আনতে গিয়েছিল। এরপর আর তাঁর বাবা ফিরেনি।
তাঁর ভাষ্য, রানা ও বাঁধন এনআইডি জালিয়াতির কাজ করে মানুষের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ওরাই (রানা ও বাঁধন) তাঁর বাবাকে গুম করেছে বা হত্যা করেছে।
বৃহস্পতিবার ফের এবিষয়ে জানতে চাইলে জালিয়াতি চক্রের আরেক সদস্য রানা হোসেন বলেন, তিনি বর্তমানে এলাকার বাইরে আছেন। এসবনিয়ে তিনি আর কথা বলতে চাইনা বলে ফোনটি কেটে দেন। পরে বারবার কল দিলেও তিনি ধরেননি।
খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও শোমসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদর উদ্দিন খান ফোনে বলেন, তিনি শুধু মাত্র টাকা লেনদেনের স্বাক্ষী। কিন্তু তিনি কোনো চক্রের সাথে জড়িত নয়।

কুমারখালী থানার উপপরিদর্শক ( এসআই) মো. নুরন নবী বলেন, তিনি সংগীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনার গভীর তদন্ত করছেন। কিন্তু নিখোঁজ ব্যক্তি কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করেনা। সেজন্য তাকে খুঁজে পেতে বিলম্ব হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, ফোন থাকলে দ্রুত পাওয়া যেত। আর অভিযুক্ত বাঁধন পলাতক রয়েছে। তাঁর ব্যবহৃত ফোনটিও বন্ধ রয়েছে।
খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাবুল আখতার বলেন, এনআইডি জালিয়াতির টাকা – পয়সা নিয়ে একজন নৈশ্যপ্রহরী নিখোঁজের খবর তিনি শুনেছেন। এরসাথে কোনো দলীয় নেতা জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
