মামলাবাজ আলাউদ্দিন সেখ’র যন্ত্রনায় কুমারগাড়া এলাকার অনেক পরিবার
কুষ্টিয়া শহরের গোসালা রোডে বসবাস করেন মস্তক আলীর পুত্র আলাউদ্দিন সেখ (৬৮)। আলাউদ্দিন শেখ এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সে নিজের বিক্রিত জমি এবং অন্যের জমিতে নিজের মালিকানা দাবী করে এবং তাদের বিরদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে দিনের পর পর । নিজের প্রভাব খাটিয়ে নিজের অন্যের বাড়ীর কাজ বন্ধ করে রেখেছেন বলেও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে ।

মামলাবাজ আলাউদ্দিন শেখের যন্ত্রনায় কুমারগাড়া এলাকার অনেক পরিবার
এদিকে অসহায় ঐ পরিবারের অনেকেই দিনের পর দিন ঘোরপাক খাচ্ছে কোর্টের বারান্দায় বারান্দায় । আলাউদ্দিন সেখ’র হয়রানির শিকার অনেকেই কোর্ট থেকে নিজেদের পক্ষ রায় পাওয়ার পরেও নিজেদের জমিতে বাড়ী করতে না পেরে অসহায়ের মত জমির কাগজ নিয়ে বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে । আলাউদ্দিন সেখ এর হয়রানি থেকে বাদ পড়েনি তার আপন ভাই বজলুর ।
কুষ্টিয়া কুমারগাড়া এলাকার নাজিমুদ্দীন শেখ এর কন্যা নাজমুন নাহার লতা (৪৯) পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে বাড়ী করতে গিয়ে আলাউদ্দিন সেখ’র হয়রানির শিকার হয়ে কয়েকদফা ঘুরেছে কোর্টে । কোর্ট থেকে রায় পাওয়ার পরে বাড়ী করতে বাঁধার সন্মুখী হয়ে বন্ধ রেখেছেন বাড়ীর কাজ ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুষ্টিয়া পৌরসভার ২০ নং ওয়ার্ডের কুমারগাড়া মৌজার জিএল – ৩১ এর অধীনে ২২৩ নং দাগে ৪৮ শতক, ২২৪ নং দাগে ৩৮ শতক, ২২৫ নং দাগে ১৩ শতক এবং ২২৬ নং দাগে ২৫ শতক । চার দাগে সর্বমোট ১২৮ শতক জমি । ওয়ারিশদের অংশ মোতাবেক ঐ চার দাগে আলাউদ্দিন সেখ প্রাপ্ত জমি ৩১ শতক । কিন্তু আলাউদ্দিন সেখ প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্যাক্তির নিকট ৪২ দশমিক ৫ শতক জমি বিক্রয় করেছে । যা তার প্রাপ্ত সম্পত্তির চেয়ে ৯ দশমিক ৫ শতক বেশী।
এছাড়াও অন্য শরিকদের জমি নিয়েও দীর্ঘ দিন আলাউদ্দিন সেখ করে আসছে নানান তালবাহানা । গত ১৪ ই মার্চ ২০২৩ ইং তারিখে আলাউদ্দিন সেখ বাদী হয়ে রজলুর, নাজমুন নাহার লতা এবং সাগরিকা পারভীনের নামে কুষ্টিয়ার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন । যাহার মামলা নং – মিস ২২৮/২০২৩ । উল্লেখ্য বজলুর রহমান আলাউদ্দিন সেখ এর আপন ভাই । নাজমুন নাহার লতা এবং সাগরিকা পারভীন আলাউদ্দিন সেখ এর চাচাতো বোন ।
এদিকে মিস কেস ২২৮/২০২৩ মামলার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া দায়রা জজ আদালতে রিভিশন করেনে রজলুর, নাজমুন নাহার লতা এবং সাগরিকা পারভীন । যাহার ফৌজদারী রিভিশন নং – ৫৬/২০২৩ । দায়রা জজ আদালতে রিভিশন এর প্রেক্ষিতে ৩রা মে ২০২৩ ইং তারিখে উক্ত রিভিশনের আলোকে আদেশ দেন কুষ্টিয়া দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রুহুল আমীন । সেই আদেশে বলা হয়, দরখাস্ত মঞ্জুরক্রমে অত্র রিভিশনটি নিষ্পত্তি না হাওয়া পর্যন্ত বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কুষ্টিয়ার মিস কেস নং – ২২৮/২০২৩ (কুষ্টিয়া সদর) এর কর্যক্রম স্থগিত করা হলো ।

সরেজমিনে গিয়ে আরো জানা যায়, আলাউদ্দিন সেখ কুষ্টিয়া কুমারগাড়া এলাকার আরো অন্তত দশ জনের নামের হয়রানি মূলক মামলা করেছেন যাদের প্রত্যেকে আলাউদ্দিন সেখ এর নিকট থেকে জমি ক্রয় করেছিলেন । ২২৫ ও ২২৬ নং দাগ নিয়ে ঠিক তেমনি একটি মামলা ২৭/২৩ । যা বর্তমানে বিজ্ঞ দেওয়ানী আদালতে বিচারাধীন আছে । অথচ এই দুই দাগে নাজমুন নাহার লতা’র কোন জমি নাই । এদিকে আলাউদ্দিন সেখ এই মামলার অযুহাত দেখিয়ে নাজমুন নাহার লতা’কে বাড়ী তৈরি করতে বাঁধা প্রদান সহ নানা রকম হয়রানী করে আসছে ।
এই বিষয়ে নাজমুন নাহার লতা’র সাথে কথা হলে তিনি জানান, আলাউদ্দিন সেখ দীর্ঘ দিন ধরে জমি নিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে । সে যাদের কাছে জমি বিক্রয় করেছে তাদেরকেও মামলা দিয়ে নানা রকম হয়রানি ও প্রতারনা করে আসছে । আলাউদ্দিন সেখ অন্তত দশ জনের নামে জমি সংক্রান্ত মিথ্যা মামলা দিয়েছে । তার কারণে আমি আমার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে বাড়ী করতে পারছি না । বাড়ীর কাজ শুরু করার পর বন্ধ করে রেখেছি। বাড়ী করার জন্য আমি অনেক আগেই রড, ইট, বালি ও সিমেন্ট সহ অনান্য নির্মান সামগ্রী এনে রেখেছি । খোলা জায়গায় ফেলে রাখার কারণে রডে জং ধরে নষ্ট হচ্ছে এবং ইট মাঝে মাঝেই চুরি হয়ে যাচ্ছে ।
সার্বিক বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নাজমুন নাহার লতা ও তার পরিবারের সদস্যরা ।
এদিকে এই বিষয়ে আলাউদ্দিন সেখ এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি । তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ফোন দিলে নাম্বারটি আলাউদ্দিন সেখ এর নয় বলে জানান উত্তর দাতা।
